কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

যোহর ও আসরে নীরবে আর মাগরিব, ইশা ও ফজরে সরবে কিরাআত পাঠের কারণ কি?

প্রশ্ন: পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের মধ্যে তিন ওয়াক্ত নামাযে আওয়াজ করে এবং অন্য দুই ওয়াক্তে চুপি স্বরে কিরাআত পড়া হয়। এর কারণ কি?

উত্তর:

🔶 ১মত: আমাদের করণীয়, ইবাদত-বন্দেগীতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসরণ করা। কেননা আল্লাহ বলেন:
لَّقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّـهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ
“নিশ্চয় তোমাদের জন্য জন্যে রসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।” (সূরা আহযাব: ২১)
তাছাড়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي
“তোমরা আমাকে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখ, সেভাবে সালাত আদায় কর” (বুখারী ও মুসলিম)
সুতরাং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেহেতু যোহর ও আসর এর নামাযে নীরবে কিরাআত পড়েছেন আর মাগরিব, ইশা ও ফজর সালাতে সরবে কিরাআত পড়েছেন সেহেতু আমাদের জন্য সেভাবেই করা আবশ্যক। আমাদের কাজ অনুসরণ করা। কারণ বা হেকমত অনুসন্ধান করা আমাদের দায়িত্ব নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ ٱلْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوٓا۟ إِلَى ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَن يَقُولُوا۟ سَمِعْنَا وَأَطَعْنَاۚ وَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُفْلِحُونَ
“যখন বিশ্বাসীদেরকে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেওয়ার জন্য আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের দিকে আহবান করা হয়, তখন তারা তো কেবল এ কথাই বলে, ‘আমরা শ্রবণ করলাম ও মান্য করলাম।’ আর তারাই হল সফলকাম।” (সূরা আন-নূর: ৫১)

🔶 ২মত: কোন কোন আলেম বলেছেন, দিনের দু ওয়াক্ত সালাত (যোহর ও আসর) এ নীরবে কিরাআত পড়ার কারণ হতে পারে, (আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন) মানুষ দিনের বেলা ব্যবসা-বাণিজ্য, চাষাবাদ ও নানা দুনিয়াবি কাজে ব্যস্ত থাকে। এ সময় ইমাম যদি উচ্চ আওয়াজে কিরাআত পাঠ করে তাহলে মানুষ দুনিয়াবি ব্যস্ততার দরুন সে দিকে ভালোভাবে মনোযোগ দিতে পারবে না। তাই এ সময় কুরআন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা এবং সালাতে অধিক ভয়-ভীতি ও একনিষ্ঠতা সৃষ্টির জন্য নীরবে কিরাআত পাঠ করাই অধিক উপযুক্ত।
পক্ষান্তরে রাতে মানুষ সাধারণত: কর্মব্যস্ততা থেকে মুক্ত হয়, মানুষে মন শান্ত ও স্থির থাকে। এ সময়ে ইমাম আওয়াজ করে তিলাওয়াত করলে মুক্তাদীগণ অধিক মনোযোগ দিয়ে তা শুনতে এবং এটি তাদের অন্তরে অধিক প্রভাব সৃষ্টি করবে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّ نَاشِئَةَ اللَّيْلِ هِيَ أَشَدُّ وَطْئًا وَأَقْوَمُ قِيلًا
“মনোযোগ স্থাপন এবং কুরআন সঠিকভাবে পড়ার জন্য রাতের ইবাদত সর্বাধিক উপযুক্ত।” (সূরা মুযাম্মিল: ৬)
সর্বোপরি কথা হল, আমাদের উচিৎ যে কোন ইবাদতের হেকমত বা কারণ জানা যাক বা না যাক নি:শর্তভাবে ইসলামের বিধিবিধানগুলো অনুসরণ করা। এতেই আমাদের সার্বিক কল্যাণ ও মুক্তি নিহিত রয়েছে। আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমীন।
••••••••••••••••
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানী
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সউদী আরব।।

Share This Post