ফুটবল বিশ্বকাপ এবং সমসাময়িক ক্রীড়া সংস্কৃতি সম্পর্কে শাইখ সালেহ আল ফাউজান হাফিযাহুল্লাহ এর গুরুত্বপূর্ণ একগুচ্ছ ফতওয়া

ফুটবল, বিশ্বকাপ এবং এবং সমসাময়িক খেলাধুলা বিষয়ে বর্তমান যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকিহ এবং সৌদি আরবের প্রধান মুফতি আল্লামা শাইখ সালেহ আল ফাউজান (হাফিযাহুল্লাহ)-এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফতওয়া তুলে ধরা হলো:
❒ ১. ইসলামের দৃষ্টিতে ফুটবল খেলার বিধান কী?
প্রশ্ন: শাইখ, আল্লাহ আপনার প্রতি অনুগ্রহ করুন। এই প্রশ্নকারী বলছেন: ফুটবল খেলার হুকুম সম্পর্কে আপনাদের মতামত কী? বিশেষত যারা দ্বীন মেনে চলার চেষ্টা করছেন তাদের জন্য এর হুকুম কী—যদি খেলায় কোনও হারাম বা নিষিদ্ধ বিষয় না থাকে? দয়া ফতওয়া প্রদানে বাধিত করবেন।
উত্তর:
إِذَا كَانَ الْقَصْدُ مِنْ هَذَا تَقْوِيَةَ الْجِسْمِ؛ يَعْمَلُ الرِّيَاضَةَ وَالْكُرَةَ مِنْ أَجْلِ تَقْوِيَةِ جِسْمِهِ، وَلَا يُكْثِرُ مِنْ هَذَا، وَإِنَّمَا بِقَدْرِ مَا يَحْصُلُ لَهُ تَقْوِيَةُ جِسْمِهِ فَقَطْ، وَلَا يَشْغَلُهُ ذَلِكَ عَنْ أَدَاءِ وَاجِبٍ وَلَا عَنْ طَلَبِ مَعِيشَةٍ؛ فَهَذَا مُبَاحٌ بِهَذَا الْقَدْرِ، مَعَ سَتْرِ الْعَوْرَةِ -مَا يَكُونُ كَاشِفًا لِعَوْرَتِهِ-، هَذَا يُبَاحُ لَا بَأْسَ بِهِ.
أَمَّا إِذَا تَجَاوَزَ هَذِهِ الضَّوَابِطَ؛ بِأَنْ كَانَ مِهْنَةً وَحِرْفَةً، وَيَشْغَلُ وَقْتَهُ كُلَّهُ، وَلَا يُعْرَفُ إِلَّا بِأَنَّهُ لَاعِبُ كُرَةٍ؛ هَذَا لَا يَجُوزُ؛ لِأَنَّهُ أَهْدَرَ وَقْتَهُ، وَأَهْدَرَ شَخْصِيَّتَهُ، وَأَهْدَرَ مَنَافِعَهُ، وَنَزَلَ عَنْ صِفَةِ الرِّجَالِ وَصِفَةِ ذَوِي الشَّهَامَةِ وَالْمُرُوءَةِ، وَصَارَ مَعْرُوفًا بِأَنَّهُ لَاعِبٌ -يُسَمَّى لَاعِبًا-، وَاللَّعِبُ إِذَا كَثُرَ،
اللهُ مَا ذَكَرَ اللَّعِبَ إِلَّا عَلَى وَجْهِ الذَّمِّ فِي الْقُرْآنِ؛ مَا جَاءَ اللَّعِبُ إِلَّا عَلَى وَجْهِ الذَّمِّ. فَيُتْرَكُ هَذَا الْأَمْرُ، وَلَا يَكُونُ مُحْتَرِفًا لِلَعِبِ الْكُرَةِ أَوْ كُلُّ وَقْتِهِ، مَا لَهُ مِهْنَةٌ إِلَّا لَعِبُ الْكُرَةِ؛ هَذَا لَا يَجُوزُ، هَذَا يُذِيبُ شَخْصِيَّةَ الْمُسْلِمِ، وَيُعَطِّلُ عَلَيْهِ مَصَالِحَهُ، وَيُنَزِّلُ قَدْرَهُ عِنْدَ النَّاسِ
“খেলার উদ্দেশ্য যদি হয় কেবল শরীরচর্চা বা সুস্থ থাকা, আর সেটা করতে গিয়ে যদি নিজের জরুরি কাজ বা জীবিকার পথে কোনও বাধা সৃষ্টি না হয়, তবে ফুটবল খেলাটা জায়েজ। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই সতর ঢেকে রাখা জরুরি। শরীর গঠনের প্রয়োজনে যতটুকু দরকার, ততটুকু খেলাধুলা করায় কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু এই খেলার নেশায় যদি কেউ সব সীমা ছাড়িয়ে যায় তবে তা মোটেও সমর্থনযোগ্য নয়। যেমন:
