প্রশ্ন: সদাকাতুল ফিতর কি নগদ টাকায় আদায় করা জায়েজ? আর আমি যদি ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার সময় মক্কায় অবস্থান করি, তবে কি আমি মক্কাতেই তা আদায় করব, নাকি আমার পরিবার আমার নিজ দেশে তা আদায় করবে?
উত্তর:
لقد تقدم لنا في ليلتين سبقتَا بيانُ أن إخراج زكاة الفطر نقداً لا يجوز؛ لأنه خلاف ما أمر به النبي صلى الله عليه وسلم، وقد ثبت عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال:
«مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ» [صحيح مسلم]
وبينّا أن الشيء المنصوص عليه لا خيار فيه للمرء ولا اختيار، بل لا بد من اتباع النص؛ لأن الله سبحانه وتعالى سيسأل العبد يوم القيامة عما بلغه عن رسوله محمد صلى الله عليه وسلم. فلينظر العبد ما هو جوابه إذا سُئل: “لماذا أخرجتَ دراهم وقد فرض عليك الرسول طعاماً؟”.
فالواجب على المسلم إخراج زكاة الفطر مما فرضه النبي صلى الله عليه وسلم من الطعام. وإن إقحام الاستحسان العقلي القاصر في النصوص الشرعية أمر خطير جداً، ليس في هذا الباب فحسب، بل في أبواب كثيرة من العلم والفقه.
والحمد لله، أنت إذا أديت ما أوجب الله عليك من الطعام فقد برئت ذمتك، حتى وإن كانت الدراهم أنفع للفقير؛ أَدِّ الواجب من الطعام، وإذا أردت الإحسان إلى الفقير فأعطه قيمة الطعام زيادةً عليه، فتكون قد أتيت بالواجب وفعلت التطوع، وفضل الله واسع.
أما مكان الإخراج:
فأداؤها في مكة وأنت فيها الآن أفضل من تأديتها في بلدك؛ وذلك لفضل المكان أولاً، ولأن زكاة الفطر تتبع البدن ثانياً. إلا إذا كان الفقراء في بلدك أو في مكان آخر أشد حاجة، فنقلتها إليهم فلا بأس بذلك.
“গত দুই রাতে আমরা এ বিষয়টি স্পষ্ট করেছি যে, সদাকাতুল ফিতর নগদ টাকায় আদায় করা জায়েজ নয়। কারণ এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশের পরিপন্থী। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত আছে যে তিনি বলেছেন:
«مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ»
“যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই, তবে তা প্রত্যাখ্যান করা হবে।” [সহিহ মুসলিম]
আমরা আরও স্পষ্ট করেছি যে, কোনো বিষয় যখন সুস্পষ্টভাবে (কুরআন-সুন্নাহর মাধ্যমে) নির্ধারিত থাকে তখন সেখানে মানুষের নিজস্ব পছন্দ বা অপছন্দের কোনো সুযোগ থাকে না। বরং যা নির্দেশিত হয়েছে তা-ই মেনে চলা আবশ্যক। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কিয়ামতের দিন বান্দাকে তাঁর রসুল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাধ্যমে পৌঁছানো দ্বীন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। তাই বান্দার ভাবা উচিত সেদিন তার জবাব কী হবে যখন তাকে প্রশ্ন করা হবে: “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমার ওপর খাদ্যদ্রব্য (ফিতরা হিসেবে) ফরজ করেছিলেন, অথচ তুমি কেন টাকা দিলে?” সুতরাং মুসলিমের ওপর ওয়াজিব হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে খাদ্যদ্রব্য নির্ধারণ করেছেন তা থেকেই ফিতরা আদায় করা। শরিয়তের সুস্পষ্ট দলিলের বিপরীতে আমাদের সীমাবদ্ধ বিবেক বা যুক্তিকে প্রাধান্য দেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। এটি কেবল এই একটি বিষয়ের ক্ষেত্রে নয়, বরং জ্ঞান ও ফিকহ শাস্ত্রের অনেক ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আলহামদুলিল্লাহ, আপনার ওপর আল্লাহ যা ফরজ করেছেন (খাদ্যদ্রব্য) তা আদায় করলে আপনি দায়মুক্ত হবেন; এমনকি যদি টাকা দেওয়াটা গরিবের জন্য বেশি উপকারী মনে হয় তবুও। আপনার যা করণীয় তা হলো আপনি খাদ্যদ্রব্য দিয়ে ফিতরা আদায় করবেন। আর যদি আপনি গরিবের উপকার করতেই চান তবে এই খাদ্যের পাশাপাশি অতিরিক্ত হিসেবে তার মূল্য পরিমাণ টাকাও দিয়ে দিতে পারেন। এতে করে আপনার ওয়াজিব পালন হলো এবং আপনি নফল সদকার সওয়াবও পেলেন। আল্লাহর অনুগ্রহ অনেক বিশাল।
✪ আদায়ের স্থানের ক্ষেত্রে নিয়ম:
আপনি বর্তমানে মক্কায় অবস্থান করলে মক্কাতেই ফিতরা আদায় করা উত্তম।
– প্রথমতঃ স্থানের মর্যাদার কারণে।
– দ্বিতীয়তঃ ফিতরা হলো শরীরের সাথে সংশ্লিষ্ট যাকাত (অর্থাৎ আপনি যেখানে থাকবেন সেখানেই তা দেবেন)। তবে যদি আপনার নিজ দেশে বা অন্য কোনো স্থানে অধিক অভাবী মানুষ থাকে এবং আপনি সেখানে তা পাঠিয়ে দেন তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই।”
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন (রাহ.)।
অনুবাদ: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।