আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম তাবারকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম

প্রশ্ন: “আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম তাবারকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম” এই দুআটি কখন পাঠ‌ করতে হয়? এবং তা পাঠের মর্যাদা ও উপকারিতা কী?
▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬

উত্তর: হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
عن ثوبان رضي الله عنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا انصرف من صلاته استغفر ثلاثا وقال اللهم أنت السلام ومنك السلام تباركت يا ذالجلال والإكرام. قيل للأوزاعي وهو أحد رواة الحديث كيف الاستغفار؟ قال : يقول : أستغفر الله، أستغفر الله، أستغفر الله. رواه مسلم
প্রখ্যাত সাহাবি সাওবান রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাত শেষ করতেন (অর্থাৎ সালাম ফেরাতেন) তখন তিনবার পাঠ করতেন, আসতাগফিরুল্লাহ।
(অর্থ: আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি)।
অত:পর পাঠ করতেন:
اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ
“আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম, ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারকতা ইয়াযাল জালালি ওয়াল ইকরাম।”
(অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি শান্তি দাতা। শান্তি অবতীর্ণ হয় আপনার পক্ষ থেকেই। আপনি মহত্ব ও মর্যাদার অধিকারী)।
বর্ণনাকারী আউযায়ীকে প্রশ্ন করা হলো, কীভাবে ইস্তিগফার পাঠ করতে হয়? তিনি বললেন, (এভাবে বলবে), “আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ আস্তাগফিরুল্লাহ।” [সহিহ মুসলিম, হা/ ১৩৬২]

🔸এই দুআ পাঠের উপকারিতা:

▪️১. হাদিসের ভাষা থেকে এটা স্পষ্ট যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করার পর তিনবার ইস্তিগফার, অতঃপর উপরোক্ত দুআটি নিয়মিত পাঠ করতেন।
এ হাদিসের প্রতি আমল করলে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসরণ এবং তাঁর একটি সুন্নতের উপর আমল করা হয়। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ এবং সুন্নাতের উপর আমল করা আল্লাহর ভালোবাসা, ক্ষমা এবং নৈকট্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায়।
▪️২. আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নতের উপরে আমল করা তাঁর প্রতি আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ
এবং গভীর ভালোবাসার প্রমাণ। এই ভালোবাসা জান্নাতে প্রবেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায়।
▪️৩. এটি আল্লাহর মর্যাদার স্বীকৃতি জ্ঞাপক ও স্তুতি মূলক বাক্য। যার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি।
▪️৪. সালাতের পরে তিনবার আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার পর এই দুআটি পড়লে আশা করা যায়, মহান আল্লাহ আমাদের গুনাহগুলো মোচন করবেন। পাশাপাশি, আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জীবনে সুখ, শান্তি, দয়া ও বরকতের ফল্গুধারা নেমে আসবে। কারণ আল্লাহর একটি নাম হল, “আস সালাম” (শান্তি দাতা)। আর তার পক্ষ থেকেই শান্তি অবতীর্ণ হয়।
▪️৫. যেকোনো দুআ ও জিকির পাঠের মাধ্যমে মুখ ও জিহ্বাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজে ব্যবহার করা হয়। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
لَا يَزَالُ لِسَانُكَ رَطْبًا بِذكر اللَّهِ
“তোমার জিহবা যেন সর্বদা আল্লাহর জিকির দ্বারা তরতাজা থাকে।” [সহীহ, তিরমিযী, হা/ ৩৩৭৫, ইবনে মাজাহ, হা/ ৩৭৯৩]
▪️৬. আল্লাহর জিকির অন্তরে প্রশান্তি সৃষ্টি করে। ‌ আল্লাহ তাআলা বলেন,
أَلَا بِذِكۡرِ ٱللَّهِ تَطۡمَىِٕنُّ ٱلۡقُلُوبُ
“জেনে রাখ, আল্লাহর স্মরণেই মন প্রশান্ত হয়।” [সূরা রাদ: ২৮]।
– উল্লেখ্য যে, এ হাদিসে ফরজ সালাত শেষে তিনবার আস্তাগফিরুল্লাহ পাঠ করার বিষয়টি খুবই স্পষ্ট (একবার আল্লাহু আকবার পড়ার হাদিসের তুলনায়)। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

Share: