মারহাবা কি ইসলামিক পরিভাষা

মারহাবা ♡ স্বাগতম ♡ ওয়েলকাম ♡
▬▬▬▬◆♡◆ ▬▬▬▬
প্রশ্ন: মারহাবা কি ইসলামিক পরিভাষা? এটা কি বলা যাবে? ইসলামে মানুষকে স্বাগত জানানোর বিধান কি?
উত্তর:
মারহাবা শব্দের অর্থ: স্বাগতম, খোশ আমদেদ, ওয়েলকাম।
এটি সাধারণত: আরবি ভাষীগণ কারও আগমন উপলক্ষে তাকে স্বাগত জানানোর জন্য ব্যবহার করে থাকে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেহেতু আরবি ভাষী ছিলেন সেহেতু তিনি বিভিন্ন সময় স্বাগত জানানোর ক্ষেত্রে এ শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

ইমাম বুখারি রাহ. এ বিষয়ে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন-যার শিরোনাম হল:

“পরিচ্ছেদ: ২৫৩০. কাউকে মারহাবা বলা। আয়েশা রা. বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফাতেমা রা. কে বলেছেন, “আমার মেয়েকে মারহাবা (স্বাগতম)। উম্মে হানী রা. কে বলেন, আমি একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এলে তিনি বললেন, “উম্মে হানীকে মারহাবা (স্বাগতম)।”

অত:পর তিনি রাসূল সাল্লাহু সাল্লাম কর্তৃক কায়েস প্রতিনিধি দলের লোকজনকে স্বাগত জানানোর নিম্নোক্ত হাদিসটি উল্লেখ করেছেন:

◈ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল কায়েসের প্রতিনিধি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলে তিনি বললেন, مَرْحَبًا بِالْوَفْدِ “প্রতিনিধি দলকে মারহাবা (স্বাগতম)। [সহিহ বুখারি, অধ্যায়: আদব বা শিষ্টাচার]

◈ তিনি তার প্রিয় কন্যা ফাতিমা রা. কে ‘মারহাবা’ বলে স্বাগত জানিয়েছেন। যেমন:

عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتِ اجْتَمَعَ نِسَاءُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يُغَادِرْ مِنْهُنَّ امْرَأَةً فَجَاءَتْ فَاطِمَةُ تَمْشِي كَأَنَّ مِشْيَتَهَا مِشْيَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏”‏ مَرْحَبًا بِابْنَتِي ‏”‏ ‏.‏ فَأَجْلَسَهَا عَنْ يَمِينِهِ أَوْ عَنْ شِمَالِهِ
আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সকল স্ত্রী তাঁর নিকটেই ছিলেন। এমন সময় ফাতিমা রা.পায়ে হেঁটে সেখানে উপস্থিত হলেন। বলা বাহুল্য, ফাতিমা রা. এর হাঁটার ভঙ্গি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুরূপ ছিল। ফাতিমা রা. দেখে তিনি বললেন, “মারহাবা (স্বাগতম), হে স্নেহের কন্যা।” অতঃপর তাকে তাঁর ডানদিকে কিংবা তাঁর বামদিকে বসালেন…।
[ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদিসটি বর্ণনা করেছেন]

◈ এ ছাড়াও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার চাচাতো বোন আবু তালিবের কন্যা উম্মে হানী বিনতে আবি তালিব রা. কে মারহাবা বলে স্বাগত জানিয়েছেন:

