কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

সালাতে শেষ সম্মিলিত মুনাজাত করার হুকুম

প্রশ্ন: আমরা শুনেছি, সম্মিলিত মুনাজাত নাকি বিদআত। কিন্তু আমাদের বাসার কাছে মসজিদে জুম্মার নামাজের পরে সবসময়ই অনেক সময় নিয়ে সম্মিলিত মুনাজাত হয়। আমি ইমাম সাহেবকে এই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে উনি বললেন, “অনেক মানুষ একসাথে হাত উঠালে সেই দুয়া তাড়াতাড়ি আল্লাহর দরবারে কবুল হয়।” আমি কি এই মুনাজাতে অংশ নিব?

উত্তর:

সম্মিলিত দুয়া অর্থাৎ ‘একজন ব্যক্তি দুআ বলবে আর বাকি লোকজন আমীন আমীন বলবে’ এভাবে দুয়া করা বৃষ্টি প্রার্থনা, বৃষ্টিবন্ধ করা এবং দুআয়ে কুনুত ছাড়া নবী সা. থেকে অন্য কোথাও প্রমাণিত নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সারা জিন্দেগীতে কোন এক দিনের জন্যও সালাত শেষে সাহাবীদেরকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে দুআ করেছেন বলে প্রমাণ নেই। সুতরাং তা বিদআত।

বরং তিনি সালাত শেষে অনেক যিকির, তাসবীহ ও দুআ পাঠ করেছেন। সেগুলো বহু বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা সুপ্রমাণিত।
কিন্তু দুর্ভাগ্য বশত: আমাদের সমাজের বেশিরভাগ মসজিদে জামআতে সালাত শেষ করে মাসুনূন দুয়া ও যিকিরগুলো খুব কমই আমল করা হয় বরং বিভিন্ন অগ্রহযোগ্য দলীল ও যুক্তি দিয়ে সম্মিলিত দুয়াকে আজ পর্যন্ত ধরে রাখা হয়েছে!! তাদের এ সব যুক্তির মধ্যে একটি হল, “একসাথে দুআতে অনেক মানুষ হাত উঠালে দুয়া কবুল হয়!!”
কোন হাদীসের ভিত্তিতে তারা এ কথা বলেন?
প্রকৃতপক্ষে এটি একটি দলীল বর্হিভূত ও ভিত্তিহীন বক্তব্য। যদি এ কথা সঠিক হত, তাহলে রাসূল সা. অবশ্যই নিজে তা আমল করতেন এবং তার উম্মতকে শিক্ষা দিতেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এমন কোন হাদীস পাওয়া যায় না।

সুতরাং আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেবদের কতর্ব্য, সুন্নাহ বর্হিভূত তথাকথিত ‘সম্মিলিত মুনাজাত’ বর্জন করা এবং এ ব্যাপারে মুসল্লীদেরকে জ্ঞান দান করা। বিশেষ করে, সালাত পরবর্তী দুয়াগুলো নিজেরা পাঠ করা এবং মুসল্লীদেরকে পাঠ করতে বলার প্রতি উৎসাহিত করা।
অবশ্য মাসনূন দুয়াগুলো পাঠ করার পর, যে যার মত ইচ্ছা মাফিক হাত উঠিয়ে আল্লাহর নিকট কান্নাকাটি করে নিজের প্রয়োজন তুলে ধরে দুআ করতে পারে। এতে কোন আপত্তি নেই। প্রত্যেকেই নিজে নিজের সমস্যা ও চাওয়া-পাওয়া তুলে ধরে আল্লাহর কাছে চুপিস্বরে দুআ-মুনাজাত করবে-এটাই প্রকৃত দুআর আদব।

আল্লাহ আমাদের সমাজ থেকে সকল বিদআত বিদূরিত করে সুন্নাহর আলোকিত পথে ফিরে আসার তওফিক দান করুন। আমীন।
“““““““““““““““““““
*আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল*
লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সউদী আরব
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।

Share This Post