কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

ফেসবুকের সাহায্য চেয়ে পোস্ট দেখে দান করেছিলাম কিন্তু পরে দেখা যায়, সেটা ছিলো ভুয়া

প্রশ্ন: ফেসবুকে কিছু লোক তাদের বিকাশ ও মোবাইল নাম্বার দিয়ে সাহায্য চেয়ে পোস্ট করে। যদি তাদেরকে সাহায্যে করার নিয়তে আর্থিক সহায়তা করি কিন্তু বাস্তবে যদি তারা ভুয়া হয় তাহলে কি আমি দানের সওয়াব পাব কারণ এখানে আমার নিয়ত ভালো ছিল?

উত্তর:
কোথাও দান-সদকা করার পূর্বে যথাসম্ভব যাচাই-বাছাই করে নেয়া কর্তব্য যেন, প্রকৃত হকদার ব্যক্তি তা থেকে উপকৃত হয়। বিশেষ করে বর্তমানে যেহেতু ফেসবুক বা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াযর মাধ্যমে অনেকেই নানা সমস্যার কথা বলে মানুষের নিকট সাহায্য চায় সেহেতু এ বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া জরুরি। কারণ এ ক্ষেত্রে প্রতারণা ও ছলচাতুরীর সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

যাহোক, আপনি কোথাও দান করার পর যদি জানতে পারেন যে, তা ছিল ভুল জায়গা বা প্রতারণার শিকার হয়েছেন তাহলে এতে আপনি দানের সওয়াব পেয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ।
কারণ আল্লাহ মানুষকে তার নিয়ত অনুযায়ী সওয়াব দান করে থাকেন।

এ ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত হাদীসটি প্রযোজ্য:

عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُم أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ قَالَ رَجُلٌ لَأَتَصَدَّقَنَّ الليلة بِصَدَقَةٍ فَخَرَجَ بِصَدَقَتِهِ فَوَضَعَهَا فِي يَدِ سَارِقٍ فَأَصْبَحُوا يَتَحَدَّثُونَ تُصُدِّقَ عَلَى سَارِقٍ فَقَالَ اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ لَأَتَصَدَّقَنَّ بِصَدَقَةٍ فَخَرَجَ بِصَدَقَتِهِ فَوَضَعَهَا فِي يَدَيْ زَانِيَةٍ فَأَصْبَحُوا يَتَحَدَّثُونَ تُصُدِّقَ اللَّيْلَةَ عَلَى زَانِيَةٍ فَقَالَ اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ عَلَى زَانِيَةٍ لَأَتَصَدَّقَنَّ بِصَدَقَةٍ فَخَرَجَ بِصَدَقَتِهِ فَوَضَعَهَا فِي يَدَيْ غَنِيٍّ فَأَصْبَحُوا يَتَحَدَّثُونَ تُصُدِّقَ عَلَى غَنِيٍّ فَقَالَ اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ عَلَى سَارِقٍ وَعَلَى زَانِيَةٍ وَعَلَى غَنِيٍّ فَأُتِيَ فَقِيلَ لَهُ أَمَّا صَدَقَتُكَ عَلَى سَارِقٍ فَلَعَلَّهُ أَنْ يَسْتَعِفَّ عَنْ سَرِقَتِهِ وَأَمَّا الزَّانِيَةُ فَلَعَلَّهَا أَنْ تَسْتَعِفَّ عَنْ زِنَاهَا وَأَمَّا الْغَنِيُّ فَلَعَلَّهُ يَعْتَبِرُ فَيُنْفِقُ مِمَّا أَعْطَاهُ اللَّهُ.
(رواه البخاري واللفظ له ومسلم والنسائي وقالا فيه: فقيل له أما صدقتك فقد تقبلت ثم ذكر الحديث

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “(বনী ইসরাঈলের) জনৈক ব্যক্তি একদা বলল, অবশ্যই আমি কিছু দান করব। এ উদ্দেশ্যে সে স্বীয় দান নিয়ে বের হল, এবং (গোপনীয়তার কারেণে নিজের অজান্তে) এক চোরের হাতে তা রেখে দিল। সকালে মানুষে বলাবলি করতে লাগল, (কি আশ্চর্য!) আজ রাতে এক চোরকে দান করা হয়েছে। সে বলল, হে আল্লাহ চোরের হাতে আমার দান যাওয়ার কারণে সকল প্রশংসা তোমার জন্য। অবশ্যই। (আবার) দান করব।
অতঃপর সে তার দান নিয়ে বের হল এবং এক ব্যভিচারিনীর হাতে রেখে দিল। সকালে মানুষ বলাবলি করতে লাগল, (কি আশ্চর্য!) গত রাতে একজন ব্যভিচারিনীকে দান করা হয়েছে। সে বলল, হে আল্লাহ ব্যভিচারিনীকে দান করার কারণে সমস্ত প্রশংসা তোমারই প্রাপ্য। অবশ্যই। (আবার সাদকা করব)।
সে তার দান নিয়ে বের হল অতঃপর এক ধনী লোকের হাতে দিয়ে দিল। সকালে মানুষ বলতে লাগল, (আশ্চর্য ব্যাপার!)। আজ রাতে একজন ধনী মানুষকে দান করা হয়েছে। সে বললঃ হে আল্লাহ যাবতীয় প্রশংসা তোমারই প্রাপ্য চোরের, ব্যভিচারিনী এবং ধনী লোককে দান করার কারণে।
তাকে স্বপ্ন মারফত বলা হল, তোমার দান চোরের হাতে যাওয়ার কারণে- হতে পারে সে চুরি থেকে বিরত থাকবে। আর ব্যভিচারিনী, হতে পারে সে এ দানের কারণে ব্যভিচার থেকে পবিত্র হবে। আর ধনী ব্যক্তি এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে হতে পারে, ফলে সেও তার সম্পদ থেকে দান করবে।”
(বুখারী, মুসলিম ও নাসাঈ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
তবে মুসলিম ও নাসাঈর বর্ণনায় এসেছেঃ তাকে স্বপ্ন মারফত বলা হল, তোমার সাদকা কবুল করা হয়েছে …। তারপর হাদীছের বাকী অংশ উল্লেখ করেন।
(বুখারী ও মুসলিম। এখানে বর্ণিত হাদীসের ভাষা সহীহ মুসলমি থেকে নেয়া হয়েছে। নাসাঈ, সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, অধ্যায়: ইখলাস, অনুচ্ছেদ: ইখলাস, সত্যবাদিতা ও সৎ নিয়তের প্রতি উদ্বুদ্ধ করণ। সনদ সহীহ)

এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয়, কোন ব্যক্তি যদি ভালো নিয়তে এমন জায়গায় দান করে যেখানে আসলে দান করা উচিৎ ছিলো না কিন্তু দান করার পর সেটা বোঝা যায় তাহলে ইনশাআল্লাহ সে ব্যক্তি দানের সওয়াব অর্জন করবে। আল্লাহ তআলা তাকে তার সৎ নিয়তের কারণে সওয়াব দান করবেন ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহু আলাম।

▬▬▬🔹🔹▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
লিসান্স, মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।।

Share This Post