কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

ঈদের দিন কোলাকুলি করার বিধান

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা মহান আল্লাহ’র জন্য। দয়া ও শান্তি অবতীর্ণ হোক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি।

ঈদের দিন কোলাকুলি করার বিধান সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানিনা। যে কারণে এই সংশয়ে পতিত হই যে, এটা বৈধ না কি অবৈধ। তাই এ ব্যাপারে যুগশ্রেষ্ঠ ৩ জন ‘আলিমের ফাতওয়া অনুবাদ করে পেশ করলাম। আর আল্লাহই তাওফীক্বদাতা।

·
🚩সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতী যুগশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ ও মুহাদ্দিস শাইখুল ইসলাম ইমাম ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.] বলেছেন,

ﻣﺎ ﻧﻌﻠﻢ ﻓﻲ ﺍﻟﺘﻌﺎﻧﻖ ﺃﺻﻼ ﺇﻻ ﻋﺎﺩﺓ ﺟﺮﻯ ﻋﻠﻴﻬﺎ ﺍﻟﻨﺎﺱ، ﺇﻧﻤﺎ ﺍﻟﻤﺴﻨﻮﻥ ﺍﻟﺪﻋﺎﺀ ﺑﺎﻟﻘﺒﻮﻝ ﺇﺫﺍ ﻗﺎﺑﻞ ﺃﺧﺎﻩ ﻭﺩﻋﺎ ﻟﻪ ﺑﺎﻟﻘﺒﻮﻝ ﻓﻬﺬﺍ ﻣﻦ ﻓﻌﻞ ﺍﻟﺴﻠﻒ، ﺃﻣﺎ ﺍﻟﻤﻌﺎﻧﻘﺔ ﻷﺟﻞ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺨﺼﻮﺹ ﻻ ﺃﻋﻠﻢ ﻟﻬﺎ ﺃﺻﻼً ﺇﻧﻤﺎ ﻫﻲ ﻋﺎﺩﺓ ﻟﻠﻨﺎﺱ. ﻓﺎﻷﻓﻀﻞ ﺍﻟﻤﺼﺎﻓﺤﺔ ﻭﻳﻜﺘﻔﻰ ﺑﻬﺎ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﻠﻘﺎﺀ، ﻳﺼﺎﻓﺢ ﺃﺧﺎﻩ ﻭﻳﻘﻮﻝ ﻟﻪ : ﻫﻨﺄﻙ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻬﺬﺍ ﺍﻟﻌﻴﺪ، ﺑﺎﺭﻙ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻚ ﻓﻲ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻌﻴﺪ، ﺃﻭ ﺗﻘﺒﻞ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﻨﺎ ﻭﻣﻨﻚ ﻭﻣﺎ ﺃﺷﺒﻪ ﺫﻟﻚ ﻻ ﺑﺄﺱ ﺑﻪ.

“লোকদের মধ্যে প্রচলিত প্রথা ছাড়া কোলাকুলির কোনো ভিত্তি আছে বলে আমরা জানি না। এক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি হলো, (ইবাদত) কবুল হওয়ার দু‘আ করা। যখন সে তার ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন তার জন্য (ইবাদত) কবুলের দু‘আ করবে। এটা সালাফদের কর্ম। পক্ষান্তরে এ উপলক্ষে কোলাকুলি করার ভিত্তি আমি জানি না। এটি লোকদের আচার বা প্রথা মাত্র। সবচেয়ে উত্তম হলো, সাক্ষাতে শুধু করমর্দন করা এবং এটাতেই ক্ষান্ত হওয়া। সে তার ভাইয়ের সাথে করমর্দন করবে এবং তাকে বলবে, ‘হান্নাআকাল্লাহু বি হাযাল ঈদ (আল্লাহ তোমাকে এই ঈদের মাধ্যমে খুশি করুন)’, ‘বারাকাল্লাহু লাকা ফী হাযাল ঈদ (আল্লাহ তোমাকে এই ঈদে বরকত দিন)’ অথবা ‘তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা (আল্লাহ তোমার ও আমার পক্ষ থেকে এই ঈদ কবুল করুন)’; কিংবা অনুরূপ কিছু বলবে। এতে কোনো অসুবিধা নাই।” [দ্র.: binbaz.org.sa/fatwas/1533/حكم-المعانقة-في-الاعياد.]

·
🚩সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সাবেক সদস্য, বিগত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফাক্বীহ ও উসূলবিদ আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] প্রদত্ত ফাতওয়া—

