আল্লামা ড. শাইখ সালেহ আল ফাওজান-(হাফিযাহুল্লাহ)-এর ফতোয়া:
➧ উপস্থাপক: আলজেরিয়া—আল্লাহ এই দেশ ও সকল মুসলিম দেশকে হিফাজত করুন—সেখানকার মানুষ সাধারণত মালেকি মাজহাব অনুসরণ করেন। কিন্তু ফিতরার ক্ষেত্রে তারা ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মত অনুসরণ করে নগদ টাকা দিতে পছন্দ করেন। এখন প্রশ্ন হলো, ফিতরা কি টাকা দিয়ে আদায় করা যাবে? সাধারণ মুসলিম এবং বিশেষ করে আলজেরিয়ার মানুষের প্রতি আপনার নসিহত কী? আল্লাহ আপনাদের বরকত দান করুন।
➧ শাইখ সালেহ আল ফাওজান বলেন:
রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিতরা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তা হলো, এক সা’ (প্রায় ৩ কেজি) গম, অথবা এক সা’ যব, অথবা এক সা’ খেজুর, অথবা এক সা’ কিসমিস, অথবা এক সা’ পনির (পনির জাতীয় দুগ্ধজাত খাবার)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে গ্রাম বা শহর—সবখানেই এই খাবারগুলো পাওয়া যেত। বর্তমান সময়ে যদি এই খাবারগুলোর বদলে অন্য কোনো খাবার প্রচলিত থাকে তবে তা দিয়ে ফিতরা আদায় করা জায়েজ।
মূল কথা হলো, হাদিসে যেভাবে এসেছে—মানুষের প্রধান খাদ্য হিসেবে গণ্য এমন খাবার থেকে এক সা’ পরিমাণ আদায় করতে হবে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে দিনার ও দিরহাম (নগদ অর্থ) প্রচলিত থাকা সত্ত্বেও তিনি টাকা দেওয়ার আদেশ দেননি।
এখন প্রশ্ন হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কেন টাকার কথা উল্লেখ না করে শুধু খাবার দেওয়ার আদেশ দিলেন?
সুতরাং আমাদের উচিত হবে হাদিসে যা এসেছে তা-ই মেনে চলা। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্পষ্ট হাদিসের বিপরীতে কোনো মতামত বা ফতোয়ার দিকে তাকানো উচিত নয়। এটাই হলো প্রকৃত দায়িত্ব।
➧ উপস্থাপক: এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছেন— “আমি ফিতরা নগদে টাকা দ্বারা আদায় করেছি। কিন্তু আমার বাবা তা খাবার (খাদ্যদ্রব্য) দিয়ে আদায় করেছেন। আমাদের মধ্যে কার কাজটা সঠিক হয়েছে? মেহেরবানি করে জানাবেন।”
➧ শাইখ সালেহ আল ফাওজান: আপনার বাবার কাজটাই সঠিক হয়েছে। ফিতরা খাদ্যদ্রব্য দিয়ে আদায় করাই হলো সঠিক পদ্ধতি। অবশ্যই এক সা’ পরিমাণ খাবার দিতে হবে। আর এক সা’-এর ওজন বর্তমানে প্রায় ৩ কেজি।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
অনুবাদ এবং গ্রন্থনা:
আব্দুল্লাহিল হাদি বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন সৌদি আরব।