দাড়ি রাখা ফরজ নয় বরং সুন্নত এ কথা কি সঠিক

প্রশ্ন: অনেকেই বলে থাকে যে, দাড়ি রাখা ফরজ নয় বরং সুন্নত। এ কথা কি সঠিক?
উত্তর: রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাড়ি রেখেছেন সে অর্থে এটি সুন্নত বা অনুকরণীয় আদর্শ। কিন্তু তা পালনের বাধ্য-বাধকতার ক্ষেত্রে বিধানগত ভাবে এটি ফরজ/ওয়াজিব। অর্থাৎ কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে তা পরিত্যাগ করলে গুনাহগার হবে। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন বিষয়ে আদেশ করেন তখন তা বাস্তবায়ন করা উম্মতের জন্য ফরজ হয়ে যায়। অনুরূপভাবে যখন তিনি কোন নিষেধ করেন তখন তা করা উম্মতের জন্য হারাম হয়ে যায় যতক্ষণ না সে বিষয়ে অনুমতি বা ছাড় সূচক ভিন্ন কোনও নির্দেশ থাকে। তাহলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধিক হাদিসে দাড়ি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, একাধিক হাদিসে দাড়ি কাটতে নিষেধ করেছেন এবং এর বিপরীতে অন্য কোনও নির্দেশনা তার পক্ষ থেকে পাওয়া যায় নি। সুতরাং এটি অবশ্যই ফরজ। (অবশ্য এক মুষ্টির পরে দাড়ি কাটা যাবে কিনা সে বিষয়টি দ্বিমত পূর্ণ, আমরা এখন সে বিষয়ে আলোচনা করছি না।) এভাবে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম যত আমল করেছেন বা করতে নির্দেশ দিয়েছেন সবই উম্মতের জন্য সুন্নত বা অনুকরণীয় আদর্শ (তার জন্য খাস বিধানগুলো ছাড়া)। কিন্তু সেগুলোর মধ্যে বিধানগতভাবে কিছু আছে ফরজ বা ওয়াজিব আর কিছু মোস্তাহাব বা নফল। সবগুলোর বিধান এক নয়। এগুলোর মধ্যে গুরুত্বের দিক দিয়ে তারতম্য আছে।
সুতরাং কথিত ফ্যাশন, স্মার্টনেস প্রমাণ, বন্ধু-বান্ধব ও সমাজের সাথে তাল মিলিয়ে চলা, স্ত্রীকে খুশি করা, সমাজের কটু কথা ও বাঁকা দৃষ্টি থেকে বাঁচা ইত্যাদি কারণে দাড়ি কাটা, ছাটা বা মুণ্ডন করা নাজায়েজ বা হারাম।
আর এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বর্তমান দীন বিমুখ সমাজে দীন নিয়ে বেঁচে থাকতে হলে সকল ভ্রুকুটি ও ঝড়ঝঞ্জা উপেক্ষা করে দৃঢ়ভাবে দীনের উপর দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। অন্যথায় এই সমাজ আমাদেরকে দীন থেকে দূরে সরিয়ে জাহান্নামের ভয়াবহ অগ্নিগর্ভে নিক্ষেপ করবে। আল্লাহ হেফাজত করুন। আমিন।
▬▬▬▬◢◯◣▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।
Share: