কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

রমজান ও তারাবীহ সংক্রান্ত কতিপয় সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন:
১) তারাবীর নামাজ কত রাকাত পড়া সুন্নত?
২) সুন্নত নামাজে কি ৪ রাকাতেই সুরা মিলাতে হয়?
৩) তারাবীহ এর ৪ রাকাতে বসে বসে কি কি দোয়া করব অথবা মুনাজাত বা জিকির করবো?
৪) রমজানে কি কবরের আযাব মাফ থাকে?
৫) সহবাসে যদি রোজা ভাঙ্গে তবে কী করতে হয়?
৬) অতীতে ফরয রোজা কারণ বশত: ছুটেছে। এখন কি যে কোন সময় তা কাযা করতে পারব?
৭) রমজান মাসে কি তাহাজ্জুদ পড়তে হয়?

উত্তর:

১) তারাবীহ এর সালাত ৮ রাকাআত পড়া উত্তম। তবে ২০ রাআত পড়া জায়েয। ইচ্ছে করলে তার কম ও বেশি করা যেতে পারে আগ্রহেরে উপর ভিত্তি করে।
২) সুন্নাত নামায দু রাকাআত দু রাকাআত করে পড়া অধিক উত্তম। তবে যোহরের পূর্বে কখনো কখনো দুই তাশাহুদে চার রাকআত পড়া জায়েয আছে।
এ ক্ষেত্রে ফরজ ও সুন্নতে নিয়ত ও একামত ছাড়া আর কোন পার্থক্য নাই। সুতরাং পরের দু রাকাআতে কেবল সূরা ফাতিহা পাঠ করবেন; অন্য কোন সুরা মিলাবেন না।
৩) প্রতি দু রাকআত পরে সালাম ফিরানোর পর পাঠ করবেন:

أَسْـتَغْفِرُ الله، أَسْـتَغْفِرُ الله، أَسْـتَغْفِرُ الله. اللّهُـمَّ أَنْـتَ السَّلامُ ،وَمِـنْكَ السَّلام ، تَبارَكْتَ يا ذا الجَـلالِ وَالإِكْـرام
এছাড়াও অন্যান্য দুআ-তাসবীহ পাঠ করা যাবে।
তবে প্রতি চার রাকআত পরপর “সুবহানা যিল মুলকি ওয়াল মালাকুতে…” এ দুআ পাঠ করার ব্যাপারে কোন হাদিস এসেনি। তাই নিয়ম করে তা পাঠ করা বিদআত।
৪) রামযানে কবরের আযাব মাফ থাকে-এ কথা সঠিক নয়।
৫) রোযা রাখা অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করলে তার জন্য তওবার পাশাপাশি কাফফারা হল,
✪ ক. একটি গোলাম আযাদ করা
✪ খ. তা সম্ভব না হলে ধারাবাহিকভাবে দুমাস রোযা থাকা
✪ গ. তাও সম্ভব না হলে ৬০ জন গরীব-মিসকিনকে খাবার খাওয়ানো।
৬) ওজর বশত: রোযা ছুটে গেলে করণীয় হল, সেগুলো পরবর্তী রোযা আসার পূর্বে যে কোন সময় কাযা করে নেয়া।
৭) রামাযানে তারাবীহ পড়াই যথেষ্ট। তবে কেউ ইচ্ছে করলে শেষ রাতে তাহাজ্জুদও পড়তে পারে। আল্লাহু আলাম।
◆◆◆◆◆❖❖❖◆◆◆◆◆◆
উত্তর প্রদানে:
শাইখ আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

Share This Post