কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

বিয়েতে দেনমোহর বাকি রাখা কি জায়েয?

প্রশ্ন: বিয়ের সময় দেনমোহর নির্ধারণ করার পর বলা হয়, যে এত টাকা উসুল আর এত টাকা বাকি। এভাবে দেনমোহর বাকি রাখা কি জায়েয? কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জানতে চাই।

উত্তর:
দেনমোহর বিয়ের অন্যতম শর্ত। এটি মূলত: বর ও কনের মাঝে একটি চুক্তি। এতে উভয় পক্ষ যেভাবে সম্মত হবে ইসলামের দৃষ্টিতে সেভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে। এর পরিমাণ কমবেশি, নগদ-বাকি যাই হোক না কেন।
সুতরাং তারা যদি দেনমোহরের পুরোটাই নগদ কিংবা পুরোটাই বাকি অথবা মোহরের কিছু অংশ নগদ (উসুল) এবং কিছু অংশ বাকি রাখতে সম্মত হয় এতে শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো আপত্তি নেই। তবে যেটা বাকি রাখা হবে সেটা পরিশোধ করা ফরয। কেননা এটি এক দিকে স্ত্রীর হক (পাওনা) অন্যদিকে চুক্তি। মুমিন ব্যক্তি অবশ্যই চুক্তি পূরণ করবে। চুক্তি লঙ্ঘন করা মুনাফেকির বৈশিষ্ট্য। তাই তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
إِنَّ أَحَقَّ الشُّرُوطِ أَنْ يُوفَى بِهَا مَا اسْتَحْلَلْتُمْ بِهِ الْفُرُوجَ ‏
“তোমাদেরকে (বিয়ের চুক্তির) যে সকল শর্ত পালন করতে হয় তার মধ্যে সেসব শর্তই সবচেয়ে বেশি পালনীয় যার দ্বারা কোন মহিলাকে তোমরা হালাল কর।” (সহিহ ও মুসলিম)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন:
الْمُسْلِمُونَ عَلَى شُرُوطِهِمْ
“মুসলিমগণ তাদের সাথে কৃত শর্তের উপর অবিচল থাকবে।” (তিরমিযী : ১৩৫২, আবু দাউদ :৩৫৯৪-সহীহ)

❑ পরিশোধ না করার নিয়তে মোহর নির্ধারণ করা বৈধ নয়:

পরিশোধ না করার নিয়তে মোহর নির্ধারণ করা বৈধ নয়। কেননা, এটি একটি ঋণ-যা অবশ্যই পরিশোধযোগ্য। অথচ বর্তমানে লোকেরা বিশাল অঙ্কের দেনমোহর নির্ধারণ করে কিন্তু পরিশোধ করে খুবই সামান্য। আশ্চর্যের বিষয় হল, বিশাল অঙ্কের মোহর নির্ধারণ একটি সামাজিক ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বামী যেমন তা পরিশোধ করার গরজ অনুভব করে না তেমনি স্ত্রীর পক্ষ থেকেও ধরে নেয়া হয় যে, এটি কেবল কাবিননামায় লিখার বিষয়; পরিশোধ করার বিষয় নয়। কিন্তু এটিকে আবার স্বামীর জন্য একটি ফাঁদ হিসেবে গণ্য করা হয়, যেন এ বিশাল অর্থ পরিশোধ করার ভয়ে স্বামী স্ত্রীকে তালাক দিতে না পারে!
অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়েতে দেনমোহর কম হওয়াকে স্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বামীর জন্য একটি বরকতের কারণ বলা হয়েছে। আর স্বামীর জন্যও এই ঋণ পরিশোধ করাও সহজ হয়।

অবশ্য পরবর্তীতে স্ত্রীর পক্ষ থেকে দেনমোহরের কিয়দংশ ছাড় দেওয়া হলে স্বামী তা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ করতে পারে।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً ۚ فَإِن طِبْنَ لَكُمْ عَن شَيْءٍ مِّنْهُ نَفْسًا فَكُلُوهُ هَنِيئًا مَّرِيئًا
“আর তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহর দিয়ে দাও খুশী মনে। তারা যদি খুশী হয়ে তা থেকে অংশ ছেড়ে দেয়, তবে তা তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ কর।” (সূরা নিসা: ৪)
আল্লাহু আলম।
▬▬▬◄❖►▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, KSA

Share This Post