السؤال: ﻣﺎ ﺣﻜﻢ ﺍﻟﻤﺼﺎﻓﺤﺔ، ﻭﺍﻟﻤﻌﺎﻧﻘﺔ ﻭﺍﻟﺘﻬﻨﺌﺔ ﺑﻌﺪ ﺻﻼﺓ ﺍﻟﻌﻴﺪ؟
الجواب: ﻫﺬﻩ ﺍﻷﺷﻴﺎﺀ ﻻ ﺑﺄﺱ ﺑﻬﺎ؛ ﻷﻥ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻻ ﻳﺘﺨﺬﻭﻧﻬﺎ ﻋﻠﻰ ﺳﺒﻴﻞ ﺍﻟﺘﻌﺒﺪ ﻭﺍﻟﺘﻘﺮﺏ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ، ﻭﺇﻧﻤﺎ ﻳﺘﺨﺬﻭﻧﻬﺎ ﻋﻠﻰ ﺳﺒﻴﻞ ﺍﻟﻌﺎﺩﺓ، ﻭﺍﻹﻛﺮﺍﻡ ﻭﺍﻻﺣﺘﺮﺍﻡ، ﻭﻣﺎﺩﺍﻣﺖ ﻋﺎﺩﺓ ﻟﻢ ﻳﺮﺩ ﺍﻟﺸﺮﻉ ﺑﺎﻟﻨﻬﻲ ﻋﻨﻬﺎ ﻓﺈﻥ ﺍﻷﺻﻞ ﻓﻴﻬﺎ ﺍﻹﺑﺎﺣﺔ ﻛﻤﺎ ﻗﻴﻞ : ﻭﺍﻷﺻﻞ ﻓﻲ ﺍﻷﺷﻴﺎﺀ ﺣﻞ، ﻭﻣﻨﻊ ﻋﺒﺎﺩﺓ ﺇﻻ ﺑﺈﺫﻥ ﺍﻟﺸﺎﺭﻉ.

প্রশ্ন: “ঈদের নামাজের পর করমর্দন, কোলাকুলি এবং মুবারকবাদ জানানোর বিধান কী?”

উত্তর: “এগুলো করায় কোনো সমস্যা নেই। কেননা লোকেরা এগুলো ইবাদত বা আল্লাহ’র নৈকট্য অর্জনের জন্য করে না। বরং তারা এগুলো দেশাচারমূলক প্রথা হিসেবে করে এবং একে অপরকে সম্মান ও মর্যাদা প্রদানের জন্য করে। যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো আচার বা প্রথার ব্যাপারে শরিয়তের নিষেধাজ্ঞা সাব্যস্ত হচ্ছে না, ততক্ষণ পর্যন্ত তার মৌলিক মান হলো বৈধতা। যেমন বলা হয়—‘সকল (প্রথাগত) বিষয়ের মৌলিক মান হলো বৈধতা, আর শরিয়তপ্রণেতার অনুমতি ছাড়া সকল ইবাদতের মৌলিক মান হলো নিষিদ্ধতা’।” [ইমাম ইবনু ‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ), মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল; খণ্ড: ১৬; পৃষ্ঠা: ২০৯; দারুস সুরাইয়্যা, রিয়াদ কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪২৩ হি./২০০২ খ্রি. (১ম প্রকাশ)]

·
🚩মাদীনাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক আচার্য, বর্তমান যুগের শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ ইমাম ‘আব্দুল মুহসিন আল-‘আব্বাদ আল-বাদর (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫৩ হি./১৯৩৪ খ্রি.] প্রদত্ত ফাতওয়া—

السؤال: الآن عندنا في المنا سبات وفي أيام الأعياد يعني يتعانق الناس؟
الجواب: والله الذي يبدو لي بأن هذه تشبه المجيء من السفر الذي كانوا يتعانقون فيه كونهم في الفرح والسرور فلا بأس في ذالك, مثل أيضا لو إنسان عنده زواج فرح بالزواج كونه يعني يهنأ ويعانق كل هذا فيه السرور مثل الفرح بالمسافر والفرح بالزواج والفرح بالعيد نعم.

প্রশ্ন: “বর্তমানে আমাদের এখানে বিভিন্ন উপলক্ষে এবং ঈদের দিনগুলোতে লোকেরা একে অপরের সাথে কোলাকুলি করে।”

উত্তর: “আল্লাহ’র কসম, আমার কাছে এটা প্রতীয়মান হয়েছে যে, এটা সফর থেকে প্রত্যাবর্তনকারী ব্যক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার সাথে লোকেরা কোলাকুলি করে থাকে। আর তারা তা খুশি ও আনন্দের উপস্থিতির কারণে করে। সুতরাং এ কাজে কোনো ক্ষতি নেই। উদাহরণস্বরূপ কোনো ব্যক্তির যদি বিবাহ উপস্থিত হয়, আর সে তার বিয়েতে আনন্দিত হয়, ফলে সে অপরকে শুভেচ্ছা জানায় এবং কোলাকুলি করে। এগুলোর (উল্লিখিত প্রকারগুলোর) প্রত্যেকটিতেই খুশি ও আনন্দ রয়েছে। যেমন: সফর থেকে প্রত্যাবর্তনকারী ব্যক্তিকে নিয়ে খুশি হওয়া, বিয়েতে খুশি হওয়া এবং ঈদে খুশি হওয়া।” [দ্র.: www.sahab.net/forums/index.php?app=forums&module=forums&controller=topic&id=113715.]

·
✅✅✅ উপরিউক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হলো যে, ঈদের দিন কোলাকুলি করা প্রথাগত বিষয় হওয়ার কারণে তা করায় কোনো সমস্যা নেই, এটি একটি বৈধ বিষয়। আর আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।

·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

তবে এটা কে কেউ সুন্নত বা শরিয়াতের বিধান বা অংশ মনে করে করলে তা বিদআত বলে গণ্য হবে

Share This Post