কুরআন খতম কয় জনের নামে দেওয়া যায়?

প্রশ্ন: প্রশ্ন: কুরআন খতম কয় জনের নামে দেওয়া যায়?
উত্তর:
কুরআন খতম কারও নামে দেওয়া জায়েজ নাই (চাই সে জীবিত হোক বা মৃত হোক)।
আমাদের সমাজে প্রচলিত রীতিতে কয়েকজন হাফেজ বা কারী সম্মিলিতভাবে কুরআন খতম বা শবিনা খতম করে তার সওয়াব কোনও মৃতের নামে বখশায় (সওয়াব রেসানি বা ঈসালে সওয়াব)। অথচ এটি সম্পূর্ণ বিদআত ও দলিল বহির্ভূত প্রথা। বরং হাফেজ সাহেবদের মাধ্যমে আর্থিক চুক্তি ভিত্তিক কুরআন খতম করানো আল্লাহর কালামের সাথে চরম ধৃষ্টতার শামিল। এর মাধ্যমে উপার্জিত অর্থও হারাম।

সঠিক কথা হল, যে ব্যক্তি তিলাওয়াত করবে, কুরআন খতম করবে (প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়বে) ইনশাআল্লাহ সে সওয়াব পাবে আল্লাহ যদি কবুল করেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا لَا أَقُولُ الم حَرْفٌ وَلَكِنْ أَلِفٌ حَرْفٌ وَلَامٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ»

‘‘যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ পাঠ করে, তাকে একটি নেকি প্রদান করা হয়। প্রতিটি নেকি দশটি নেকির সমান। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ, মীম একটি হরফ।’’ [সুনান আত-তিরমিযি/সহিহ]

কিন্তু সওয়াব অন্যকে দান করার বস্তু নয়। এটা পকেটের টাকা বা কোন ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য কোনও বস্তু নয় যে, ইচ্ছামত কাউকে দেয়া যায়। সুতরাং ‘কুরআন খতম কয় জনের নামে দেওয়া যায়’ এ প্রশ্ন অবান্তর।

◯ আমাদের কর্তব্য:

আমাদের কর্তব্য, সওয়াব অর্জন এবং কুরআন থেকে শিক্ষা নেয়ার উদ্দেশ্যে যথাসম্ভব বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করার পাশাপাশি তার তরজমা ও তাফসির জানার চেষ্টা করা।

◈ আল্লাহ তাআলা বলেন,

أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَىٰ قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا

“তারা কি কুরআন সম্পর্কে গভীর চিন্তা করে না? না তাদের অন্তর তালাবন্ধ?” [সূরা মুহাম্মদ: ২৪]

◈ প্রখ্যাত সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রা. বলেন,

كُنَّا لَا نَتَجَاوَزُ عَـشْرَ آيَاتٍ حَتَّى نَتَعَلَّمَهُنَّ وَنَعْمَلَ بِهِنَّ، وَنُعَلِّمَهُنَّ، وَنَعْلَمَ حَلَالَهُنَّ وَحَرَامَهُنَّ، فَأُوتِينَا العِلْمَ وَالعَمَلَ

“আমরা দশ আয়াত অতিক্রম করতাম না যতক্ষণ না সেগুলো শিখে আমল করতাম এবং সেগুলোর হালাল-হারাম জানতাম। ফলে আমরা ইলম ও আমল দুটাই পেয়েছিলাম।” [সহিহুত তারগিব-আলবানি]

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে কুরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি কুরআনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ জেনে বাস্তব জীবনে আমল করার তাওফিক দান করুন এবং সব ধরণের বিদআতি কার্যক্রম থেকে রক্ষা করুন। আমিন। আল্লাহু আলাম।
————-
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব
উত্তর:
কুরআন খতম কারও নামে দেওয়া জায়েজ নাই (চাই সে জীবিত হোক বা মৃত হোক)।
আমাদের সমাজে প্রচলিত রীতিতে কয়েকজন হাফেজ বা কারী সম্মিলিতভাবে কুরআন খতম বা শবিনা খতম করে তার সওয়াব কোনও মৃতের নামে বখশায় (সওয়াব রেসানি বা ঈসালে সওয়াব)। অথচ এটি সম্পূর্ণ বিদআত ও দলিল বহির্ভূত প্রথা। বরং হাফেজ সাহেবদের মাধ্যমে আর্থিক চুক্তি ভিত্তিক কুরআন খতম করানো আল্লাহর কালামের সাথে চরম ধৃষ্টতার শামিল। এর মাধ্যমে উপার্জিত অর্থও হারাম।

সঠিক কথা হল, যে ব্যক্তি তিলাওয়াত করবে, কুরআন খতম করবে (প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়বে) ইনশাআল্লাহ সে সওয়াব পাবে আল্লাহ যদি কবুল করেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا لَا أَقُولُ الم حَرْفٌ وَلَكِنْ أَلِفٌ حَرْفٌ وَلَامٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ»

‘‘যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ পাঠ করে, তাকে একটি নেকি প্রদান করা হয়। প্রতিটি নেকি দশটি নেকির সমান। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ, মীম একটি হরফ।’’ [সুনান আত-তিরমিযি/সহিহ]

কিন্তু সওয়াব অন্যকে দান করার বস্তু নয়। এটা পকেটের টাকা বা কোন ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য কোনও বস্তু নয় যে, ইচ্ছামত কাউকে দেয়া যায়। সুতরাং ‘কুরআন খতম কয় জনের নামে দেওয়া যায়’ এ প্রশ্ন অবান্তর।

◯ আমাদের কর্তব্য:

আমাদের কর্তব্য, সওয়াব অর্জন এবং কুরআন থেকে শিক্ষা নেয়ার উদ্দেশ্যে যথাসম্ভব বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করার পাশাপাশি তার তরজমা ও তাফসির জানার চেষ্টা করা।

◈ আল্লাহ তাআলা বলেন,

أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَىٰ قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا

“তারা কি কুরআন সম্পর্কে গভীর চিন্তা করে না? না তাদের অন্তর তালাবন্ধ?” [সূরা মুহাম্মদ: ২৪]

◈ প্রখ্যাত সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রা. বলেন,

كُنَّا لَا نَتَجَاوَزُ عَـشْرَ آيَاتٍ حَتَّى نَتَعَلَّمَهُنَّ وَنَعْمَلَ بِهِنَّ، وَنُعَلِّمَهُنَّ، وَنَعْلَمَ حَلَالَهُنَّ وَحَرَامَهُنَّ، فَأُوتِينَا العِلْمَ وَالعَمَلَ

“আমরা দশ আয়াত অতিক্রম করতাম না যতক্ষণ না সেগুলো শিখে আমল করতাম এবং সেগুলোর হালাল-হারাম জানতাম। ফলে আমরা ইলম ও আমল দুটাই পেয়েছিলাম।” [সহিহুত তারগিব-আলবানি]

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে কুরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি কুরআনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ জেনে বাস্তব জীবনে আমল করার তাওফিক দান করুন এবং সব ধরণের বিদআতি কার্যক্রম থেকে রক্ষা করুন। আমিন। আল্লাহু আলাম।
————-
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

Share On Social Media