কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

বিশেষ প্রয়োজনে কুরবানি দাতার জন্য কি কুরবানির আগে নখ, চুল ইত্যাদি কাটা জায়েজ?

প্রশ্ন: বিশেষ প্রয়োজনে কুরবানি দাতার জন্য কি কুরবানির আগে নখ, চুল ইত্যাদি কাটা জায়েজ?
▬▬▬◆◯◆▬▬▬
জিলহজ মাস শুরু হলে যে ব্যক্তি কুরবানি করতে চায় তার জন্য (অধিক বিশুদ্ধ অভিমত অনুযায়ী) কুরবানির পশু জবেহ করার পূর্বে নখ, চুল, শরীরের অতিরিক্ত পশম তথা মোচ, নাভির নিচের বা বগলের পশম, অতিরিক্ত চমড়া ইত্যাদি কাটা জায়েজ নাই। কারণ, উম্মে সালামা রা. হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
((إذا دخل شهر ذي الحجة وأراد أن يضحي فلا يأخذ من شعره ولا من أظفاره شيئاً))
“জিলহজ মাস শুরু হলে যে ব্যক্তি কুরবানি করতে চায় সে যেন তার চুল ও নখ না কাটে।” (সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: কুরবানি, অনুচ্ছেদ: যিলহজ্জ মাস শুরু হলে যে ব্যক্তি কুরবানি করবে তার জন্য চুল ও নখ কাটা নিষেধ।)
অন্য বর্ণনায় রয়েছে: ((ولا من بشرته شيئاً) “শরীরের চামড়া যেন না কাটে।” (সহীহ মুসলিম)
ইবনে কুদামা রহ. বলেন, “নিষেধাজ্ঞার দাবী হল, হারাম হওয়া। অর্থাৎ যে কুরবানি করতে চায় তার জন্য কুরবানির পশু জবেহ করা পর্যন্ত নখ-চুল, শরীরের অতিরিক্ত চামড়া ইত্যাদি কাটা হারাম।”

কিন্তু যদি বিশেষ কোন সমস্যার কারণে এগুলো কাটা জরুরি হয়ে পড়ে তাহলে তাতে কোন আপত্তি নাই। যেমন: নখকুনি উঠা, নখের চারপাশে ব্যথা করা, আঘাত জনিত কারণে নখ উপড়ে যাওয়া, নখের প্রান্ত ফেটে যাওয়া অথবা শরীরে ক্ষত সৃষ্ট হওয়ার কারণে বা কেটে যাওয়া বা আঘাতের কারণে চামড়ার কিছু অংশ উঠে যাওয়ার ফলে কষ্ট হয় বা চলাফেরায় অসুবিধা হওয়া ইত্যাদি। এম পরিস্থিতিতে এগুলো কাটতে শরিয়তে কোন বাধা নেই ইনশাআল্লাহ।

অনুরূপভাবে মাথা ফেটে যাওয়ার ফলে মাথায় ব্যান্ডেজ করা, মাথার রোগের রোগের চিকিৎসা কিংবা মাথায় খুশকি বা উকুনের উপদ্রব থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে মাথার কিয়দংশ বা পূরোটা মুণ্ডন করার বা চুল ছোট করায়ও কোন আপত্তি নাই ইনশাআল্লাহ।

কেননা, ইসলামের একটি স্বতঃসিদ্ধ মূলনীতি হল, الضرورات تبيح المحظورات “জরুরি প্রয়োজন নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করে দেয়।”

◆ আল্লাহ বলেন,
لَا يُكَلِّفُ اللَّـهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا
“আল্লাহ কারো উপর তার সাধ্যাতীত কোন কাজের দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না।” (সূরা বাকারা: ২৮৬)

◆ তিনি আরও বলেন,
فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ
“অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যতটুকু তোমাদের সাধ্যে কুলায়।” (সূরা তাগাবুন: ১৬)

◯ শাইখ উসাইমিন রহ. বলেন,
من احتاج إلى أخذ الشعر والظفر والبشرة ، فأخذها فلا حرج عليه مثل : أن يكون به جرح ، فيحتاج إلى قص الشعر عنه ، أو ينكسر ظفره ، فيؤذيه فيقص ما يتأذى به ، أو تتدلى قشرة من جلده ، فتؤذيه فيقصها ، فلا حرج عليه في ذلك كله ” انتهى من ” مجموع فتاوى ابن عثيمين ” (25/161) .

“কারো যদি চুল, নখ ও চামড়া কাটার দরকার হয় তাহলে তাতে কোন অসুবিধা নেই। যেমন: আহত হওয়ার কারণে মাথার চুল কাটা বা নখ ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে কষ্ট হলে তা কেটে ফেলার দরকার হলে অথবা চামড়ার কোন অংশ ঝুলে পড়ে কষ্ট দিলে তা কেটে ফেলা। এগুলোতে কোন অসুবিধা নাই।” (মাজমু ফতোয়া ইবনে উসাইমিন ২৫/১৬১)
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬◆◯◆▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

Share This Post