হারাম অর্থ দ্বারা সৎ কাজ

প্রশ্ন: আমি জানতে পেলাম, এক জায়গায় কিছু মানুষ অনাহারে আছে। তারপর আমি এক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে কিছু টাকা হাতিয়ে নিলাম। তারপর সেই টাকা দ্বারা গরিবদের খাবারের ব্যবস্থা করলাম ও বাকি টাকা দিয়ে কুরবানি করলাম। এতে আমার কি সওয়াব হবে নাকি গুনাহ হবে? (বি:দ্র: বর্তমান প্রেক্ষিতে)

উত্তর:
ইসলামের দৃষ্টিতে ধোঁকাবাজি বা প্রতারণা করা কবিরা গুনাহ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
« مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا »
“যে আমাদেরকে ধোঁকা দেয় সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।” (সহিহ মুসলিম: ১০১) অর্থাৎ সে ইসলামের আদর্শ থেকে বিচ্যুত।
এটি প্রচলিত আইনেও এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
সুতরাং আপনি যদি প্রতারণার মাধ্যমে কারো অর্থ আত্মসাৎ করেন তাহলে তার অপরাধের মাত্রা তৃগুণ। যেমন:
◆ (১) প্রতারণা ও অনৈতিক কাজ।
◆ (২) অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস-যা হক্কুল ইবাদ বা মানুষের অধিকার হরণের শামিল।
কিয়ামত দিবসে মহান আল্লাহ ন্যায় বিচারের মাধ্যমে প্রতারণা কারীর নেকিগুলো প্রতারিত ব্যক্তির আমলনামায় দিবেন এবং তার গুনাহগুলো প্রতারণা কারীর উপর চাপিয়ে দিবেন। অবশেষে প্রতারণাকারী নি:স্ব অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে-যদি দুনিয়ায় সে যার সম্পদ হরণ করেছিলো তাকে তার সমূদয় সম্পদ ফেরত না দেয় বা তার নিকট থেকে ক্ষমা প্রাপ্ত না হয়। (হাদিসে মুফলিস)

◆ (৩) প্রতারণা করার মাধ্যমে দেশের আইন লঙ্ঘন করত: দেশে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা।
এ জন্য সরকারের অধিকার আছে, জনগণের সুরক্ষা ও দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার স্বার্থে প্রতারককে গ্রেফতার করে আইন অনুযায়ী শাস্তি প্রদানের।

◯ আর ঠকবাজি, প্রতারণা বা অন্য কোন হারাম মাধ্যমে উপার্জিত সম্পদ দ্বারা কুরবানি করলে তা আল্লাহর দরবারে গৃহীত হবে না। কারণ হাদিসে এসেছে:
إنَّ الله طَيِّبٌ لا يَقْبَلُ إلاَّ طيِّباً
“নিশ্চয় আল্লাহ পবিত্র। তিনি পবিত্র জিনিস ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করেন না।” (সহিহ মুসলিম) সুতরাং প্রতারণার মাধ্যমে উপার্জিত এই নাপাক সম্পদ দ্বারা কুরবানি আল্লাহর নিকট প্রত্যাখ্যাত হবে।

◯ আপনি যদি দরিদ্র পীড়িত, অনাহারী ও অসহায় মানুষের সন্ধান পান তাহলে যথাসম্ভব আপনার নিজস্ব সম্পদ থেকে অথবা বিত্তবানদের সহযোগিতায় তাদের সাহায্য-সহযোগিতা ও ক্ষুধা নিবারণের চেষ্টা করবেন। অনাহারীর মুখে খাবার তুলে দেয়া ও তাদের দু:খ-দুর্দশা লাঘবের কারণে এতে বিরাট সওয়াব পাবেন ইনশাআল্লাহ। কিন্তু কোনোভাবেই অন্যের সম্পদ হরণ করার সুযোগ নাই।

➧ মনে রাখতে হবে, যাদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব আপনার স্কন্ধে অর্পিত নয় তাদের দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করা আপনার জন্য ওয়াজিব নয় বরং মুস্তাহাব বা নেকির কাজ। কিন্তু প্রতারণা করা ও অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ হরণ করা কঠিন হারাম ও কবিরা গুনাহ।
সুতরাং একটা মুস্তাহাব কাজ করার জন্য নিজে হারামে জড়িয়ে পড়া ও জাহান্নামের দিকে অগ্রসর হওয়া কোন সুস্থ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের কাজ হতে পারে না।
আল্লাহ তাআলা সব ধরণের অন্যায় থেকে আমাদেরকে হেফাজত করুন এবং মানুষের বিপদাপদ ও কষ্ট নিবারণ করুন। আমিন।

▬▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:

আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

Share On Social Media