প্রশ্ন: ইসলামের দৃষ্টিতে নতুন টাকার নোট অধিক দামে ক্রয়-বিক্রয় করা কি জায়েজ?
উত্তর: নতুন টাকার নোট বা খুচরা টাকা বেশি দামে কেনাবেচা করার বিষয়টি ইসলামের দৃষ্টিতে জায়েজ নয়। এটি সরাসরি সুদের (রিবা) অন্তর্ভুক্ত। নিচে বিষয়টি সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হলো:
শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, একই জাতীয় মুদ্রা বা টাকার বিনিময় করার সময় দুটি শর্ত অবশ্যই পূরণ হতে হবে:
১. পরিমাণে সমান হতে হবে: অর্থাৎ ১০০ টাকার নোটের বিনিময়ে ১০০ টাকাই নিতে হবে।
২. হাতে হাতে (নগদ) লেনদেন হতে হবে: অর্থাৎ আদান-প্রদান একই মজলিসে তৎক্ষণাৎ হতে হবে।
যদি ১০০ টাকার নতুন নোট ১১০ টাকায় কেনা হয় তবে এই অতিরিক্ত ১০ টাকা পরিষ্কার ‘সুদ’ হিসেবে গণ্য হবে। নতুন নোটের চাকচিক্য বা সৌন্দর্য টাকার মূল্যের কোনো পরিবর্তন ঘটায় না। তাই সমজাতীয় মুদ্রার ক্ষেত্রে কম-বেশি করে লেনদেন করা হারাম।
রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ প্রসঙ্গে বলেছেন:
الذَّهَبُ بالذَّهَبِ، والْفِضَّةُ بالفِضَّةِ… مِثْلًا بمِثْلٍ، يَدًا بيَدٍ، فمَن زادَ، أوِ اسْتَزادَ، فقَدْ أَرْبَى، الآخِذُ والْمُعْطِي فيه سَواءٌ
“স্বর্ণের বদলে স্বর্ণ, রুপার বদলে রুপা… সমান সমান এবং হাতে হাতে (নগদ) বিক্রি করো। যে ব্যক্তি বেশি দিল বা বেশি নিল, সে সুদের কারবার করল। এক্ষেত্রে দাতা ও গ্রহীতা উভয়েই সমান অপরাধী।” [সহীহ মুসলিম: ১৫৮৪]। যেহেতু বর্তমানের কাগজের মুদ্রাও স্বর্ণ-রুপার মতোই ‘নগদ অর্থ’ হিসেবে গণ্য তাই এর বিনিময়ে কম-বেশি করা যাবে না। তবে যদি ভিন্ন জাতীয় মুদ্রা হয় (যেমন টাকার বদলে রিয়াল বা ডলার), তবে দাম কম-বেশি হতে পারে কিন্তু লেনদেন অবশ্যই নগদ হতে হবে।
সৌদি আরবের প্রধান মুফতি ড. আল্লামা সালেহ আল ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন,
إذا كانت تُستعمل على أنها نقد ولم تُلحق بالملغاة؛ فإن بيعت بجنسها فلا تجوز الزيادة ولا يجوز التأجيل، بل لا بد من التقابض ولا بد من التماثل في المقدار إن كانت العملة من جنس واحد، كريال سعودي بريالات سعودية.
ما إذا كانت العملة مختلفة، كذهب بفضة، أو ريال سعودي بدولار أمريكي أو غيره، فيجوز التفاضل والزيادة، لكن لا يجوز النسيئة والدين فيها، بل لا بد أن تكون يداً بيد؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: «فإذا
[اختلفت هذه الأصناف فبيعوا كيف شئتم، إذا كان يداً بيد» [صحيح مسلم
“যদি মুদ্রাটি বর্তমানে নগদ অর্থ হিসেবে প্রচলিত থাকে এবং বাতিল না হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে যদি একই জাতীয় মুদ্রার বিনিময়ে বিক্রি করা হয় তবে অতিরিক্ত নেওয়া (সুদ) এবং বিলম্ব করা—কোনোটিই জায়েজ নয়। বরং এক্ষেত্রে অবশ্যই হাতে হাতে লেনদেন (নগদ) হতে হবে এবং পরিমাণে সমান হতে হবে যদি মুদ্রাটি একই জাতীয় হয়। যেমন: সৌদি রিয়ালের বিনিময়ে সৌদি রিয়াল। আর যদি মুদ্রার ধরণ ভিন্ন হয়, যেমন: স্বর্ণের বিনিময়ে রুপা, অথবা সৌদি রিয়ালের বিনিময়ে আমেরিকান ডলার বা অন্য কিছু তবে কম-বেশি দামে বিক্রি করা জায়েজ। কিন্তু এতে বাকি বা ধারে লেনদেন করা জায়েজ হবে না। বরং অবশ্যই তা হাতে হাতে (নগদ) হতে হবে। কারণ রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
«فَإِذَا اخْتَلَفَتْ هَذِهِ الْأَصْنَافُ فَبِيعُوا كَيْفَ شِئْتُمْ، إِذَا كَانَ يَدًا بِيَدٍ»
“যখন এই শ্রেণিগুলো ভিন্ন ভিন্ন হবে, তখন তোমরা যেভাবে ইচ্ছা বিক্রি করো, যদি তা হাতে হাতে (নগদ) হয়।” [সহীহ মুসলিম: ১৫৮৭] [শাইখ সালেহ আল ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ)-এর ইউটিউব চ্যানেল]। পরিশেষ, ঈদের সময় বা অন্য কোনো প্রয়োজনে নতুন টাকা সংগ্রহ করার জন্য অতিরিক্ত মূল্য দেওয়া থেকে বিরত থাকা জরুরি। এ জাতীয় ব্যবসা করাও হারাম। সুতরাং এ জাতীয় লেনদেন ও ব্যবসা থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য। এর পরিবর্তে সমপরিমাণ টাকা দিয়ে ব্যাংক থেকে নতুন নোট সংগ্রহ করা যেতে পারে। এটাই সঠিক পদ্ধতি। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।