খেলাধুলাকে যদি কেউ পেশা বা জীবন সংস্থানের প্রধান উপায় বানিয়ে নেয়, সারাটা সময় মাঠেই কাটিয়ে দেয় এবং নিজের আসল পরিচয় মুছে ফেলে শুধু একজন ‘ফুটবলার’ হিসেবেই পরিচিতি গড়ে তোলে—তাহলে সেটা জায়েজ নয়। কারণ এতে মূল্যবান সময় ও জীবনের সৃজনশীলতা নষ্ট হয়। এতে মানুষের ব্যক্তিত্ব ও গাম্ভীর্য ক্ষুণ্ণ হয়। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে অহেতুক খেলাধুলাকে কখনোই ভালো চোখে দেখেননি। তাই যারা খেলাধুলা নিয়ে অতিরিক্ত মেতে থাকে, তাদের উচিত নিজেকে শুধরে নেওয়া। একজন মুসলিমের ব্যক্তিত্বকে ক্ষতিকর এমন কোনও কাজ বা পরিচয় আঁকড়ে ধরা উচিত নয়, যা মানুষের কাছে তার মর্যাদা কমিয়ে দেয় এবং তাকে আসল দায়িত্ব ও কল্যাণকর কাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।” শাইখের এ বক্তব্যের আলোকে ফুটবল খেলা জায়েজ হওয়ার শর্তাবলী নিম্নরূপ:
● ১. খেলার মূল উদ্দেশ্য হতে হবে কেবল শরীরচর্চা বা সুস্থতা অর্জন।
● ২. খেলাধুলা করতে গিয়ে নিজের জরুরি কাজ ও দায়িত্বে (ফরজ ইবাদত-বন্দেগিতে) অবহেলা করা যাবে না বা জীবিকা অর্জনের পথে কোনও বাধা সৃষ্টি হওয়া যাবে না।
● ৩. খেলার সময় সতর তথা শরীরে আবশ্যকীয় অংশ ঢেকে রাখা জরুরি।
● ৪. শরীর গঠনের প্রয়োজনে যতটুকু খেলাধুলা প্রয়োজন ঠিক ততটুকুতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে; অতিরিক্ত মেতে থাকা যাবে না।
● ৫. খেলাধুলাকে পেশা বা জীবিকার প্রধান উপায় বানানো যাবে না।
● ৬. সারাক্ষণ মাঠেই সময় কাটিয়ে দেওয়া এবং নিজের প্রকৃত পরিচয় ভুলে শুধু ‘খেলোয়াড়’ হিসেবে পরিচিতি গড়ে তোলা থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা এতে মূল্যবান সময় ও জীবনের সৃজনশীলতা নষ্ট হয়।
● ৭. এমন কোনও কাজ বা পরিচয় আঁকড়ে ধরা যাবে না, যা একজন মুসলিমের ব্যক্তিত্ব ও গাম্ভীর্য ক্ষুণ্ণ করে এবং তাকে মানুষের কাছে মর্যাদাহীন করে তোলে।
● ৮. খেলাধুলা যেন মানুষকে তার আসল দায়িত্ব ও কল্যাণকর কাজ থেকে দূরে সরিয়ে না দেয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।
এসব শর্ত সাপেক্ষে ফুটবল খেলা জায়েজ। এর ব্যত্যয় ঘটলে জায়েজ নয়। (অনুবাদক)
❒ ২. কাফের দেশগুলোর ক্রীড়া টিমকে সমর্থন করা এবং তাদের জয় কামনা করার বিধান: এটি কি কাফেরদের প্রতি আন্তরিক বন্ধুত্ব ও গভীর ভালোবাসার অন্তর্ভুক্ত?
