কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

প্রত্যেক বান্দাকে কিয়ামতের দিন ঐ অবস্থায় উঠানো হবে যে অবস্থার উপর সে মৃত্যু বরণ করেছে

প্রশ্ন: হাদিসে এসেছে, “যে যে অবস্থায় মারা যায় কিয়ামতের দিন তাকে সে অবস্থায় উঠানো হবে” এখন প্রশ্ন হল, অনেকে পানিতে ডুবে মারা যায়, আগুনে পুড়ে মারা যায়, অনেকে এক্সিডেন্টে মারা যায়। তাহলে কিয়ামতের দিন তাদেরকে কিভাবে উঠানো হবে?
উত্তর:
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রা. হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
«يُبْعَثُ كُلُّ عَبْدٍ عَلَى مَا مَاتَ عَلَيْهِ»
“প্রত্যেক বান্দাকে কিয়ামতের দিন ঐ অবস্থায় উঠানো হবে যে অবস্থার উপর সে মৃত্যু বরণ করেছে।” (সহীহ মুসলিম, হা/২৮৭৮)
এটি হাদিসের একটি অংশ বিশেষ। পূর্ণ হাদিসটি দেখলে তার অর্থ স্পষ্ট হয়। হাদিসটি নিম্নরূপ:
জাবির রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
يُبعَثُ كلُّ عبدٍ على ما مات عليه المُؤمِنُ على إيمانِه والمُنافِقُ على نِفاقِه
“প্রত্যেক বান্দাকে ঐ অবস্থায় কিয়ামতের দিন উঠানো হবে যে অবস্থার উপর সে মৃত্যু বরণ করেছে। মুমিনকে উঠানো হবে ঈমানের উপর এবং মুনাফিককে উঠানো হবে নিফাকির উপর।” (সহীহ ইবনে হিব্বান,হা/৭৩১৩)
ইমাম নওবী রহঃ উক্ত হাদিসে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন,
“উক্ত হাদিসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ মর্মে খরব দিচ্ছেন যে, প্রত্যেক বান্দাকে -চাই সে পুরুষ হোক অথবা নারী হোক- কিয়ামতের দিন ঐ অবস্থায় উত্তোলন করা হবে যে অবস্থায় উপর সে মৃত্যু বরণ করেছিল। সে যদি কল্যাণের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে তাহলে কল্যাণের উপরই তাকে উঠানো হবে। আর অকল্যাণ ও খারাপিতে লিপ্ত থাকা অবস্থায় মৃত্যু বরণ করলে সে অবস্থায় উঠানো হবে। এই কল্যাণ ও অকল্যাণের যত অর্থ ও রূপ আছে সবই এখানে প্রযোজ্য।
সুতরাং প্রতিটি মানুষের এই আগ্রহ থাকা উচিৎ, ভালো অবস্থায় (উত্তম কর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা অবস্থায়) যেন তার মৃত্যু হয়।
উক্ত হাদিসে এ মর্মে বান্দাকে উৎসাহিত করা হয়েছে যে, সে যেন সদা সর্বদাই কল্যাণ ও আমলে সালেহ বা সৎকর্মে লিপ্ত থাকে। কেননা, কেউ জানে না সে কখন মৃত্যু বরণ করবে।”
এ প্রসঙ্গে আরেকটি হাদিস উল্লেখযোগ্য। তা হল:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ، قَالَ: بَيْنَمَا رَجُلٌ وَاقِفٌ بِعَرَفَةَ ، إِذْ وَقَعَ عَنْ رَاحِلَتِهِ، فَوَقَصَتْهُ – أَوْ قَالَ: فَأَوْقَصَتْهُ – قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اغْسِلُوهُ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ، وَكَفِّنُوهُ فِي ثَوْبَيْنِ، وَلاَ تُحَنِّطُوهُ، وَلاَ تُخَمِّرُوا رَأْسَهُ، فَإِنَّهُ يُبْعَثُ يَوْمَ القِيَامَةِ مُلَبِّيًا»
ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করার সময় উটের উপর থেকে মাটিতে তার ঘাড় ভেঙ্গে মারা যান। (অথবা বর্ণনাকারী বলেছেন” উট তাকে ফেলে ঘাড় ভেঙ্গে দিয়েছিল) এ ব্যক্তি সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, “তোমরা পানি এবং বরই পাতা দিয়ে তাকে গোসল করাও। ইহরামের কাপড় দু’টি দিয়েই তার কাফন সম্পন্ন কর। তার দেহে কোনও সুগন্ধি লাগাইও না এবং তার মাথা ঢেকো না। কেননা কিয়ামতের দিন তাকে তালবিয়া (লাব্বাইক) পড়া অবস্থায় উঠানো হবে।” (মুসলিম, হা/২৮৯৬)।
তাহলে উপরোক্ত আলোচনা থেকে জানা গেলে, উক্ত হাদিসে ‘অবস্থা’ বলতে উদ্দেশ্য ঈমান এবং সৎকর্ম রত অবস্থা অথবা কুফর, মুনাফেকি, অসৎকর্ম ও পাপাচারে লিপ্ত অবস্থা। যে যে অবস্থায় মৃত্যু বরণ করবে তার হাশর হবে সে অবস্থার উপর। কে কোন কারণে মারা গেল- গাড়ি এক্সিডেন্টে, আগুনে পুড়ে বা না কি অন্য কোন দুর্ঘটনায় সেটা বুঝানো উদ্দেশ্য নয়।
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদি আরব।
Share This Post