কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

শেষ তাশাহুদে সালাম ফিরানো পূর্বে দুনিয়া ও আখিরাতের যে কোন বিষয়ে কল্যাণ প্রার্থনা করে আল্লাহর নিকট দুআ করা জায়েয়

প্রশ্ন: নামাযের শেষ বৈঠকে তাশাহুদ, দরুদ শরীফ পড়ার পর সালাম ফেরানোর পূর্বে কি কুরআনের আয়াত এবং অন্যান্য সহিহ হাদিসে বর্ণিত দুআগুলো পড়তে পারব?

উত্তর:
শেষ বৈঠকে তাশাহুদ, দরুদ ও হাদিসে বর্ণিত দুআগুলো পাঠ করার পর দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ চেয়ে নিজের পছন্দমত যে কোন দু’আ করা জায়েয রয়েছে।
এ ক্ষেত্রে কুরআন ও হাদিসের দুআগুলো যথাসম্ভব পাঠ করার পর নিজের জন্য, নিজের পিতা-মাতা, স্বামী/স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি সহ সারা দুনিয়ার মুসলিমদের জন্য দু’আ করায় কোন দোষ নেই। দুনিয়া ও আখিরাতের কামিয়াবি, সুস্বাস্থ্য, অসুখ-বিসুখ ও বিপদাপদ থেকে মুক্তি কামনা, বৈধ মনোবাসনা পূরণ ইত্যাদি যে কোন বিষয়ে নিজের মত করে দুআ করা জায়েয রয়েছে। হাদিসে সেজদা অবস্থায় যেভাবে অধিক পরিমাণে দুআ করতে উৎসাহিত করা হয়েছে শেষ তাশাহুদে সালাম ফেরানোর পূর্বে সেভাবে অধিক পরিমাণে দুআ করতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
এই দু’আ করার বিষয়ে ফরজ অথবা নফল নামাযে কোন পার্থক্য নেই। যথাসম্ভব কুরআন ও হাদিসের দুআগুলো পাঠ করার পর নিজের প্রয়োজন তুলে ধরে নিজ মাতৃ ভাষায়ও দুআ করা জায়েয রয়েছে ইনশাআল্লাহ (দুটি মতের মধ্যে এটি অধিক নির্ভরযোগ্য মত ইনশাআল্লাহ )।
কারণ হাদিসে বর্ণিত হয়েছ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. কে তাশাহুদ শিক্ষা দিচ্ছিলেন তখন বলেছেন:
ثُمَّ لِيَتَخَيَّرْ مِنَ الدُّعاَءِ أَعْجَبَهُ إِلَيْهِ فَيَدْعُوْ
”অত:পর তার কাছে যে দু’আ পছন্দনীয়, তা নির্বাচন করে দু’আ করবে।”
অন্য এক বর্ণনায় আছে,
ثُمَّ يَتَخَيَّرْ مِنَ الْمَسْأَلَةِ مَا شَاءَ
“অতঃপর যা ইচ্ছা চেয়ে দু’আ করতে
(সহীহ আবু দাউদ, হা/৯৬৮, সহীহুল জামে হা/৭৪০৩, সহীহ।)

মোটকথা, এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টিতে আমাদের এমন সব দুআ নির্বাচন করা উচিৎ, যেগুলো আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতের সকল প্রকার কল্যাণকে শামিল করে। কারণ এটি দুআ কবুলের অন্যতম সম্ভাবনাময় স্থান। আল্লাহ আমাদেরকে তাওফিক দান করুন।
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল (মাদানি)
জুবাইল, সৌদি আরব

Share This Post