রমজানের শেষ দশকে স্ত্রী সহবাস সম্পর্কে শরিয়তের বিধান:
রমজানের শেষ দশকের ইবাদত এবং এই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের বিষয়ে শরীয়তের বিধান অত্যন্ত স্পষ্ট। নিম্নে এ বিষয়ে আলোকপাত করা হলো:
রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে (লাইলাতুল কদরের অধিক সম্ভাব্য রাত) স্ত্রী সহবাস করা জায়েজ বা বৈধ। তবে এর সাথে কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত ও ব্যতিক্রম রয়েছে যা আমাদের জেনে রাখা জরুরি।
ইফতারের পর থেকে শুরু করে সুবহে সাদিক (ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়া) পর্যন্ত সময়ের মধ্যে স্ত্রীর সাথে মিলিত হওয়া বৈধ। এটি রমজানের প্রথম দিনের রাত হোক বা শেষ দশকের বেজোড় রাত—সবার জন্যই প্রযোজ্য।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন:
أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَىٰ نِسَائِكُمْ
“রোজার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে।”
[সুরা বাকারা: ১৮৭]
ক. রমজানের ফজর থেকে মাগরিব পর্যন্ত রোজা থাকা অবস্থায় সহবাস করা সম্পূর্ণ হারাম। এতে রোজা ভেঙে যায় এবং তওবার পাশাপাশি ‘কাফফারা’ ওয়াজিব হয়।
খ. কেউ যদি মসজিদে ইতিকাফে থাকে তবে তার জন্য দিনের বেলা বা রাত—কোনো সময়ই স্ত্রী সহবাস করা জায়েজ নয়।
মহান আল্লাহ বলেন,
وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنْتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ
“আর তোমরা যখন মসজিদে ইতিকাফ অবস্থায় থাকো তখন স্ত্রীদের সাথে সহবাস করো না।” [সুরা বাকারা: ১৮৭]
গ. কেউ যদি মক্কায় ওমরার জন্য আসে তাহলে ইহরাম অবস্থায় (আমরা কার্যক্রম শেষ হওয়া পর্যন্ত) স্বামী-স্ত্রীর মিলন হারাম।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রমজানের শেষ দশকে রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইবাদতের জন্য কোমর বেঁধে নামতেন এবং রাত জেগে ইবাদত করতেন।
(হাদিসে উল্লেখিত এই কোমর বাঁধার অর্থ কোন কোন আলেম বলেছেন, স্ত্রী সহবাস থেকে দূরে থাকা।)
তাই লাইলাতুল কদর পাওয়ার আশায় এই রাতগুলোতে সহবাসে লিপ্ত না হয়ে যথাসাধ্য কিয়ামুল লাইল, দুআ, জিকির, তিলাওয়াতুল কুরআন ইত্যাদি ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকা উত্তম ও ফজিলতপূর্ণ। তবে কেউ যদি একান্ত প্রয়োজনে মিলিত হয় তবে সে গুনাহগার হবে না। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।