প্রশ্ন: আজকাল অনেকে বিভিন্ন দেশের খেলাধুলা দেখেন এবং কোনও কোনও দলের প্রতি সমর্থন জানান। এর মধ্যে অনেক সময় কাফের দেশগুলোর দলও থাকে। কাফেরদের দল জয়ী হোক—এমনটা কামনা করা বা তাদের সমর্থন করা কি তাদের প্রতি আন্তরিক গভীর ভালোবাসা বা বন্ধুত্ব (মুওয়ালাত) হিসেবে গণ্য হবে?
উত্তর:
إِذَا أَحَبَّ أَنْ يَنْتَصِرَ الْكَافِرُ وَلَوْ بِالْأَلْعَابِ الرِّيَاضِيَّةِ فَهَذِهِ مَوَدَّةٌ لَهُمْ، إِذَا أَحَبَّ أَنْ يَنْتَصِرُوا وَلَوْ فِي الْأَلْعَابِ الرِّيَاضِيَّةِ فَهَذِهِ مُوَالَاةٌ لَهُمْ، نَعَمْ
“যদি কেউ চায় যে কাফেররা জয়ী হোক—তা সে সাধারণ কোনও বিষয় হোক কিংবা খেলাধুলা—তবে এটি তাদের প্রতি মনের টান বা ভালোবাসারই লক্ষণ। আর যদি কেউ মনেপ্রাণে তাদের জয় কামনা করে, তবে তা ইসলামি পরিভাষায় তাদের প্রতি ‘মুওয়ালাত’ বা আনুগত্য ও বন্ধুত্বের অন্তর্ভুক্ত হিসেবেই গণ্য হবে।”
❒ ৩. মুসলিম দলের বিপক্ষে অমুসলিম দলকে সমর্থন করার শরয়ি বিধান:
প্রশ্ন: অনেক ফুটবল ভক্ত অমুসলিম খেলোয়াড়দের প্রতি এতটাই অন্ধভাবে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন যে, তাদের পক্ষে অবস্থান নেন। অথচ এর বিপরীতে, কেবল প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সদস্য হওয়ার কারণে মুসলিম খেলোয়াড়দের প্রতি ঘৃণা ও শত্রুতা পোষণ করেন। এই আচরণের শরয়ি হুকুম কী? এটি কি মানুষকে বড় ধরনের কোনও বিপদের দিকে ঠেলে দেয়?
উত্তর:
هَذَا مِنْ أَضْرَارِ التَّعَصُّبِ الرِّيَاضِيِّ الْمَذْمُومِ، فَإِذَا اقْتَرَنَ هَذَا التَّشْجِيعُ بِالْوَلَاءِ وَالْبَرَاءِ، بِحَيْثُ يُحَبُّ الْكَافِرُ وَيُوَالَى، وَيُبْغَضُ الْمُسْلِمُ وَيُعَادَى لِأَجْلِ مُبَارَاةٍ أَوْ نَادٍ، فَهَذَا أَمْرٌ لَا يَجُوزُ شَرْعًا، وَهُوَ مِنَ الِانْحِرَافِ فِي الْمَوَازِينِ. إِنَّ الْوَلَاءَ وَالْبَرَاءَ لَا يَكُونُ إِلَّا لِلَّهِ وَلِرَسُولِهِ وَلِلْمُؤْمِنِينَ، فَمُوَالَاةُ الْكَافِرِينَ وَمَحَبَّتُهُمْ لِنُصْرَتِهِمْ فِي لُعْبَةٍ، وَمُعَادَاةُ الْمُسْلِمِينَ لِأَنَّهُمْ فِي فَرِيقٍ مُنَافِسٍ، هُوَ مَسْلَكٌ خَطِيرٌ يُرِيدُهُ أَعْدَاءُ الْإِسْلَامِ؛ فَقَدْ أَرَادُوا أَنْ يَغْرِسُوا فِي قُلُوبِ شَبَابِ الْمُسْلِمِينَ مَفَاهِيمَ الْوَلَاءِ وَالْبَرَاءِ لِغَيْرِ اللَّهِ وَلِغَيْرِ الْإِسْلَامِ، لِيَصْرِفُوهُمْ عَمَّا يَنْفَعُهُمْ فِي دِينِهِمْ وَدُنْيَاهُمْ
