নারীর জন্য কি নিজ বাড়িতে ঈদের নামাজ পড়া জায়েজ?
🛑আল্লামা শাইখ মোহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন রহ.🛑
উত্তর:
المشروع في حق النساء أن يصلين صلاة العيد في مصلى العيد مع الرجال؛ لحديث أم عطية رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم أمر أن يخرج النساء حتى الحيض وذوات الخدور يشهدن الخير ودعوة المسلمين، ويعتزل الحيض المصلى. فالسنة أن يخرج النساء إلى مصلى العيد مع الرجال، أما صلاة النساء في البيوت فلا أعلم في ذلك سنة، والله أعلم.
“নারীদের ক্ষেত্রে বিধান হলো, তারা পুরুষদের সাথে (নির্ধারিত আলাদা স্থানে) ঈদের নামাজ পড়ার জন্য ঈদগাহে যাবে। এর দলিল হলো, উম্মে আতিয়্যাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিস; যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঋতুবতী নারী এবং পর্দানশীন কুমারী মেয়েদেরও ঈদগাহে বের হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তারা কল্যাণের কাজে এবং মুসলিমদের দোয়ায় শরিক হতে পারে। তবে ঋতুবতী নারীরা নামাজের মূল স্থান থেকে দূরে অবস্থান করবে। সুন্নাহ হলো, নারীরা পুরুষদের সাথে ঈদগাহে যাবে। তবে নারীদের ঘরে ঈদের নামাজ পড়ার ব্যাপারে কোনো সুন্নাহ আমার জানা নেই। আল্লাহু আলাম (আল্লাহই সর্বজ্ঞ)।” (সমাপ্ত)
عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: “أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نُخْرِجَهُنَّ فِي الْفِطْرِ وَالأَضْحَى الْعَوَاتِقَ وَالْحُيَّضَ وَذَوَاتِ الخُدُورِ، فَأَمَّا الْحُيَّضُ فَيَعْتَزِلْنَ الصَّلاةَ وَيَشْهَدْنَ الْخَيْرَ وَدَعْوَةَ الْمُسْلِمِينَ”
“রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় যুবতী, ঋতুবতী এবং পর্দানশীন নারীদের (ঈদগাহে) নিয়ে আসি। তবে ঋতুবতী নারীরা নামাজ থেকে দূরে থাকবে। কিন্তু তারা কল্যাণের কাজ ও মুসলিমদের দোয়ায় শরিক হবে।” [সহীহ বুখারী: ৩২৪, সহীহ মুসলিম: ৮৯০]
মোটকথা, শায়খের মতে, নারীদের জন্য সুন্নাহ হলো, ঈদগাহে গিয়ে নামাজে অংশ নেওয়া। একাকী বা জামাত ছাড়া ঘরে ঈদের নামাজ পড়ার বিশেষ কোনো নিয়ম হাদিসে পাওয়া যায় না।
যদিও শায়েখ বিন বায রহ. তা জায়েজ বলেছেন কিন্তু এই মর্মে কোন দলিল উল্লেখ করেননি। তাই আল্লামা উসাইমিন রহ. এর মতটাই অধিক নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।
الله تعالى اعلم
মহান আল্লাহ ভাল জানেন।
সৌদি আরবের ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি-এর ফতওয়াকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে:
নারীদের ওপর কি ঈদের নামাজ ওয়াজিব? যদি ওয়াজিব হয় তবে তারা কি বাড়িতে পড়বে নাকি ঈদগাহে?
তারা উত্তর দিয়েছেন:
ليست واجبة على المرأة ، ولكنها سنة في حقها ، وتصليها في المصلى مع المسلمين؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم أمرهن بذلك “
“নারীদের ওপর এটি ওয়াজিব নয়। তবে এটি তাদের জন্য সুন্নাহ। তারা মুসলিমদের সাথে ঈদগাহে গিয়ে এই নামাজ পড়বে। কারণ রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে এমনটিই নির্দেশ দিয়েছেন।” [ফাতাওয়া আল লাজনাহ আদ দাইমাহ: ৮/২৮৪]
আল্লামা মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল উসাইমিন রহ.-এর নিকট একজন নারী প্রশ্ন করেছেন যে, মহিলাদের জন্য ঈদের কোনো আলাদা নামাজের জায়গা (মুসাল্লা) না থাকায় তিনি নিজের বাড়িতে অন্য নারীদের একত্রিত করে ঈদের নামাজ পড়ান। তার বাড়িটি পুরুষদের দৃষ্টি থেকে দূরে এবং পর্দার ভেতরে। এর বিধান কী?
উত্তরে তিনি বলেন:
الحكم في ذلك أن هذا من البدعة ؛ فصلاة العيد إنما تكون جماعة في الرجال ، والمرأة مأمورة بأن تخرج إلى مصلى العيد فتصلى مع الرجال وتكون خلفهم بعيدة عن الاختلاط بهم .
وأما أن تكون صلاة العيد في بيتها فغلط عظيم ؛ فلم يعهد عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم ولا عن أصحابه أن النساء يقمن صلاة العيد في البيوت “
“এই কাজটির বিধান হলো, এটি একটি ‘বিদআত’ (দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবন)। কারণ ঈদের নামাজ কেবল পুরুষদের সাথেই জামাতে আদায় করতে হয়। মহিলাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা যেন ঈদের মাঠে বের হয় এবং পুরুষদের সাথে নামাজ আদায় করে। তবে তারা থাকবে পুরুষদের পেছনে এবং তাদের সাথে মেলামেশা থেকে দূরে। আর বাড়িতে ঈদের নামাজ কায়েম করা একটি বড় ভুল। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা তাঁর সাহাবিদের থেকে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না যে, মহিলারা বাড়িতে ঈদের নামাজ কায়েম করেছেন।”
[ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব: ১৮৯/৮] আল্লাহই ভালো জানেন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
অনুবাদ: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।