যেমন: হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, উম্মে হানী বিনতে আবু তালিব রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের বছর আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলাম। তখন তাঁকে এমন অবস্থায় পেলাম যে, তিনি গোসল করছিলেন এবং তাঁর মেয়ে ফাতিমা রা. তাঁকে পর্দা করছিলেন। আমি তাঁকে সালাম করলে তিনি জানতে চাইলেন, কে ইনি? আমি বললাম, আমি উম্মে হানী বিনতে আবু তালিব। তিনি বললেন,
مَرْحَبًا بِأُمِّ هَانِئٍ
“মারহাবা (স্বাগতম) হে উম্মে হানী!” অতঃপর যখন তিনি গোসল শেষ করে, একখানি কাপড়ে শরীর ঢেকে দাঁড়িয়ে আট রাকআত সালাত আদায় করলেন।….উম্মে হানী রা. বলেন, তখন ছিল চাশত/যুহা (পূর্বাহ্ণ) এর সময়। [সহীহ বুখারি ৫৮/ জিযিয়া বা কর ও সন্ধি স্থাপন, পরিচ্ছেদ: ৫৮/৯. নারীগণ কর্তৃক নিরাপত্তা ও আশ্রয় প্রদান।]

◈ আধুনিক বিশ্বেও আরবি ভাষীগণ যে সকল বাক্য দ্বারা মানুষকে স্বাগত জানায় সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হল, আহলান ওয়া সাহলান, মারহাবা [উভয়টি সমার্থ বোধক]

❑ আগন্তুককে সৌজন্যতার খাতিরে স্বাগত জানানো সুন্নত/মুস্তাহাব:

উপরোক্ত হাদিস সমূহ থেকে বুঝা গেল, আগন্তুককে স্বাগত জানানো সুন্নত বা মুস্তাহাব। ইবনে হাজার আসকালানি রাহ. বলেন,
وفيه دليل على استحباب تأنيس القادم وقد تكرر ذلك من النبي صلى الله عليه وسلم، ففي حديث أم هانئ مرحبا بأم هانئ، وفي قصة عكرمة بن أبي جهل مرحبا بالراكب المهاجر، وفي قصة فاطمة مرحبا بابنتي، وكلها صحيحة، وأخرج النسائي من حديث عاصم بن بشير الحارثي عن أبيه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال له لما دخل فسلم عليه: مرحبا وعليك السلام
“এতে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, আগন্তুকের প্রতি সৌজন্য প্রকাশ করা মুস্তাহাব। এটি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে একাধিক বার ঘটেছে।
– তিনি উম্মে হানী রা. কে মারহাবা বলে স্বাগত জানিয়েছেন।
– আবু জাহেলের ছেলে ইকরিমা রা. এর ঘটনায় তাকে উদ্দেশ্যে করে বলেছেন, “মুহাজির আরোহীকে মারহাবা (স্বাগতম)।”
– ফাতিমা রা. এর ঘটনায় তাকে মারহবা বলে স্বাগত জানিয়েছেন। এ সবগুলোই সহিহ।
– সুনানে নাসায়ীতে আসিম বিন বাশীর আল হারেসি এর হাদিস। তার পিতা (বাশীর আল হারেসি) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিকট সালাম দিয়ে প্রবেশ করেন তখন তাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বললেন, “মারহাবা (স্বাগতম) ওয়ালাইকুমুস সালাম।” [ফাতহুর বারী]

উল্লেখ্য যে, আগন্তুক ব্যক্তি সালাম দিলে সালামের উত্তর বলে স্বাগত জানানো অথবা আগে স্বাগত জানিয়ে পরে সালামের উত্তর দেওয়া‌‌-উভয়টি জায়েজ। এতে কানও আপত্তি নাই।

তবে সব মুসলিমদেরকে এই আরবি শব্দ ‘মারহাবা’ ব্যবহার করেই স্বাগত জানাতে হবে-এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। এতে বিশেষ কোনও সওয়াবও নেই। বরং প্রত্যেক ভাষাভাষী লোকেরা তাদের দেশে/সমাজে প্রচলিত বাক্য বা ভাষা দ্বারা স্বাগত জানাবে-এটাই সঠিক পদ্ধতি। তবে যাদের উদ্দেশ্যে মারহাবা বলে স্বাগত জানানো হবে তারা যদি এর অর্থ বুঝে এবং আনন্দিত হয় তাহলে তা ব্যবহারে কোনও আপত্তি নেই। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬◆◯◆ ▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।।