“এটি মূলত খেলাধুলা নিয়ে অন্ধ গোঁড়ামির একটি ভয়াবহ পরিণাম। একজন মুমিনের জীবনের মূল ভিত্তি হলো ‘আল ওয়ালা ওয়াল বারা’—অর্থাৎ ভালোবাসা ও ঘৃণা কেবল আল্লাহর জন্য হওয়া। কিন্তু কেউ যদি নিছক একটি খেলা বা ক্লাবকে কেন্দ্র করে কোনও অমুসলিমকে ভালোবাসে, সমর্থন দেয় এবং একই কারণে একজন মুসলিমকে ঘৃণা বা শত্রুতা করে, তবে তা ইসলামি শরীয়তের দৃষ্টিতে কোনোভাবেই বৈধ নয়। এটি ঈমানের মাপকাঠিতে অনেক বড় একটি বিচ্যুতি।” আমাদের সবসময় মনে রাখা প্রয়োজন যে, ভালোবাসা ও আনুগত্য কেবল আল্লাহ, তাঁর রসুল(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং মুমিনদের জন্যই নির্দিষ্ট। নিছক একটি খেলায় জেতানোর আশায় কাফেরদের প্রতি ভালোবাসা বা বন্ধুত্ব পোষণ করা এবং প্রতিপক্ষ হিসেবে মুসলিম খেলোয়াড়দের প্রতি বিদ্বেষ রাখা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এটি এমন একটি পথ, যা ইসলামের শত্রুরাই চায়। তারা চায় মুসলিম তরুণদের মন থেকে প্রকৃত ইমানি চেতনার জায়গা দখল করে নিতে। তারা চায় আমাদের তরুণরা যেন আল্লাহ ও ইসলামের পরিবর্তে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং নিজেদের দ্বীন ও দুনিয়ার প্রকৃত কল্যাণ থেকে পুরোপুরি বিমুখ হয়ে যায়।”
❒ ৪. ফুটবল খেলায় গোল দেওয়ার পর সেজদা দেওয়ার বিধান:
প্রশ্ন: ফুটবল খেলোয়াড়রা গোল করার পর যে সেজদা দেয় তার হুকুম কী? অনেকে বলে, আপনি নাকি এটি জায়েজ বলেছিলেন আবার অনেকে বলে, আপনি নিষেধ করেছেন। আসলে বিষয়টি কী?
উত্তর:
«النَّقْلُ الْأَوَّلُ كَذِبٌ، مَا قُلْتُ مَشْرُوعِيَّةَ هَذَا، أَقُولُ: مَا هَذِهِ نِعْمَةٌ، أَقُولُ: الْكُرَةُ وَلَعِبُ الْكُرَةِ مَا هُوَ بِنِعْمَةٍ، وَسُجُودُ الشُّكْرِ يَكُونُ عِنْدَ تَجَدُّدِ نِعْمَةٍ، فَهُوَ بِدْعَةٌ فِي هَذَا الْمَوْضِعِ، إِيشْ حَصَّلْنَا مِنَ الْكُرَةِ وَإِيشِ الْمُسْلِمُونَ اسْتَفَادُوا مِنْهَا إِلَّا ضَيَاعَ شَبَابِهِمْ؟ مَا اسْتَفَادُوا، بَلْ هِيَ ضَرَرٌ عَلَى الْمُسْلِمِينَ».
“আমার পক্ষ থেকে এটি জায়েজ হওয়ার যে কথাটি ছড়ানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি কখনোই এটিকে বৈধ বলিনি।
ফুটবল খেলা কোনও নিয়ামত বা অনুগ্রহ নয় যে, এর জন্য সেজদা দিতে হবে। সেজদায়ে শোকর তো কেবল তখনই করা হয় যখন কোনও নতুন নিয়ামত প্রাপ্তি ঘটে। সুতরাং খেলার মাঠে এমন সেজদা করা একটি বিদআত (দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবিত কাজ)।
ফুটবল থেকে আমরা কী পেয়েছি? মুসলমানরা এটি থেকে কী উপকার পেয়েছে? এটি কেবল যুবকদের সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছুই নয়। বরং এটি মুসলিমদের জন্য ক্ষতিকর।
❒ ৫. ফুটবল ম্যাচ দেখার বিধান
প্রশ্ন: ফুটবল ম্যাচ মাঠে গিয়ে বা টিভিতে দেখা কি বৈধ?
