কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

স্বদেশ প্রেম ঈমানের অঙ্গ-এ কথা কি সঠিক

প্রশ্ন: “স্বদেশ প্রেম ঈমানের অঙ্গ”-এ কথা কি সঠিক? দেশের প্রতি আমাদের দায়িত্ব কতটুকু?

উত্তর:
আমাদের দেশের মানুষের মুখে মুখে, বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তৃতায় প্রায় শোনা যায়, পত্র-পত্রিকা এবং বই-পুস্তকেও লেখা থাকে “দেশ প্রেম ঈমানের অঙ্গ।” এমনকি কতিপয় বক্তার ওয়াজের মধ্যেও হাদিস হিসেবে বলতে শুনা যায়: ِحُبِّ الوَطَنِ مِنَ الإيمان “হুব্বুল ওয়াতানে মিনাল ঈমান-“দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ।”
কিন্তু হাদিস বিশারদগণের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নামে একটি মিথ্যাচার। মুহাদ্দিসদের পরিভাষায় এমন হাদিসকে মওযু বা বানোয়াট হাদিস বলা হয়।
বিশিষ্ট মুহাদ্দিস ইমাম সাগানী তার ‘আল মাওযূআত’ বা বানোয়াট হাদিস শীর্ষক গ্রন্থে এ হাদিস সম্পর্কে বলেন: موضوع বা বানোয়াট (হাদিস নং ৮১)
শাইখ আলবানী রহঃ বলেন:
“দেশপ্রেম ঈমানের অন্তর্ভুক্ত” এটি বানোয়াট হাদিস যেমনটি ইমাম সাগানী এবং অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ বলেছেন। এর মর্মার্থটিও সঠিক নয়। কারণ দেশের প্রতি ভালবাসা থাকা নিজের জীবন ও অর্থ-সম্পদের প্রতি ভালবাসা থাকার মতই একটি বিষয়। এগুলো মানুষের স্বভাবগত প্রবৃত্তি। সুতরাং এই ভালবাসা যেমন বিশেষ প্রশংসা পাওয়ার হকদার নয় তেমনি এটি ঈমানের অপরিহার্য অনুষঙ্গও নয়। কেননা, প্রতিটি মানুষের মধ্যেই এই ভালবাসা বিদ্যমান রয়েছে-চাই সে মুমিন হোক অথবা কাফের হোক।” (সিলসিলা যঈফা হাদিস নং ৩৬)
শাইখ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমীন রহ. বলেন:
“দেশকে ভালবাসা ঈমানের অঙ্গ” কথাটিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদিস হিসেবে বলা হয়ে থাকে। এটি একটি মিথ্যাচার। দেশকে ভালবাসতে হলে, এ কারণে ভালবাসতে হবে যে, সেটি ইসলামি রাষ্ট্র- চাই তা আপনার জন্মভূমি হোক বা দূরের কোনো দেশ হোক।সবগুলোই ইসলামী দেশ। প্রতিটি ইসলামি দেশকে রক্ষা করা আমাদের জন্য অপরিহার্য।”
(শাইখ আল্লামা উসাইমীন রহ. কর্তৃক রিয়াযুস সালেহীন গ্রন্থের ব্যাখ্যা)

যাহোক, দেশের প্রতি ভালবাসা থাকা মানুষের প্রকৃতিগত বিষয়। সকল ধর্মের লোকই তাদের দেশকে ভালবাসে। কিন্তু কোনো ইসলামি দেশের প্রতি ভালোবাসা থাকাটা মুসলিম ও সুনাগরিক হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, কোনো ইসলামী দেশ যদি কাফের দেশ দ্বারা আক্রান্ত হয় তখন ঐ দেশে বসবাসকারী প্রতিটি মুসলিমের জন্য সর্বাত্তকভাবে কাফেরদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা অপরিহার্য হয়ে যায়। আবার অন্য দিকে দেশ থেকে যদি ইসলাম পালন করা অসম্ভব হয়ে যায় এবং জান-মাল ও ইজ্জত-সম্ভ্রম অনিরাপদ পড়ে তখন দেশ ছেড়ে ‘হিজরত’ও করতে হতে পারে।

সুতরাং দেশকে ভালবাসতে হবে, একতাবদ্ধ থেকে দেশের কল্যাণে অবদান রাখতে হবে এবং দেশ বিরোধী সকল অন্যায় কার্যক্রম ও ষড়যন্ত্রের মোকাবেলায় প্রতিটি মুসলিমদেরকে প্রস্তুত থাকতে হবে। কিন্তু তা “দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ” এমন মিথ্যা হাদিসের উপর ভিত্তি করে নয় বরং দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ ও প্রকৃতিগত ভালবাসা থেকে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের দেশকে সকল ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা করুন এবং দেশের শত্রুদেরকে লাঞ্ছিত করুন। আল্লাহুম্মা আমীন।
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
(লিসান্স, মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব

Share This Post