কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

যে নিয়তে যমযম পানি পান করা হয় সে নিয়তই পূর্ণ হয়।” এ হাদিসের ব্যাখ্যা কি?

প্রশ্ন: “যে নিয়তে যমযম পানি পান করা হয় সে নিয়তই পূর্ণ হয়।” এ হাদিসের ব্যাখ্যা কি?
কেউ যদি এ নিয়তে পান করে যে, ‘হাশরের দিন আল্লাহ যেন তাকে হাউযে কাওসারের পানি পান করান’ তাহলেও কি তা পূরণ হবে?
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
উত্তর:
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
« ﻣَﺎﺀُ ﺯَﻣْﺰَﻡَ، ﻟِﻤَﺎ ﺷُﺮِﺏَ ﻟَﻪُ ».
‘যমযম যে জন্য পান করা হয় তা হাসিল হয়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩০৬২)।

গুরুত্বপূর্ণ জানার বিষয় হল, উপরোক্ত হাদিসটি সহিহ-যঈফ হওয়ার বিষয়টি দ্বিমত পূর্ণ। অনেক মুহাদ্দিস এটিকে যঈফ বা দুর্বল হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। তবে অধিক বিশুদ্ধ অভিমত হল, এটি হাসান লিগাইরিহী যেমনটি বলেছেন, শাইখ আলবানী সহ অনেক হাদিস বিশারদ।

তবে অন্য একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে যেটি সর্বসম্মতভাবে সহীহ:
আবু যার রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
إِنَّهَا مُبَارَكَةٌ إِنَّهَا طَعَامُ طُعْمٍ وَشِفَاءُ سُقْمٍ
“নিশ্চয় তা (যমযমের পানি) বরকতময়। এটি তৃপ্তিদায়ক খাদ্য এবং রোগের আরোগ্য।” (ত্বাবারানী সগির ২৯৫, বাযযার ৩৯২৯, সহীহুল জামে’ ২৪৩৫)
অর্থাৎ এটি পিপাসা নিবারণের পাশাপাশি খাবারেও চাহিদা মেটাবে এবং রোগ-ব্যাধি থেকে আরোগ্য অর্জিত হবে ইনশাআল্লাহ।

❖ হাদিসটির ব্যাখ্যা:

যারা উপরোক্ত হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন, তাদের কথার উপর ভিত্তি করে আমরা বলব, কেউ যদি দুনিয়ার অথবা আখিরাতের যে কোন কল্যাণ অর্জনের বিশুদ্ধ নিয়ত, ইখলাস ও পূর্ণ আস্থা সহকারে যমযম পানি পান করে তাহলে আল্লাহ তাআলা তার উক্ত উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেন। তবে শর্ত হল, অবশ্যই এ ক্ষেত্রে এমন কোন বাধা থাকতে পারবে না যা উক্ত উদ্দেশ্য পূরণের জন্য প্রতিবন্ধক হয়।

সুতরাং কেউ যদি রোগ মুক্তি, আয়-উন্নতি, বিপদাপদ থেকে উদ্ধার, শয়তানী ওয়াসওয়াসা থেকে হেফাজত, ইলম অর্জন ইত্যাদি যে কোন দুনিয়াবি বৈধ কাজের নিয়তে পান করে অথবা গুনাহ মোচন, হাশরের ময়দানে হাউযে কাওসারের পানি পান, জান্নাতে প্রবেশ ও জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ ইত্যাদি নিয়তে তা পান করে অবশ্যই তার নিয়ত পূরণ হবে হবে ইনশাআল্লাহ। তবে যদি এ সকল নিয়ত পূর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে কোন প্রতিবন্ধকতা থাকে তাহলে তার ইচ্ছা পূরণ হবে না। যেমন কেউ যদি শিরক-বিদআত ও পাপাচারে লিপ্ত থাকে আর হাউযে কাওসারের পানি পান করা অথবা জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ লাভ ইত্যাদি নিয়তে যমযমের পানি পান করে তাহলে তা পূরণ হবে না।

অনুরূপভাবে যে উদ্দেশ্যে যমযম পানি পান করেছে তা পূরণ না হওয়াতেই যদি তার কল্যাণ নিহিত থাকে তাহলেও আল্লাহ তার উক্ত মনোবাসনা পূর্ণ না করে অন্যভাবে তার কল্যাণ সাধন করবেন। কারণ একমাত্র আল্লাহ তাআলা বান্দার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানেন এবং তিনি জানেন, বান্দার কল্যাণ কোথায় নিহিত রয়েছে।

সুতরাং কোন নিয়ত বা মনোবাসনা পূর্ণ না হলে কু ধারণা পোষণ করা যাবে না বা হাদিসের প্রতি আস্থা হারানো যাবে না-যেমন দুআ কবুলের বিষয়টি।
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, KSA

Share This Post