কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

বেনামাযী, দ্বীন-ইসলামের বিধিবিধানকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যকারী ও নানা পাপাচারে লিপ্ত স্বামীর সাথে ঘর-সংসার করা কি বৈধ?

প্রশ্ন: আমার স্বামী নামাজ পড়ে না। রাতভর হিন্দি চ্যানেল দেখে বাচ্চাদের সামনে। আমি বললে মানা শুনে না। তাই কিছু দিন থেকে বিছানা আলাদা করেছি। এছাড়া সে স্ত্রী হিসেবে আমার প্রতি অবহেলা করে। দ্বীন-ইসলামের কথা বললে ঠাট্টা করে। আমি পর্দা করার কারণে আমাকে বুড়ি বলে মশকারা করে। এরকম মানসিক অশান্তিতে আছি। তবে কোন শারীরিক টর্চার করে না। এখন আমার করণীয় কি?

উত্তর:

সালাত আদায় না করা, দিনরাত গানবাদ্য, নাটক-সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত থাকা, স্ত্রীর প্রতি অবহেলা প্রদর্শন করা, দ্বীন ইসলাম নিয়ে, পর্দা নিয়ে ঠাট্টা করা সবগুলোই আল্লাহর নাফরমানী ও পাপচারের অন্তর্ভূক্ত।
বিশেষ করে সালাত পরিত্যাগ করা এবং দ্বীন-ইসলামের হুকুম-আহকামের প্রতি ঠাট্টা-তামাশা করা কুফুরী পর্যায়ের গুনাহ। কোন ব্যক্তি জেনে-বুঝে তা করলে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে ‘মুরতাদ’ হিসেবে পরিগণিত হবে।

■ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
بين الرجل وبين الشرك والكفر ترك الصلاة
“একজন মানুষ ও কুফরী-শিরকের মধ্যে রয়েছে নামায ত্যাগ করা।” (মুসলিম) অর্থাৎ নামায ত্যাগ করলে সে শিরক ও কুফুরীতে পতিত হবে।
■ তিনি আরো বলেন:
لاَ تَتْرُكَنَّ صَلاَةً مَكْتُوبَةً مُتَعَمِّداً فَإِنَّ مَنْ تَرَكَ صَلاَةً مَكْتُوبَةً مُتَعَمِّداً فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ ذِمَّةُ اللهِ
“ইচ্ছা করে কখনও ফরয সালাত ত্যাগ করবে না। কেননা যে ইচ্ছা করে ফরয সালাত ছেড়ে দিবে, তার থেকে আল্লাহর দায়িত্ব উঠে যাবে।” (আহমাদ, মিশকাত হা/৬১, সনদ সহীহ)

■ ইসলামের বিধিবিধান নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করার ভয়াবহতা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন:
قُلْ أَبِاللَّـهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ – لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُم بَعْدَ إِيمَانِكُمْ ۚ
“আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তাঁর হুকুম আহকামের সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে ঠাট্টা করছিলে? ছলনা কর না, তোমরা যে কাফের হয়ে গেছ ঈমান প্রকাশ করার পর।” (সূরা তওবা/৬৫-৬৬)

সুতরাং এ কথা স্পষ্ট যে, এ ব্যক্তির ইসলাম মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাকে এখুনি তাওবা করে তার জন্য এ সব পাপাচার থেকে ফিরে আসা আবশ্যক।
এ সকল অন্যায় ও পাপাচারের ব্যাপারে ইসলামের বিধানগুলো জানানোর মাধ্যমে সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে। নিজে না পারলে কোন বিজ্ঞ আলেম দ্বারা তাকে বুঝানোর চেষ্টা করতে হবে এবং তার হেদায়েতের জন্য আল্লাহর নিকট দুআ করতে হবে।

কিন্তু সব কিছু জানার পরও তওবা করে এ ধরণের পাপাচারের পথ থেকে ফিরে না আসলে আপনার জন্য করণীয় হলো, এমন স্বামী থেকে বিবাহ বিচ্ছেদ করা। কারণ কোন ব্যক্তি যদি জেনে-বুঝে ইচ্ছাকৃত ভাবে সালাত পরিত্যাগ করে এবং দ্বীন ইসলামের বিধিবিধানকে অবজ্ঞা ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে এবং ইসলামের বিধানপালনকারীকে হেয় প্রতিপন্ন সে মুরতাদ (ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত) হয়ে যায়। আর ইসলামের দৃষ্টিতে মুরতাদ ও ইমানদার পুরুষ-নারীর মাঝে বিবাহ বন্ধন বৈধ নয়।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হেফাজত করুন। আমীন।

▬▬▬●■●▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।।