আর্থিক নিরাপত্তার স্বার্থে সুদি ব্যাংকে টাকা জমা রাখা

প্রশ্ন: আর্থিক নিরাপত্তার স্বার্থে সুদি ব্যাংকে টাকা জমা রাখা যাবে কি?▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: যদি সুদ মুক্ত ইসলামি ব্যাংক না পাওয়া যায় এবং অর্থ নিজ হেফাজতে রাখাও ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয় তখন নিরাপত্তার স্বার্থে নিরুপায় হয়ে সুদি ব্যাংকে টাকা রাখা বৈধ হবে কিন্তু তাদের দেওয়া সুদ নিজে ভক্ষণ করা যাবে না। বরং তাদের নিকট থেকে মূলধন ও সুদ উভয়টি তুলে নিয়ে সুদে প্রাপ্ত অতিরিক্ত অর্থ সওয়াবের নিয়ত না করে কোন গরীব মানুষকে দান করে দিতে হবে বা কোন জনকল্যাণ মূলক কাজ ব্যায় করে দিতে হবে। সুদের টাকা তাদের নিকট ছেড়ে দেয়া যাবে না। অন্যথায় তারা তা দ্বারা সুদী কার্যক্রম আরও জোরালো ভাবে চালিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যায় করবে। আল্লাহ ক্ষমা করুন। আমিন।

◈ শাইখ ইবনে বায রাহ.কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, ব্যক্তির নিকট কিছু টাকা আছে তা আমানত হিসাবে সংরক্ষণ করার নিয়তে একটি ব্যাংকে রেখেছে এবং এক বছর অতিবাহিত হয়ে গেলে তার উপর যাকাতও দেয়। এটা কি জায়েজ নাকি না?

لا يجوز التأمين في البنوك الربوية ولو لم يأخذ فائدة ؛ لما في ذلك من إعانتها على الإثم والعدوان ، والله سبحانه قد نهى عن ذلك ، لكن إن اضطر إلى ذلك ولم يجد ما يحفظ ماله فيه سوى البنوك الربوية ، فلا حرج إن شاء الله ؛ للضرورة ، والله سبحانه يقول : ( وَقَدْ فَصَّلَ لَكُمْ مَا حَرَّمَ عَلَيْكُمْ إِلَّا مَا اضْطُرِرْتُمْ إِلَيْهِ ) ومتى وجد بنكا إسلاميا أو محلا أمينا ليس فيه تعاون على الإثم والعدوان يودع ماله فيه ، لم يجز له الإيداع في البنك الربوي
“সুদ না নিলেও সুদ ভিত্তিক ব্যাংকে অর্থ আমানত রাখা জায়েজ নয়। কারণ এটি ব্যাংককে পাপ ও সীমালঙ্ঘনে কাজে সাহায্য সাহায্যের অন্তর্ভুক্ত অথচ মহান আল্লাহ তা নিষেধ করেছেন। [সূরা মায়িদা: ২] কিন্তু যদি সে তা করতে নিরুপায় হয় এবং সুদ ভিত্তিক ব্যাংক ছাড়া অর্থ সংরক্ষণ করার জন্য (বিকল্প) কিছু না পায় তবে তাতে কোনও সমস্যা নেই ইনশাআল্লাহ। মহান আল্লাহ বলেন,

وَقَدْ فَصَّلَ لَكُم مَّا حَرَّمَ عَلَيْكُمْ إِلَّا مَا اضْطُرِرْتُمْ إِلَيْهِ

“আর আল্লাহ যা তোমাদের জন্য যেগুলো হারাম করেছেন তিনি সেগুলোর বিশদ বিবরণ দিয়েছেন কিন্তু (সেগুলোও তোমাদের জন্যে হালাল), যখন তোমরা নিরুপায় হয়ে যাও।” [সূরা আনআম: ১১৯] তবে যখনই সে কোন ইসলামি ব্যাংক বা বিশ্বস্ত জায়গা পায় যেখানে পাপ ও সীমালঙ্ঘনে কোন সহযোগিতা নেই তখন সে সেখানে তার অর্থ জমা রাখবে। এ ক্ষেত্রে তার জন্য সুদ ভিত্তিক ব্যাংকে অর্থ জমা রাখা জায়েজ হবে না।” [ফাতাওয়া শাইখ ইবনে বায-১৯/৪১৪]

❑ প্রশ্ন: সুদে প্রাপ্ত টাকা কী করা উচিৎ?

প্রশ্ন: সুদের টাকা নিজে ব্যবহার না করে কোন কোন আত্মীয়-স্বজন বা অন্য কোন ব্যক্তিকে দেওয়া যাবে কি? আসলে সুদের টাকাগুলো কী করতে হবে দয়া করে জানাবেন।
উত্তর: সুদি ব্যাংকে টাকা জমা রাখা বা তাদরে সাথে লেনদেন করা বৈধ নয়। কারণ এতে হারাম কাজে সহায়তা করা হয়। আল্লাহ তাআলা কুরআনে হারাম ও সীমালঙ্ঘনের কাজে পরস্পর সহায়তা করতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ۚ
“সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না।” [সূরা মায়িদা: ২]
তবে কোন ব্যক্তি যদি দ্বীন না বুঝার কারণে সুদী ব্যাংকে টাকা জমা রাখে তাহলে দ্বীনের জ্ঞান আসার সাথে সাথে সেখান থেকে গচ্ছিত অর্থ সুদ সহ উঠিয়ে নিবে। সুদের অর্থটা ব্যাংকের কাছেই রেখে দিবে না। কেননা, সম্ভাবনা আছে, তারা এই অর্থ দ্বারা তাদের সুদী কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করবে। বরং সুদে প্রাপ্ত টাকাটা সওয়াবের নিয়ত না করে যে কান জনকল্যাণ মূলক কাজে খরচ করে দিবে বা গরীব-দু:খীদের মাঝে বণ্টন করে দিবে। সেই সাথে অতীত কর্মের জন্য আল্লাহর নিকট তওবা করবে। তাহলে আশা করা যায় মহান আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন ইনশাআল্লাহ। আল্লাহু আলাম
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

Share On Social Media