কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

বিদআতীদের সাথে বন্ধুত্ব রাখা যাবে কি?

প্রশ্নঃ আমরা জানি যে ইখতেলাফ ইমামদের মধ্যেও ছিলো। তারপরেও তারা একে অপরকে বন্ধু হিসেবে মেনে নিতো। আমার প্রশ্ন হলো, বর্তমানে যারা বিভিন্ন মাজহাব মেনে চলেন তারা তো কোনো না কোনো ইমামকেই অনুসরণ করেন, তারা যা করেন, সেটা তো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের মতে অনেক কিছুই বিদআত …আর যতটুকু জানি হাদিসে বিদাতিদের সাথে বন্ধুত্ব রাখতে নিষেদ করা হয়েছে। তাহলে ইমামদের মধ্যে পরস্পর বন্ধুত্ব রাখা আর আমাদের সাধারণ মানুষদের মধ্যে বিদাতিদের সাথে বন্ধুত্ব না রাখা টা কেমন সাংঘর্ষিক মনে হচ্ছে না? বিষয় টা একটু বুঝিয়ে বললে উপকৃত হবো।

==========================

উত্তরঃ শাখাগত বিভিন্ন মাসআলা বিষয়ে আমাদের পূর্বসূরী ইমামগণ মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছেন। (আকীদাগত ও দ্বীনের মৌলিক বিষয়ে মতবিরোধ ছিল খুবই সীমীত) তারপরও তাদের একে অপরের মাঝে বন্ধুত্ব বজায় ছিল। এর কারণ ছিল তারা দলীলকে কেন্দ্র করে মতবিরোধ করেছেন। প্রত্যেকের উদ্দেশ্য ছিল সঠিক সিদ্ধান্তে উপণিত হওয়া। এখানে তাদের ব্যক্তিগত কোনও উদ্দেশ্য ছিল না।
তবে যারা আকীগতভাবেই বিদআতী ছিল আমাদের পূর্বসূরীগণ তাদের সাথেও কথা বলেছেন, তাদের কাছে গেছেন ও তাদের সাথে বির্তক করেছেন। এর কারণ ছিল, তাদেরকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা বা তাদের বাতিল আকীদাকে মানুষের কাছে প্রকাশ করে দেয়া- যাতে অন্যরা সচেতন হয়। যেমন, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. খারেজী সম্প্রদায়ের সাথে বির্তক করেছেন, ইবনে তাইমিয়া রাহ. বিভিন্ন বিদআতী গোষ্ঠির সাথে বির্তকে লিপ্ত হয়েছেন। এর উদ্দেশ্য ছিল যেন, তারা সঠিক পথে ফিরে আসে বা অন্য মানুষ যেন তাদের মাধ্যমে প্রতিরিত না হয়।

বিদআতীদের সাথে এ ধরণের সম্পর্ক বর্তমানেও অব্যহত রাখা যাবে। তবে সাধারণ মানুষ নয় বরং যারা দ্বীনের বিষয়ে গভীর জ্ঞান রাখেন এবং বাতিলের সাথে মোকাবেলা করার যোগ্যতা রাখেন কেবল তারা। সাধারণ মানুষ তাদের সাথে সম্পর্ক রাখার ফলে নিজেরাই গোমারাহীর দিকে ধাবিত হতে পারে।
কিন্তু যদি তাদের সাথে সম্পর্ক রাখায় কোন কল্যাণের আশা না থাকে তাহলে তাদের সাথে কথা বলা যাবে না, তাদের সাথে উঠাবসা করা যাবে না। শরঈ স্বার্থ ছাড়া তাদের সাথে সম্পর্ক রাখা হলে এই আয়াতের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবে। আল্লাহ বলেন:
وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّىٰ يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ ۚ وَإِمَّا يُنسِيَنَّكَ الشَّيْطَانُ فَلَا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرَىٰ مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
*“যখন আপনি তাদেরকে দেখেন, যারা আমার আয়াত সমূহে ছিদ্রান্বেষণ করে, তখন তাদের কাছ থেকে সরে যান যে পর্যন্ত তারা অন্য কথায় প্রবৃত্ত না হয়, যদি শয়তান আপনাকে ভূলিয়ে দেয় তবে স্মরণ হওয়ার পর জালেমদের সাথে উপবেশন করবেন না।”* (সূরা আনআম: ৬৮)
হাসান রহ. বলেন: لا تجالسوا أهل الأهواء ولا تجادلوهم ولا تسمعوا منهم. رواه اللالكائي
“প্রবৃত্তির অনুসারীদের সাথে উঠাবসা করো না, তাদের সাথে বির্তক করো না এবং তাদের কথা শুনিও না।” (লালকাঈ)
*মোটকথা*, যোগ্য আলেমগণ বিতআতী ও বাতিল আকীদপন্থী লোকদের সাথে সম্পর্ক ও যোগাযোগ রাখতে পারেন তাদেরকে সহীহ পথে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বা মানুষকে তাদের গোমরাহী মূলক আকীদা ও আমল সম্পর্কে সচেতন করার উদ্দেশ্যে। তবে সাধারণ মানুষরা তাদের সাথে উঠাবসা করা, তাদের বক্তব্য শুনা ও তাদের লিখিত বই-পুস্তক পড়া থেকে যথাসম্ভ দূরত্ব বজায় রাখবে যেন তারা বিদআতীদের বাতিল আকীদা দ্বারা প্রভাবিত হওয়া থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়। আল্লাহ তাওফিক দানকারী।

উত্তর দিয়েছেন শাইখ Abdullahil Hadi Bin Abdul Jalil

Share This Post