কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

গর্ভাবস্থায় মহিলাদের জন্য বিশেষ আমল

🌀 প্রশ্ন: প্রেগন্যান্ট অবস্থায় মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট কোন আমল আছে কি?
উত্তর:
প্রেগন্যান্ট অবস্থায় বিশেষ কোন আমল কুরআন-হাদিসে বর্ণিত হয়নি। তবে এ অবস্থায় যথাসম্ভব কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া, জিকির, তাসবীহ, তাহলীল পাঠ করবে এবং বেশি বেশি নেকীর কাজ চেষ্টা করবে এবং সব ধরণের অন্যায়, অশ্লীল এবং গুনাহের কাজ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করবে। এতে আশা করা যায়, গর্ভস্থ সন্তানের ওপর এর প্রভাব পড়বে। আল্লাহু আলাম।
——————
🌀 প্রশ্ন: গর্ভাবস্থায় কুরআন খতম দিলে কি নেক সন্তান লাভ হয়? অথবা কী কী আমল করলে সুসন্তান লাভ করা যায়?
উত্তর:
গর্ভবস্থায় কুরআন খতম দিলে বা অধিক পরিমান কুরআন পাঠ করলে নেক সন্তান লাভ হবে- কুরআন-হাদীসে এমন কোন কথা নেই। তবে এতে সুসন্তান পাওয়ার আশা করা যায়। কুরআনের বরকতে মনের মধ্যে এই আশা ও সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। কিন্তু এটা অপরিহার্য নয়।
কেননা, সন্তান নেককার হবে না কি বদকার হবে তা সম্পূর্ণ আল্লাহর হাতে। তবে সন্তান দুনিয়ায় আগমনের পর পিতা-মাতার পক্ষ থেকে সন্তানকে নেককার বানানোর চেষ্টা থাকা জরুরি। আল্লাহ সে চেষ্টা কবুল করলে সে হেদায়েতের পথে থাকবে; অন্যথায় নয়।

তাই বলব, একজন গর্ভবতী নারী সাধ্যানুযায়ী কুরআন তিলাওয়াত করবেন, যিকির-আযকার, দুয়া ও অন্যান্য নেক আমলের প্রতি যত্নশীল হবেন, গুনাহ থেকে বাঁচবেন এবং মহান আল্লাহর নিকট দুয়া করবেন যেন, আল্লাহ তাকে চক্ষুশীতলকারী সুসন্তান দান করেন।
এমন কি সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পরও ঈমান ও আমলের উপর অবিচল থাকার চেষ্টা করবেন। সেই সাথে সন্তানকে কল্যাণের পথে রাখার জন্য যথাযথ উপায় ও পদ্ধতি অবলম্বন করবেন।
তাহলে আল্লাহ তাআলা যদি কবুল করেন তাহলে তার সন্তান নেককার ও পিতা-মাতার চক্ষুশীতলকারী হবে।
নিশ্চয় একমাত্র আল্লাহই হেদায়েতের মালিক ও তাওফিক দানকারী।
—————-
🌀 প্রশ্ন: আমরা অনেক জায়গায় দেখি, গর্ভবতী মহিলারা গর্ভের ১ম মাসে সুরা আলে ইমরান, ২য় মাসে সুরা ইউসুফ… এ ভাবে আমল করে। এটা কী সঠিক?

উত্তর:
গর্ভাবস্থায় মহিলাদের জন্য বিশেষ কোন আমল কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয়। তাই গর্ভ ধারণের প্রথম মাসে সূরা আলে ইমরান, ২য় মাসে সূরা ইউসুফ এভাবে আমল করা বিদআতের অন্তর্ভূক্ত।
গর্ভাবস্থায় বিশেষ কোন সূরা পাঠ, দুআ পাঠ বা আমল করলে যদি উপকার হত তাহলে নি:সন্দেহে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উম্মতকে স্পষ্টভাবে নির্দেশনা প্রদান করে যেতেন আর সাাহাবীগণ অবশ্যই আমল করতেন। সুতরাং সূফী ও বিদআতীদের তৈরি করা এ সকল বানোয়াট ও ভিত্তিহীন আমল করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। তবে সাধারণ ভাবে যথাসম্ভভ নেককাজ করবে, কুরআন তিলাওয়াত, তাসবীহ, যিকির আযকারের প্রতি যত্নশীল হবে, সালাতে পবন্দ হবে এবং গান-বাজনা, ফিল্ম দেখা ইত্যাদি সকল প্রকার গুনাহ কাজ থেকে দূরে অবস্থান করবে। তাহলে এতে নিজে যেমন উপকৃত হবে তেমনি আল্লাহ চাইলে এটি তার গর্ভস্থ সন্তানের উপর প্রভাব ফেলবে।
আল্লাহু আলাম

উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল-মাদানী
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব

Share This Post