কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

ফুটবল, ক্রিকেট, ভলি, হাডুডু, টেনিস ইত্যাদি খেলা কি জায়েজ এবং এ সব খেলাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করা কি বৈধ

ক. ফুটবল, ক্রিকেট, ভলি, হাডুডু, টেনিস ইত্যাদি খেলা কি জায়েজ?
খ. এ সব খেলাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করা কি বৈধ?
▬▬▬❖❖❖▬▬▬

উত্তর:
❂ ক. শারীরিক সুস্থতা বা শরীর চর্চার উদ্দেশ্যে উপরোক্ত খেলাগুলো খেলা জায়েয আছে শর্ত সাপেক্ষে। সেগুলো হল, সতর খোলা, বেপর্দা, সালাত বা সালাতের জামাআত পরিত্যাগ, বিনিময় গ্রহণ করা-চাই তা আয়োজকদের পক্ষ থেকে হোক বা বাইরের কোন পক্ষ থেকে হোক, অতিরিক্ত সময় অপচয়, মারামারি ও ঝগড়া সৃষ্টি ইত্যাদি না থাকা। যদি উপরোক্ত বিষয়গুলোর কোন একটি পাওয়া যায় তখন এ সব খেলা হারাম।

❂ খ. খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করা বা খেলার বিনিময় গ্রহণ করা:

➤ আমরা জানি, খেলোয়াড়দেরকে বেতন দিয়ে তখনই রাখা হয় যখন তারা অন্য জায়গায় হার-জিতের ভিত্তিতে খেলে যেখানে অর্থ-কড়ি বা লেনদেন হয়। এভাবে অর্থের বিনিময়ে হার-জিত খেলাটাই মূলত: জুয়ার অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
“হে মুমিনগণ, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক শরসমূহ এ সব শয়তানের অপবিত্র কাজ। অতএব, তোমরা এ গুলো থেকে বেঁচে থাক-যাতে কল্যাণপ্রাপ্ত হও।” (সূরা মায়িদাহ: ৯০)

➤ বেতনভূক্ত খেলোয়াড়দের মাথায় সব সময় চিন্তা থাকে খেলাকে কেন্দ্র করে। সে পুরা সময়টা এর পেছনে ব্যয় করে। কেননা, এটাই তার পেশা, নেশা ও জীবন-জীবিকার অবলম্বন। কিন্তু একজন মুসলিমের কি এ খেলাধুলা জীবনের মূল কাজ হতে পারে? আল্লাহ কি আমাদেরকে খেলা-ধুলায় এভাবে জীবন অতিবাহিত করার জন্য সৃষ্টি করেছেন? কখনো নয়। আল্লাহ আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তার ইবাদত করার জন্য। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ
“আমার এবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি।” (সূরা যারিয়াত; ৫৬)
কিন্তু যারা খেলাধুলাকে জীবন-জীবিকার অবলম্বন, নেশা, পেশা হিসেবে গ্রহণ করে এবং এর পেছনে জীবন-যৌবন ব্যয় করে তারা কিভাবে মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করল?!
আল্লাহ তাআলা যথার্থই বলেছেন:
اعْلَمُوا أَنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهْوٌ وَزِينَةٌ وَتَفَاخُرٌ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرٌ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ ۖ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ الْكُفَّارَ نَبَاتُهُ ثُمَّ يَهِيجُ فَتَرَاهُ مُصْفَرًّا ثُمَّ يَكُونُ حُطَامًا ۖ وَفِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَمَغْفِرَةٌ مِّنَ اللَّـهِ وَرِضْوَانٌ ۚ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ
“জেনে রাখ, পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌতুক, সাজ-সজ্জা, পারস্পরিক অহমিকা এবং ধন ও জনের প্রাচুর্য ব্যতীত আর কিছু নয়, যেমন এক বৃষ্টির অবস্থা, যার সবুজ ফসল কৃষকদেরকে চমৎকৃত করে, এরপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি তাকে পীতবর্ণ দেখতে পাও, এরপর তা খড়কুটা হয়ে যায়। আর পরকালে আছে কঠিন শাস্তি এবং আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। পার্থিব জীবন প্রতারণার উপকরণ বৈ কিছু নয়।” (সূরা হাদীদ: ২০)

এর পাশাপাশি এ সব খেলায় অসংখ্য শরিয়া বিরোধী ক্রিয়াকাণ্ড জড়িত তো আছেই।

কিন্তু দু:ভাগ্য যে, বর্তমানের আধুনিক জাহেলিয়াতের যুগে এ সব খেলোয়াড়রাই আমাদের জাতীয় বীর, যুব সমজের ‘আইডল’ এবং আরও কত কিছু! নি:সন্দেহে এটি মুসলিম সমাজের দীনী চেতনা বোধের অভাব এবং জাতীয় অধঃপতনের সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ ছাড়া কিছু নয়। আল্লাহ আামদেরকে হেফাজত করুন। আমীন।
যাহোক, সর্বপরি কথা হল, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ যেমন জায়েয নাই তেমনি খেলাধুলায় হার-জিতের ভিত্তিতে অর্থকড়ি লেনদেন করা বা খেলার বিনিময় গ্রহণ করাও জায়েয নয়। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬❖❖❖▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব
জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব

Share This Post