ইসলামের দৃষ্টিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এবং ভোট

প্রশ্ন: এলাকায় এখন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রচার ও প্রচারণা চলছে। এখন আমাদের কিছু দীনী ভাই কেউ তার পছন্দের মেম্বার-চেয়ারম্যানের পক্ষে প্রচারণায় লিপ্ত। কিছু ভাই মহিলা মেম্বরের প্রচার-প্রচারণা করছে। এ ক্ষেত্রে তাদেরকে কীভাবে নসিহত করা যায়?
উত্তর:
আমি মনে করি, দ্বীনদার ভাইদের উচিত নয়, এসব গণতান্ত্রিক নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় লিপ্ত হওয়া বা এজন্যে সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করা। কারণ মূলত: জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের এই পদ্ধতি ইসলাম সম্মত নয়। এ পদ্ধতিতে মাথার মূল্য আছে কিন্তু মাথার ঘিলুর মূল্য নাই। এখানে একজন সুশিক্ষিত, সচেতন, প্রজ্ঞাবান, মেধাবী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তির মতামতের মূল্য আধপাগল, নির্বোধ, অশিক্ষিত, অসচেতন ও নিকৃষ্ট মানুষের মতামতের সমান। সুতরাং তা যে নির্বোধদের পদ্ধতি তাতে কোনও সন্দেহ নাই।

কিন্তু আমরা কঠিন বাস্তবতার শিকার। কারণ আমাদের দেশে এ ছাড়া জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের বিকল্প কোনও পদ্ধতি চালু নাই। সে কারণে এলাকার রাস্তাঘাট, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ, এলাকার বিভিন্ন সমস্যার সমাধান এবং সরকারের বিভিন্ন সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশ্যে যারা নির্বাচনে প্রার্থী হয় তাদের মধ্য থেকে তুলনা মূলক সৎ, যোগ্য, চরিত্রবান এবং যার মাধ্যমে এসব সেবা পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায় এমন প্রার্থীকে ভোট দেওয়া জায়েজ আছে ইনশাআল্লাহ।

যদিও নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ইসলাম সমর্থন করে না তবুও বড় ক্ষতি থেকে বাঁচার স্বার্থে ছোট ক্ষতিকে মেনে নেয়া (أخف الضررين) বা ‘মন্দের ভালো’ এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে অনেক আলেম এটিকে জায়েজ বলেছেন-যত দিন না এলাকার গণ্যমান্য ও জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিদের শুরা বা পরামর্শ ভিত্তিক যোগ্য ব্যক্তি নির্বাচনের পদ্ধতি চালু হয়।

এ পরিস্থিতিতে আপনি ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকলে হয়ত কোনও কাফের, নাস্তিক, সন্ত্রাসী বা এলাকার নিকৃষ্ট মানুষের হাতে এই দায়িত্ব চলে যেতে পারে‌। তখন এলাকায় ইসলাম এবং ইসলাম প্রিয় মানুষদের অনেক ক্ষতি হওয়ার এবং সমাজে দুর্নীতি, অন্যায়-অপকর্ম ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শাইখ আলবানি রাহ. বলেন,
إذا وقع المسلم بين شرّين اختار أقلهما شرًا لاشك أن وجود رئيس بلدية مسلم هو بلا شك أقل شرًا ولا أقول خير من وجود رئيس بلدية كافر أو ملحد
“একজন মুসলিম যদি দুটি মন্দের মধ্যে পড়ে, তবে সে দুটি মন্দের মধ্যে ছোটটি বেছে নিবে। একজন মুসলিম মেয়র থাকা নিঃসন্দেহে একজন কাফের বা নাস্তিক মেয়রের চেয়ে কম মন্দের-বলব না যে, বেশি ভালো।” [source: al-albany]
তিনি আরও বলেন,
من باب دفع الشر الأكبر بالشر الأصغر مش لأنه خير
“এটা মূলত: বড় ক্ষতিকে ছোট ক্ষতি দ্বারা প্রতিহতের অন্তর্ভুক্ত; এ জন্য নয় যে, এটা উত্তম।” [source: al-albany] যদিও এ বিষয়ে অন্য আলেমের ভিন্ন মত আছে।

আর মূলত এই সব মেম্বার-চেয়ারম্যানরা রাষ্ট্র পরিচালনায় আইন তৈরি বা নীতি নির্ধারণে কোন ভূমিকা থাকে না। বরং এদেরকে স্থানীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও এলাকাবাসীর বিভিন্ন প্রয়োজন পূরণের জন্য নির্বাচন করা হয়ে থাকে। এটা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় হালকা।

প্রশ্ন: ভোট উপলক্ষে প্রার্থী যদি কিছু খেতে দিতে চাই তা কি খাওয়া জায়েজ হবে? (ভোট দিবে এই প্রতিশ্রুতি জনগণ দিচ্ছে না তবুও প্রার্থী খাওয়াচ্ছেন)
উত্তর:
কেউ যদি আপনাকে স্বেচ্ছায় বিনা শর্তে কোন হালাল খাবার দেয় তাহলে ইনশাআল্লাহ তা খেতে কোন অসুবিধা নেই যদিও তা কোন ভোট প্রার্থীর পক্ষ থেকে হয়।
তবে যদি এই খাবারের বিনিময়ে এমন কোন শর্ত আরোপ করে যা শরীয়ত সিদ্ধ নয় তাহলে তা খাওয়া যাবে না।
আল্লাহু আলাম।

❖❖❖❖❖❖❖❖
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।।