কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের সমন্বয়ে পিকনিকের আয়োজন, ব্যবস্থাপনা এবং তাতে অংশ গ্রহণের বিধান

স্কুল, মাদরাসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের সমন্বয়ে পিকনিকের আয়োজন, ব্যবস্থাপনা এবং তাতে অংশ গ্রহণের বিধান
▬▬▬🔹🔶🔹▬▬▬
প্রশ্ন: কলেজ ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রতি বছর ছাত্র-ছাত্রীদের সমন্বয়ে পিকনিকের আয়োজন করা হয়।
এখানে থাকে নাচ, গান এবং বিভিন্ন ধরণের আনন্দ-বিনোদন মূলক কার্যক্রম।
ইসলামের দৃষ্টিতে এ সব তো ঠিক নয়। কিন্তু কলেজের চেয়ারম্যান হিসেবে একজন ম্যাডামকে ঐ পিকনিকে অংশগ্রহণ করতে হচ্ছে। না গেলে হবে না। তাই দয়া করে
এ ব্যাপারে একটু নসিহত ও নির্দেশনা পেশ করবেন।
উত্তর:
যে সব অনুষ্ঠানে নন মাহরাম নারী-পুরুষ/ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে একত্রে অবস্থান করে (পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা থাকে না), মেয়েরা বেপর্দা অবস্থায় চলাফেরা করে, নাচ ও গান-বাজনা অনুষ্ঠিত হয় সে সব অনুষ্ঠানে কোনো মুসলিম পুরুষ অথবা নারীর অংশ গ্রহণ করা বৈধ নয়। কেননা এগুলো হল শয়তান কর্তৃক পরিচালিত পাপাচারের অনুষ্ঠান। ইসলামের দৃষ্টিতে গান-বাজনা, নন মাহরাম ছেলেমেয়েদের সহবস্থান, মাহরাম পুরুষ ব্যতিরেকে মহিলাদের দূরে সফর করা, পর্দা হীনতা ইত্যাদি সবই হারাম ও গর্হিত কাজ।

 বিশেষ করে যদি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ-তরুণীদের সমন্বয়ে কোন কনসার্ট, গান-বাজনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় অথবা লোকালয় থেকে দূরে কোথাও শিক্ষা সফর বা পিকনিকের মত অনুষ্ঠান হয় (যেখানে নাচ, গান, মিউজিক ও যুবক যুবতীদের আনন্দ-বিনোদনের বিস্তর সুযোগ থাকে এবং মেয়েরা মাহরাম পুরুষ ছাড়া সফর করে) তখন সেখানে কী পরিমাণ ফেতনা ও আল্লাহর নাফরমানী মূলক কাজ সংঘটিত হতে পারে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ শয়তান এ সব স্থানে অশ্লীলতা ও প্রবৃত্তির কামনা-বাসনাকে উসকিয়ে দেয় এবং পাপাচারকে আরও আকর্ষণীয়ভাবে তাদের সামনে তুলে ধরে।
সুতরাং কোনো স্কুল, মাদরাসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এ জাতীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা বা পৃষ্ঠপোষকতা করা যেমন হারাম তেমনি এ সব অনুষ্ঠানে কোনো দ্বীনদার আত্ম মর্যাবান মুসলিমের অংশগ্রহণ করাও হারাম।

 যাহোক, কোনো ব্যক্তি যদি এ সকল সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর সুবাদে ছেলেমেয়েদের নিয়ে এ জাতীয় শিক্ষা সফরের আয়োজনের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয় বা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে অংশ গ্রহণ করা জরুরি হয় কিংবা শিক্ষার্থীদের জন্য যদি এগুলোতে অংশ গ্রহণ বাধ্যতা মূলক হয় তাহলে প্রথমত: কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে এ সব অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ থেকে দূরে থাকবে। তাও সম্ভব না হলে বিভিন্ন ওজুহাতে দূরে থাকার চেষ্টা করবে। কিন্তু তাও সম্ভব না হলে অন্তরে ঘৃণা বোধ রেখে সবার সাথে যাবে ঠিক কিন্তু নিজে গানবাজনা, বেপর্দা, ছেলেমেয়েদের সংমিশ্রণ ইত্যাদি আল্লাহর নাফরমানী মূলক কার্যক্রম থেকে দূরে থাকবে এবং অন্যদেরকে দূরে রাখার চেষ্টা করবে। সেই সাথে মহান আল্লাহর নিকট তওবা-ইস্তিগফার করবে।

 তবে মনে রাখা প্রয়োজন যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বা দায়িত্বশীল ব্যক্তির উপর অপরিহার্য হল, তার প্রতিষ্ঠানে কোন ধরণের আল্লাহর নাফরমানী মূলক কার্যক্রমকে সুযোগ না দেয়া। যদি সে এই দায়িত্ব পালন না করে বা ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে শরিয়া বিরোধী কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দেয় তাহলে সে জন্য অবশ্যই তাকে কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাঠগড়ায় জবাবাদাহির সম্মুখীন হতে হবে। কেননা হাদিসে এসেছে:
আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
أَلاَ كُلُّكُمْ رَاعٍ، وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، فَالإِمَامُ الَّذِي عَلَى النَّاسِ رَاعٍ وَهْوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، وَالرَّجُلُ رَاعٍ عَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ وَهْوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ عَلَى أَهْلِ بَيْتِ زَوْجِهَا وَوَلَدِهِ وَهِيَ مَسْئُولَةٌ عَنْهُمْ، وَعَبْدُ الرَّجُلِ رَاعٍ عَلَى مَالِ سَيِّدِهِ وَهْوَ مَسْئُولٌ عَنْهُ، أَلاَ فَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ
“জেনে রেখো! তোমাদের প্রত্যেকেই একজন দায়িত্বশীল; আর তোমরা প্রত্যেকেই নিজ অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।
– অতএব ইমাম (শাসক), যিনি জনগণের দায়িত্বশীল তিনি তার অধীনস্থ (প্রজা সাধারণ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন।
– পুরুষ গৃহকর্তা তার পরিবারের দায়িত্বশীল; সে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।
– নারী তার স্বামীর পরিবার, সন্তান-সন্ততির উপর দায়িত্বশীল, সে এসব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।
– কোন ব্যাক্তির দাস স্বীয় মালিকের সম্পদের দায়িত্বশীল; সে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।
জেনে রাখ, প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্বাধীন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।” [সহীহ বুখারী, হাদিস নম্বরঃ [6653], অধ্যায়ঃ ৮২/ আহকাম (كتاب الأحكام), ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আল্লাহ হেফাজত করুন।]

 সত্যি আমাদের এ পাপ-পঙ্গিলতাপূর্ণ সমাজে দ্বীন, ঈমান ও আখলাক নিয়ে চলা অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যথার্থই বলেন:
يأتي على الناسِ زمانٌ ، الصابرُ فيهِم على دينِه ، كالقابضِ على الجَمْرِ
“অচিরেই মানুষের নিকট এমন একটি সময় আসবে যখন ধৈর্যের সাথে দ্বীন পালনকারীর অবস্থা হবে হাতের মুঠের মধ্যে আগুনের আঙ্গার ধারণকারীর মত।” [সহীহুল জামে, হা/৮০০২, সহীহ]
আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন। আমীন।

উত্তর প্রদানে:
শাইখ আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

Share This Post