কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

সূর্যগ্রহণের সময় সূর্যের দিকে তাকানো যাবে না এ কথা কি সঠিক

প্রশ্ন: “সূর্যগ্রহণের সময় সূর্যের দিকে তাকানো যাবে না।” এ কথা কি সঠিক?
———————
উত্তর:
যদি বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রমাণিত হয় যে, সূর্যগ্রহণের সময় সূর্যের দিকে তাকালে চোখ বা অন্য কনো স্বাস্থ্যগত
ক্ষয়-ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে তাহলে সে দিকে তাকানো থেকে বিরত থাকাই কর্তব্য।
ইসলামের দৃষ্টিতে যে কাজে ক্ষতি রয়েছে তা করা নিষেধ। যেমন:

▪ আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ ۛ

“আর তোমরা নিজেরকে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ করো না।” (সূরা বাকারা: ১৯৪)

▪ আব্দুল্লাহ ইবনে ‘আব্বাস ও ’উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ

‘‘তোমরা নিজের বা অন্যের ক্ষতি করতে পারবে না এবং তোমরা পরস্পর (প্রতিশোধের ভিত্তিতে) একে অপরের ক্ষতি করতে পারবে না।’’। (ইবনে মাজাহ্ ২৩৬৯, ২৩৭০)

অর্থাৎ যে সকল কথা, কাজ ও আচরণ দ্বারা নিজের অথবা অন্যের শারীরিক, মানসিক, অর্থ-সম্পদ, মর্যাদা-সম্ভ্রম ইত্যাদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইসলামে তা করা বৈধ নয়।

🌒 বাংলাদেশের অন্যতম জাতীয় দৈনিক যুগান্তরে বলা হয়েছে:

খালি চোখে এই গ্রহণ দেখতে না করেছে নাসা। চোখে কয়েক সেকেন্ডের জন্য সূর্য গ্রহণ দেখলেও তা রেটিনার ওপর প্রভাব ফেলে। যার কারণে একটা চোখে দৃষ্টিশক্তিও হারাতে পারে মানুষ।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, বিশেষ গ্রহণ গ্লাস বা সোলার ফিল্টার দিয়েই এই গ্রহণ দেখা উচিত। বাজারে আইএসও স্বীকৃত বিশেষ সোলার গ্লাস দিয়ে একমাত্র এই গ্রহণ দেখা নিরাপদ। সে সব গ্লাস ব্যবহারের আগে অবশ্যই ব্যবহার নির্দেশিকা পরে নিতে উপদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কোনোভাবে সেই গ্লাস ভাঙা বা দাগ থাকলে ব্যবহার করতে না করেছে তাঁরা।

পেরিস্কোপে, টেলিস্কোপ, সানগ্লাস বা দূরবীন, কোনও কিছুর সাহায্যে গ্রহণ দেখার সময় সূর্যের দিকে সরাসরি তাকাতে বারণ করা হয়েছে। গ্রহণের সময় সূর্য রশ্মি অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে যা চোখে প্রভাব ফেলতে পারে। সানগ্লাস বা ঘষা কাঁচ দিয়েও এই গ্রহণ দেখতে বারণ করেছে নাসা। কারণ এইগুলো নিরাপদ না।
(যুগান্তর, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৯)
আল্লাহু আলাম।
আল্লাহ আমাদেরকে সব ধরণের বিপদাপদ থেকে রক্ষা করুন। আমীন।
——————
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

Share This Post