কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

বাংলাদেশ থেকে হজ যাত্রীগণ কোথা থেকে ইহরাম বাঁধবে?

প্রশ্ন: বাংলাদেশ থেকে হজ্জ করতে গেলে হাজিরা কোথা থেকে ইহরাম বাঁধবে? দেশ থেকেই বাঁধবে নাকি মিকাত থেকে?
আর হজ্জ করতে গেলে, একজন ব্যক্তি ফরয ওমরা ছাড়াও কি মৃত ব্যক্তিদের নামে একাধিক বার ওমরা করতে পারবে? যদি পারে, তবে বারবার কি মিকাত গিয়ে ইহরাম বাধবে? আর তওয়াফ কি একাধিক বার করা যাবে?

উত্তর:
▪ যারা বাংলাদেশ/ভারত ইত্যাদি পূর্বাঞ্চল থেকে উমরা করতে আসবে তারা ফ্লাইটে উঠার পূর্বে প্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও গোসল করার পর ইহরামের কাপড় পরিধান করবে। কিন্তু ইহরামের নিয়ত করবে না। তারপর ফ্লাইট জেদ্দার সন্নিকটে ইয়ালামলাম পাহাড় অতিক্রম করার পূর্বে তারা ফ্লাইটে বসা অবস্থায় নিয়ত করে ‘আল্লাহু্ম্মা লাব্বাইকা উমরাহ’ বলে ইহরামে প্রবেশ করবে। (ইয়ালামলাম পৌঁছার বিষয়টি বিমান ক্রুদের মাধ্যমে জানা যায়।)

[ইয়ালামলাম- মক্কা থেকে ১২০ কি.মি. দূরত্বে অবস্থিত একটি উপত্যকার নাম যা সা‘দিয়া নামেও পরিচিত। এটি ইয়ামেন বাসী ও পাক-ভারত-বাংলাদেশসহ প্রাচ্য ও দূর প্রাচ্য থেকে আগমনকারীদের মিকাত।]

▪ এক সফরে একাধিক উমরা করা ঠিক নয় (চাই নিজের উদ্দেশ্যে হোক অথবা জীবিত বা মৃতের পক্ষ থেকে হোক)। কেননা বিদায় হজ্জের সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে বা তাঁর সঙ্গী লক্ষাধিক সাহাবীদের একজনও একাধিক উমরা করেছেন বলে প্রমাণিত হয় নি। যদি তা সঠিক হত, তাহলে তাঁরা অবশ্যই এ সুযোগ হাতছাড়া করতেন না।

অবশ্য কেউ যদি মদিনা যিয়ারতে যায় বা কোনো কাজে তায়েফ যায় তাহলে পুনরায় মক্কা আগমন করতে চাইলে সেখান থেকে ইহরাম বেধে নতুন করে উমরা আদায় করতে পারে।

▪ উমরা সম্পন্ন করার পর যতবার খুশি ততবার তওয়াফ করা যায়। সাত চক্করে হয় এক তওয়াফ।তওয়াফকারী এভাবে সাত চক্কর দিয়ে একটি তওয়াফ করবে তারপর দু রাকআত তওয়াফের সালাত আদায় করবে। এভাবে যত ইচ্ছা নফল তওয়াফ করা যায়।

হাদিসে বলা হয়েছে, তওয়াফ হল সালাতের অনুরূপ। তাই মক্কার বাহির থেকে গমনকারীদের জন্য মক্কায় নফল সালাতের চেয়ে তওয়াফ করা অধিক উত্তম।
আল্লাহু আলাম
▬▬▬◄🕋►▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, KSA

Share This Post