মেথির উপকারিতা সংক্রান্ত হাদিসটি বানোয়াট

নিঃসন্দেহে মেথি ওষধি ও পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ একটি ভেষজ উপাদান। এটি শুধু তরকারির মসলা হিসেবে নয় বরং বিভিন্ন রোগ-ব্যাধির জন্যও কার্যকরী পথ্য হিসেবে কাজ করে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করেছেন। যুগ যুগ ধরে তা ইউনানী, কবিরাজী ও লোকজ চিকিত্‍সায় সমাদৃত হয়ে আসছে। কিন্তু এ বিষয়ে প্রচলিত হাদিসটি বানোয়াট। তা হল:
(لو يعلم الناس ما في الحلبة لاشتروها ولو بوزنها ذهباً)
“মানুষ যদি মেথির উপকারিতা জানত তাহলে স্বর্ণের ওজনে তা ক্রয় করতো।” [ত্ববারানি কাবির, মুআয রা. থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত]

হাদিস বিশারদদের মতে এটি موضوع বা বানোয়াট হাদিস।

যে সকল হাদিস বিশারদ এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন তারা হলেন:
▪️১. ইবনুল কাইয়েম। [আল মানারুল মুনিফ, পৃষ্ঠা নম্বর ৪৬]
▪️২. সুয়ুতি। [আদ দুরারুল মুনতাসিরা, পৃষ্ঠা নম্বর ১১২]
▪️৩. যুরকানি [মুখতাসারুল মাকাসেদ, পৃষ্ঠা নম্বর ৮৪২]
▪️৪. ইবনুল জাওজি বলেন, لا يصح “হাদিসটি সহিহ নয়।” [আল মুওযুআত ৩/১১৭]
▪️৫. আজলুনি বলেন, “এর সনদে (বর্ণনা সূত্রে), সুলাইমান আল জানায়েযি নামক একজন বর্ণনাকারী আছে যে, কাযযাব (চরম মিথ্যাবাদী)।”
[কাশফুল খাফা, ২/২১৭]
▪️৬. ইবনে আদি বলেন,
[فيه] حسين بن علوان أحاديثه عامتها موضوعة وهو في عداد من يضع الحديث
“এর বর্ণনা সূত্রে হোসাইন বিন আলওয়ান নামক একজন বর্ণনাকারী রয়েছে। যার বর্ণিত অধিকাংশ হাদিস বানোয়াট। তাকে বানোয়াট হাদিস রচনা কারীদের মধ্যে গণ্য করা হয়।”
[আল কামিল ফিয যুয়াফা (الكامل في الضعفاء, ) ৩/২৩২]
[তথ্যসূত্র: hdith/com]
সুতরাং জেনে-বুঝে মানুষকে সতর্ক করার উদ্দেশ্য ছাড়া এই জাতীয় বানোয়াট হাদিস বর্ণনা করা বা প্রচার করা জায়েজ নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নামে জেনে-বুঝে মিথ্যা হাদিস বর্ণনার পরিণতি জাহান্নাম হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
আল্লাহু আলম।
– আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল –

Share On Social Media