কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

পুত্র সন্তান লাভের জন্য কি বিশেষ কোনও দুআ আছে

প্রশ্ন: পুত্র সন্তান লাভের জন্য কুরআন-সুন্নায় কি নির্দিষ্ট কোনও দুআ বর্ণিত হয়েছে? কোনও কোনও হুজুর পুত্র সন্তান লাভের জন্য সূরা সফফাতের ১০০ নাম্বার আয়াত পাঠের বিশেষ আমল দিয়ে থাকেন। এটি কি সঠিক?
উত্তর:
নি:সন্দেহে নেক সন্তান প্রাপ্ত হওয়া বান্দার প্রতি মহান রবের বিরাট বড় অনুগ্রহ।
কুরআন-হাদিসে শুধু পুত্র সন্তান বা কন্যা সন্তান চাওয়ার জন্য বিশেষ কোনও দুআ বর্ণিত হয় নি। তবে কুরআনে সুসন্তান চাওয়ার জন্য দুআ রয়েছে। আর তা হল, সূরা সাফফাত এর ১০০ নং আয়াত। আল্লাহ বলেন,
رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ
“হে আমার প্রতিপালক, তুমি আমাকে সুসন্তান দান করো।”

ইবনে কাসির ‘সু সন্তান’ এর ব্যাখ্যায় বলেন, أولادا مطيعين “আল্লাহর আনুগত্য শীল সন্তান-সন্ততি।” এটি আল্লাহর নবী ইবরাহিম আ. কর্তৃক একটি দুআ। এই দুআর ফলে মহান আল্লাহ তাঁকে ইসমাইল আ. কে দান করেন।

এটি কুরআনের অত্যন্ত মূল্যবান একটি দুআ। সুতরাং আল্লাহর নিকট সুসন্তান লাভের জন্য এ দুআটি পাঠ করায় কোনও আপত্তি নাই। আর সুসন্তান ছেলেও হতে পারে, মেয়েও হতে পারে। এমন নয় যে, এটা কেবল পুত্র সন্তান চাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট বা এ দুআ পাঠ করলে পুত্র সন্তান হবে।
আল্লাহর নিকট দুআ করলে তিনি যদি দুআ কবুল করেন তাহলে তিনি নেককার পুত্র অথবা কন্যা সন্তান যা কিছু দান করতে পারেন। এটা সম্পূর্ণ তার এখতিয়ার।

যেমন: মহান আল্লাহ বলেন,
لِّلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ ۚ يَهَبُ لِمَن يَشَاءُ إِنَاثًا وَيَهَبُ لِمَن يَشَاءُ الذُّكُورَ ‎-أَوْ يُزَوِّجُهُمْ ذُكْرَانًا وَإِنَاثًا ۖ وَيَجْعَلُ مَن يَشَاءُ عَقِيمًا ۚ إِنَّهُ عَلِيمٌ قَدِيرٌ
“নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের রাজত্ব আল্লাহ তাআলারই। তিনি যা ইচ্ছা, সৃষ্টি করেন, যাকে ইচ্ছা কন্যা-সন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, ক্ষমতাশীল।” [সূরা শুআরা: ৪৯ ও ৫০]

তবে আপনি পুত্র অথবা কন্যা সন্তান যে কোনটার উদ্দেশ্যেই এই দুআ পাঠ করতে পারেন। আল্লাহ চাইলে অবশ্যই আপনার দুআ কবুল করবেন।

উল্লেখ্য যে, আল্লাহর নিকট দুআ কবুলের জন্য কিছু শর্ত ও আদব রয়েছে। সেগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা আবশ্যক। দুআ কবুলের শর্তাবলী ও আদব সমূহের প্রতি লক্ষ রেখে উপরোক্ত দুআর পাশাপাশি আপনার মনের প্রত্যাশা তুলে ধরে নিজ ভাষায় মহান রবের নিকট দুআ করবেন। এ ক্ষেত্রে দুআ কবুলের অধিক সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র ও অবস্থাগুলোকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন। যেমন: সেজদা অবস্থায়, ভোর রাতে, আজান ও একামতের মাঝামাঝি সময়, রোজা অবস্থায়, সফর অবস্থায়, যে কোনও ইবাদত করে তার ওসিলায় আল্লাহর নিকট দুআ করা। তৎসঙ্গে পিতামাতার নিকট দুআ নিবেন।

✪ জরুরি জ্ঞাতব্য যে, সুসন্তান লাভের উদ্দেশ্যে কুরআনের উক্ত আয়াত অথবা অন্য কোনও সূরা বা দুআ লিখে বা এগুলোর নকশা দ্বারা তাবিজ বানিয়ে শরীরে ঝুলিয়ে রাখা বা তা পানিতে ডুবিয়ে পান করা অথবা সেগুলোর প্রতি নির্দিষ্ট কোনও সময় ও বিশেষ পদ্ধতিতে আমল করা (যেমন: স্ত্রী সহবাসের পূর্বে, রাতে ঘুমানোর পূর্বে বা ফজরের সময় পূর্ব দিকে মুখ করে এত বার পাঠ করা…) বিদআত। আর সন্তান চাওয়ার জন্য কবর ও ওলি-আওলিয়াদের মাজরে ধর্না দেওয়া শিরক।
আল্লাহ আমাদেরকে নেক সন্তান দান করুন যারা মৃত্যুর পর আমাদের জন্য রাব্বুল আলামিনের নিকট দুআ করবেন। নিশ্চয় তিনি পরম দয়ালু ও দাতা।
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬◯❖◯▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।।

Share This Post