কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

কোনো অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করতে চাইলে তার জন্য কী কী করণীয়?

প্রশ্ন: একজন হিন্দু ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে ইচ্ছুক। তাকে ইসলামে ধর্মে দীক্ষিত করার জন্য কী কী কাজ করতে হবে?

উত্তর:
ইসলাম অত্যন্ত সহজ, সুন্দর ও পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থার নাম। এটি মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলার চূড়ান্ত মনোনীত দ্বীন এবং মানবতার মুক্তির একমাত্র ঠিকানা। ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম বা মতাদর্শ আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। একজন অমুসলিম যখন ইসলামে ছায়াতলে প্রবেশ করে তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর অতীত জীবনের সকল পাপ রাশী মোচন করে তাকে নির্মল, পরিশুদ্ধ ও সম্পূর্ণ নিষ্পাপ মানুষে পরিণত করেন। যেমন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
أَنَّ الإِسْلاَمَ يَهْدِمُ مَا كَانَ قَبْلَهُ
“ইসলাম পূর্ববর্তী সকল পাপ মিটিয়ে দেয়।“ (সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: ঈমান, অনুচ্ছেদ: ইসলাম গ্রহণ এবং হিজরত ও হজ্জ পালনের দ্বারা পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ হয়ে যায়। হা/২২০)

যাহোক, কোনো অমুসলিম যদি ইসলাম গ্রহণ করতে চায় তাহলে তার জন্য সহজ কিছু করণীয় রয়েছে। যেমন:
১) ইসলাম গ্রহণ কারতে ইচ্ছুক ব্যক্তি প্রথমে মনের মধ্যে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর প্রেরিত দূত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস সহকারে সত্য ধর্ম ইসলাম গ্রহণ এবং তা পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
২) অত:পর আরবিতে এই সাক্ষ্য বাণী পাঠ করবে (অথবা কেউ তাকে পাঠ করে শুনাবে আর সে তা শুনে শুনে পাঠ করবে):
“আশহাদু আল্লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ ওয়া আন্না মুহাম্মদার রাসূলুল্লাহ।”
অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নাই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল বা প্রেরিত দূত।
এই ‘সাক্ষ্য বাণী’ উচ্চারণের সাথে সাথে সে মুসলিম হিসেবে গণ্য হবে। একজন ব্যক্তি যদি একাকী তার নিজের ঘরে বসেও এই কালিমা পাঠ করে তাহলেও সে মুসলিম হয়ে যাবে। এ জন্য আলাদা কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই। আর ইসলামে প্রবেশের সাথে সে সম্পূর্ণ নিষ্পাপ ও পূত-পবিত্র মানুষে পরিণত হবে। অর্থাৎ কালিমা পাঠ করার পরপরই যদি সে মারা যায় তাহলে সে সরাসরি জান্নাতে প্রবেশ করবে-সুবহান আল্লাহ!
৩) এরপর গোসল করা উত্তম। কেননা, কালিমা শাহাদাহ উচ্চারণ তথা ঈমান আনয়নের মাধ্যমে অন্তরাত্মা পবিত্র হয় আর গোসলের মাধ্যমে শরীর পবিত্র হয়।
৪) ওযু এবং নামাযের পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করতে হবে এবং যথারীতি পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা শুরু করতে হবে।
৫) তাওহীদ, শিরক, ওযু, গোসল, নামায, যাকাত, রোযা, হজ ইত্যাদি ইসলামের মৌলিক বিষয়াদি সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করতে হবে।
৬) ইসলাম গ্রহণকারী ব্যক্তির নাম যদি ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক হয় তাহলে তা পরিবর্তন করে একটি সুন্দর অর্থবোধক ইসলামী নাম গ্রহণ হবে।
৭) এবং ইসলাম গ্রহণকারী ব্যক্তি পুরুষ হলে সময় সাপেক্ষে তার খতনার ব্যবস্থা করতে হবে। (এটি অধিক অগ্রাধিকারযোগ্য মতানুসারে সুন্নতে মুআক্কাদা)
৮) মুসলিমদের উচিৎ, নব দীক্ষিত মুসলিম ভাইকে স্বাগত জানানো এবং তার সাথে সুন্দর আচরণ করা। তৎসঙ্গে সে যদি আর্থিক সমস্যায় থাকে তাহলে বা আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতার মাধ্যমে সমস্যা লাঘবের চেষ্টা করা নি:সন্দেহে উত্তম কাজ।
আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমীন।

উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল,
লিসান্স, মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সউদী আরব।।

Share This Post