উত্তর:
لَا خَيْرَ فِيهَا، لَا فَائِدَةَ فِيهَا إِلَّا ضَيَاعُ الْوَقْتِ، فَالْأَحْسَنُ أَنْ تَصْرِفَ نَفْسَكَ عَنْهَا، تَشْتَغِلَ فِي مَا فِيهِ فَائِدَةٌ، فِي دِينِكَ وَدُنْيَاكَ
“এর মধ্যে কোনও কল্যাণ বা উপকার নেই, বরং এটি সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই এসব থেকে নিজেকে দূরে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। বরং আপনার মূল্যবান সময়টুকু এমন কোনও কাজে ব্যয় করুন, যা আপনার দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণে আসবে।”
❒ ৬. ”খেলা দেখার পরিবর্তে ঘুমানো অধিক উত্তম”
প্রশ্ন: টেলিভিশনে ফুটবল ম্যাচ দেখার হুকুম কী?
উত্তর:
«يَعْنِي عِنْدَكَ فَرَاغٌ، مَا لَكَ شُغْلٌ إِلَّا مُتَابَعَةَ الْكُرَةِ وَمَا أَدْرِي وَش؟ الْمُسْلِمُ وَقْتُهُ ثَمِينٌ، مَا يَنْبَغِي أَنَّهُ يُضَيِّعَهُ فِي الْمُبَارَيَاتِ وَالْمُسَلْسَلَاتِ وَالْأَشْيَاءِ الْهَابِطَةِ الَّتِي لَا تُفِيدُهُ فِي دِينِهِ وَلَا فِي دُنْيَاهُ. يَحْفَظُ وَقْتَهُ فِيمَا يَنْفَعُهُ وَمَا يُفِيدُهُ. كَوْنُكَ تَنَامُ أَحْسَنُ مِنْ كَوْنِكَ تُشَاهِدُ الْمُبَارَاةَ؛ تَنَامُ، تَرْتَاحُ، تَقُومُ تُصَلِّي آخِرَ اللَّيْلِ، أَحْسَنُ لَكَ مِنْ أَنَّكَ تُشَاهِدُ شَيْئًا مَا فِيهِ فَائِدَةٌ، وَيُؤَخِّرُ عَلَيْكَ النَّوْمَ، وَيُكَسِّلُكَ عَنْ صَلَاةِ الْفَجْرِ».
“তার মানে আপনার হাতে অনেক অবসর সময়! খেলা দেখা ছাড়া আপনার আর কোনও কাজ নেই!
একজন মুসলিমের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান। তাই খেলাধুলা, নাটক-সিরিয়াল বা এই ধরনের অনর্থক কাজে সময় নষ্ট করা তার জন্য শোভনীয় নয়—বিশেষ করে যেসব বিষয় দ্বীন বা দুনিয়ার কোনও উপকারে আসে না। বরং সময়ের সঠিক ব্যবহার করা এবং কল্যাণকর কাজে মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। সত্যি বলতে, খেলা না দেখে সেই সময়ে ঘুমানো আপনার জন্য অনেক বেশি উত্তম। ঘুমালে শরীর বিশ্রাম পাবে, এরপর শেষ রাতে উঠে তাহাজ্জুদ আদায় করতে পারবেন। এটা এমন সব জিনিস দেখার চেয়ে অনেক ভালো, যাতে কোনও উপকার তো নেই-ই বরং তা আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় এবং ফজরের সালাতের জন্য আপনাকে অলস করে দেয়।”
❒ ৭. বাড়াবাড়ি ছাড়া শুধু বিনোদনের উদ্দেশ্যে খেলা দেখার বিধান
প্রশ্ন: কেউ যদি কোনও প্রকার বাড়াবাড়ি বা আসক্তি ছাড়া শুধু বিনোদনের জন্য ফুটবল খেলা দেখেন তবে তার হুকুম কী?
উত্তর:
«لَا تُضَيِّعْ وَقْتَكَ فِي هَذِهِ التُّرَهَاتِ، لَا تُضَيِّعْ وَقْتَكَ فِيهَا»
“এসব অনর্থক বা বাজে কাজে নিজের সময় নষ্ট করবেন না। আপনার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত অনেক দামি, তাই এসবের পেছনে সময় ব্যয় করা থেকে বিরত থাকুন।”
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
ফতওয়া প্রদান: আল্লামা শাইখ সালেহ আল ফাউযান (হাফিযাহুল্লাহ)।
প্রধান হাইআতু কিবারিল উলামা (সিনিয়র স্কলার পরিষদ) এবং গ্র্যান্ড মুফতি, সৌদি আরব।
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।
Share: