স্বামী-স্ত্রীর বিষয়ে এক পক্ষের থেকে শুনে শুধু একজনকে খারাপ ভাবা এবং স্বামীর দোষত্রুটি সকলের কাছে বলা

▪️প্রশ্ন (১): স্বামী-স্ত্রীর বিষয়ে উভয় পক্ষের না শুনে এক পক্ষের থেকে শুনে শুধু একজনকে খারাপ ভাবলে কি গুনাহগার হতে হবে?▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: এক পক্ষের কথা শুনে অনেক সময় সত্য-মিথ্যা যাচাই করা যায় না। কারণ মানুষ অনেক সময় সত্য গোপন করে,‌ কথা ঘুরিয়ে বলে বা অতিরঞ্জন করে বলে। অনেক সময় মিথ্যা অপবাদও দেয়। তাই উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা জরুরি। এক পক্ষের কথা শুনে অপর পক্ষকে খারাপ ভাবলে এতে গুনাহ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। হতে পারে যে বলবে সে গিবত কারী হিসেবে এবং যে শুনবে সে গিবত শ্রবণকারী হিসেবে গুনাগার হবে।‌ তারপর মানুষের প্রতি কু ধারণার কারণেও শ্রবণ কারী গুনাগার হতে পারে। আর ইসলামের দৃষ্টিতে গিবত বা পরচর্চা করা, তা শ্রবণ করা, মানুষের প্রতি কুধারণা পোষণ করা ইত্যাদি সবই সামাজিক অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণ, অসৎ চরিত্রের প্রমাণ এবং হারাম কাজ।

🔸 ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাদমান উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পূর্বে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা জায়েজ নেই:

আলি রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
إِذَا تَقَاضَى إِلَيْكَ رَجُلاَنِ فَلاَ تَقْضِ لِلأَوَّلِ حَتَّى تَسْمَعَ كَلاَمَ الآخَرِ فَسَوْفَ تَدْرِي كَيْفَ تَقْضِي
“তোমার কাছে যখন দুই ব্যক্তি বিচার প্রার্থনা করে তখন অপর জনের কথা না শোনা পর্যন্ত প্রথম জনের কথার উপর ফায়সালা দিবে না। তাহলে অচিরেই তুমি জানতে পারবে তুমি কিভাবে বিচার করবে।”
আলি রা. বলেন, এরপর থেকে আমি বিচারক হিসাবে থেকেছি (অর্থাৎ আল্লাহর রাসুলের এই নির্দেশনার পর থেকে আমি বিচারকার্যে কখনো সন্দেহ-সংশয়ের মধ্যে পড়িনি)। [ইরওয়া ২৬০০, তিরমিজী হাদিস নম্বর: ১৩৩১ [আল মাদানী প্রকাশনী]

▪️প্রশ্ন (২): কেউ যদি নিজ স্বামীর দোষত্রুটি সমূহ সকলের কাছে গিয়ে বলে সেটা কি গুনাহের শামিল?▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: স্বামী বা স্ত্রীর ব্যক্তিগত দোষ-ত্রুটি যেখানে-সেখানে মানুষের কাছে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা জায়েজ নয় যদিও তাদের মাঝে বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটে অথবা স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে। কারণ তা আমানতের খেয়ানত, গোপনীয়তা লঙ্ঘন, বিশ্বাসঘাতকতা এবং গিবত। এসবগুলোই ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত গর্হিত ও নিন্দনীয়। আত্মমর্যদাহীন কাজ, হীন মানসিকতা এবং নিচু চরিত্রের প্রমাণ তো বটেই।

তবে স্বামী বা স্ত্রী যদি জুলুম-নির্যাতন করে তাহলে শুধু এমন জায়গায় তার অন্যায় ও জুলুম সম্পর্কে বলা জায়েজ যেখানে সুবিচার পাওয়ার আশা করা যায়। যেমন: বিচারক, প্রশাসন, দায়িত্বশীল ব্যক্তি ইত্যাদি। এক্ষেত্রে তা গিবত বলে পরিগণিত হবে না।
আল্লাহ আমাদেরকে সব ধরনের অকল্যাণ থেকে হেফাজত করুন এবং আমাদের গুনাহ গুলো ক্ষমা করুন। আমিন
আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

Share On Social Media