কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

যারা ভাষার জন্য মৃত্যুবরণ করেছেন তাদেরকে কি ‘শহীদ’ বলা যাবে?

প্রশ্ন: যারা ভাষার জন্য মৃত্যুবরণ করেছেন তাদেরকে কি ‘শহীদ’ বলা যাবে?’
▬▬▬❖❖❖▬▬▬
উত্তর:
শহীদ একটি ইসলামী পরিভাষা। সুতরাং এটি ইসলামের সাথে সম্পর্কিত বিষয়। ইসলামের শহীদের মর্যাদা অতুলনীয়। শহীদ মৃত্যুবরণ করার সাথে সাথেই জান্নাতের নিয়ামত ভোগ করতে থাকে।
এটি কোন রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিভাষা নয়। তাই ইসলামের দেখানো নির্দেশনা ছাড়া অন্য কোন কিছুর সাথে এটিকে সম্পৃক্ত করা উচিৎ নয়।
ইসলামের দৃষ্টিতে তাকেই শহীদ বলা হয়, যে একমাত্র আল্লাহর বিধানকে উচ্চকিত করার উদ্দেশ্যে নিহত হয়।

সুতরাং কেউ যদি শুধু দেশ, ভাষা, আঞ্চলিকতা, রাজনৈতিক স্বার্থ, বংশগত আভিজাত্য কিংবা ব্যক্তিগত আক্রোশে যুদ্ধ বা মারামারিতে লিপ্ত হয়ে নিহত হয় তাহলে সে শহীদ হবে না।
কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্য যে, আমাদের সমাজে এই মর্যাদাপূর্ণ বিশেষণটি রাজনৈতিক স্বার্থে হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান, নাস্তিক যে কারও ব্যাপারে প্রয়োগ করা হচ্ছে!

 কুরআন-হাদিসের দৃষ্টিতে শহীদের পরিচয় ও মর্যাদা:

🔸 আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتٌ ۚ بَلْ أَحْيَاءٌ وَلَٰكِنْ لَا تَشْعُرُونَ
“আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়,তাদের মৃত বলো না বরং তারা জীবিত কিন্তু তোমরা তা অনুভব করতে পারো না।” (সূরা বাকারা-১৫৩)
🔸 আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:
فَلْيُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يَشْرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا بِالْآخِرَةِ ۚ وَمَنْ يُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيُقْتَلْ أَوْ يَغْلِبْ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا
“কাজেই আল্লাহর কাছে যারা পার্থিব জীবনকে আখিরাতের পরিবর্তে বিক্রি করে দেয় তাদের জেহাদ করাই কর্তব্য। বস্তুত: যারা আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করে এবং অতঃপর মৃত্যুবরণ করে কিংবা বিজয় অর্জন করে, আমি তাদেরকে বিশাল প্রতিদান দান করব।” (সূরা নিসা: ৭৪)

🔸 হাদিসের ভাষায় শহীদ:
عن أبي موسى قال : جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال : الرجل يقاتل للمغنم والرجل يقاتل للذكر والرجل يقاتل ليرى مكانه فمن في سبيل الله ؟ قال : ” من قاتل لتكون كلمة الله هي العليا فهو في سبيل الله
আবু মুসা রা. থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করল, “এক ব্যক্তি গনিমতের সম্পদ অর্জনের জন্য জিহাদ করল, একজন নিজের সুনামের জন্য জিহাদ করল, আরেকজন তার বীরত্ব দেখানোর জন্য যুদ্ধ করল। এদের মাঝে কে আল্লাহর আল্লার রাস্তায় যুদ্ধ করল?
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধান উচ্চকিত করতে যুদ্ধ করল সেই কেবল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করল।” [অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করে নিহত হল সেই শহীদ]। (সহীহ বুখারী, হাদিস নং-২৬৫৫, সহীহ মুসলিম, হাদিস নং-৫০২৯}

 *ইসলামের দৃষ্টিতে আরও যারা শহীদের অন্তর্ভুক্ত হবে:*

সাঈদ বিন যায়েদ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
من قتل دون ماله فهو شهيد ومن قتل دون أهله أو دون دمه أو دون دينه فهو شهيد
– ”যে ব্যক্তি নিজ সম্পত্তি রক্ষায় নিহত হয় সে শহীদ।
– যে ব্যক্তি নিজ পরিবার রক্ষায় নিহত হয় সেও শহীদ।
– অথবা প্রাণ রক্ষায় কিংবা দ্বীন রক্ষায় নিহত হয় সেও শহীদ।”
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং-৪৭৭৪, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং-১৬৫২)

 *আরও কতিপয় ব্যক্তি যারা শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করবে:*

জাবের বিন আতিক রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
الشهداء سبعة سوى القتل في سبيل الله المطعون شهيد والغرق شهيد وصاحب ذات الجنب شهيد والمبطون شهيد والحرق شهيد والذي يموت تحت الهدم شهيد والمرأة تموت بجمع شهيد
“আল্লাহর পথে মৃত্যুবরণ করা ছাড়াও সাত প্রকার শহীদ রয়েছে। যথা:
১) প্লেগ বা মহামারীতে মৃত্যুবরণকারী শহীদ।
২) পানিতে নিমজ্জিত হয়ে মৃত্যু বরণকারী শহীদ।
৩) প্লুরিসি (pleurisy বা ফুসফুসের আবরক ঝিল্লির বা পর্দার প্রদাহজনিত রোগবিশেষ) রোগে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি শহীদ
৪) পেটের রোগে মৃত্যুবরণকারী শহীদ।
৫) অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি শহীদ।
৬) দেয়াল বা অনুরূপ ধ্বংসাবশেষের নিচে পড়ে মৃত্যুবরণকারী শহীদ।
৭) সন্তান প্রসব করার সময় মৃত্যুবরণকারী নারীও শহীদ।” (মুয়াত্তা মালিক, হাদিস নং-৫৫৪, ৮০২, আল মু’জামুল কাবীর, হাদিস নং-১৭৮০, সহীহ কুনুজু সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ, হাদিস নং-২৩)
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✪✪✪▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানী
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব

Share This Post