সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সঙ্গী-সাথীদের ওপর। অতঃপর━যে ব্যক্তি চেয়ারে বসে সালাত আদায় করেন তাকে সালাতের কাতার সোজা ও সুসংগত রাখার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে, যেন অন্য মুসল্লিদের কষ্ট না হয়। যদি তিনি কাতার সমান রাখতে পুরোপুরি সক্ষম না হন তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। কারণ তিনি অক্ষম হিসেবে ওজরগ্রস্ত।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ
“তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় করো।” [আত-তাগাবুন: ১৬]
তিনি আরও বলেন:
لاَ يُكَلِّفُ اللّهُ نَفْسًا إِلاَّ وُسْعَهَا
“আল্লাহ কারো ওপর তার সাধ্যের বাইরে কোনো বোঝা চাপিয়ে দেন না।” [বাকারা: ২৮৬]
চেয়ার এমনভাবে রাখা উচিত নয় যাতে পেছনের মুসল্লিদের কষ্ট হয়। কারণ এতে অন্যের ক্ষতি হয় এবং এর কোনো প্রয়োজনও নেই। আসলে বসে সালাত আদায়কারীর পা দাঁড়ানো মুসল্লিদের পায়ের সমান্তরালে থাকা জরুরি নয়। বরং বসা অবস্থায় তার নিতম্বই পায়ের স্থলাভিষিক্ত হবে। তাই সঠিক নিয়ম হলো, চেয়ারের পেছনের দুই পা কাতারের লাইনের ওপর রাখা। এর ফলে বসা অবস্থায় মুসল্লি অন্যদের চেয়ে কিছুটা সামনে এগিয়ে থাকলেও সেটিই সঠিক পদ্ধতি, যদি তিনি পুরো সালাত বসেই আদায় করেন। আর যদি তিনি দাঁড়িয়ে সালাত শুরু করেন এবং কেবল বসা ও সিজদার সময় চেয়ার ব্যবহার করেন তবে সেটির সমাধান ফাতাওয়া নম্বর ১০৭৯০০-তে দেওয়া হয়েছে। যদি এতে অন্য মুসল্লিদের সমস্যা হয় তবে তিনি কাতারের এক প্রান্তে দাঁড়াতে পারেন।
❑ চেয়ারে বসে সালাত আদায়ের বিষয়ে ‘লাজনা দায়িমা’ (সৌদি আরব ফাতাওয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি)-এর ফাতাওয়াতে বলা হয়েছে:
الْمَرِيضُ يُصَلِّي عَلَى حَسَبِ اسْتِطَاعَتِهِ، قَائِمًا أَوْ قَاعِدًا أَوْ عَلَى جَنْبٍ، أَوْ مُسْتَلْقِيًا وَرِجْلَاهُ إِلَى الْقِبْلَةِ، وَيُومِئُ بِرُكُوعِهِ وَسُجُودِهِ، وَيَجْعَلُ سُجُودَهُ أَخْفَضَ مِنْ رُكُوعِهِ، وَلَا بَأْسَ أَنْ يُصَلِّيَ عَلَى الْكُرْسِيِّ إِذَا شَقَّ عَلَيْهِ الْجُلُوسُ عَلَى الْأَرْضِ، وَلَا بَأْسَ أَنْ يُوضَعَ فِي الصَّفِّ الْأَوَّلِ، وَلَا يُؤَثِّرُ ذَلِكَ عَلَى اتِّصَالِ الصَّفِّ، وَيَنْبَغِي لِإِخْوَانِهِ الْمُسْلِمِينَ أَنْ يَرْفُقُوا بِهِ وَيَفْسَحُوا لَهُ الْمَكَانَ الْمُنَاسِبَ، وَإِذَا لَمْ يَجِدْ مَكَانًا مُنَاسِبًا فَلْيَكُنْ فِي طَرَفِ الصَّفِّ دَفْعًا لِلشِّقَاقِ. اِنْتَهَى
“অসুস্থ ব্যক্তি তার সামর্থ্য অনুযায়ী দাঁড়িয়ে, বসে, কাত হয়ে কিংবা কিবলার দিকে পা দিয়ে শুয়ে সালাত আদায় করবেন। তিনি রুকু ও সিজদার জন্য ইশারা করবেন এবং সিজদার ইশারা রুকুর চেয়ে বেশি নিচু করবেন। জমিনে বসতে কষ্ট হলে চেয়ারে বসে সালাত আদায়ে কোনো বাধা নেই। চেয়ার প্রথম কাতারে রাখলেও কাতারের ধারাবাহিকতায় কোনো সমস্যা হয় না।
অন্য মুসলিম ভাইদের উচিত, তার প্রতি সহমর্মিতা দেখানো এবং তার জন্য উপযুক্ত জায়গা করে দেওয়া। যদি তিনি উপযুক্ত জায়গা না পান তবে বিবাদ এড়াতে কাতারের এক প্রান্তে দাঁড়াবেন।”
❑ লাজনা দায়িমার অন্য একটি ফাতাওয়াতে এক প্রশ্নের জবাবে বলা হয়েছে (প্রশ্নটি ছিল: জনৈক ব্যক্তি তাশাহহুদ এবং দুই সিজদাহর মাঝে বসতে পারেন না বলে চেয়ার ব্যবহার করেন):
جُلُوسُكَ عَلَى الْكُرْسِيِّ حَالَ التَّشَهُّدِ وَبَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ لَا حَرَجَ فِيهِ؛ لِلْعُذْرِ الْمَذْكُورِ. وَبِاللهِ التَّوْفِيقُ، وَصَلَّى اللهُ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ. انْتَهَى।
“আপনার ওজরের কারণে তাশাহহুদ ও দুই সিজদাহর মাঝখানের বৈঠকে চেয়ার ব্যবহার করায় কোনো দোষ নেই।” আল্লাহর কাছেই তাওফিক কাম্য এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গী-সাথীদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।” (উৎস: ইসলাম ওয়েব)।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
অনুবাদক:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।