কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

নির্ধারিত পারিশ্রমিকের উপর আলাদা বখশিশ দাবী করার বিধান

প্রশ্ন: অনেক সময়ই দেখা যায়, পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করে শ্রমিকরা বকশিশের নামে অতিরিক্ত টাকা দাবি করে। তখন ইচ্ছে না থাকলেও বাধ্য হয়েই এই টাকা দেয়া লাগে। তাদের এই টাকা চাওয়া জায়েজ কি না?

উত্তর:

নির্ধারিত বেতন থাকার পরও শ্রমিক কর্তৃক মালিকের কাছে অতিরিক্ত সম্মানী বা বখশিশ দাবী করা মোটেও উচিৎ নয়। কিন্তু দুর্ভাগ্য বশত: বর্তমানে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, বখশিশ যেন শ্রমিকের প্রাপ্য। অনেক সময় অল্প বখশিশ পেলে তারা মন কষাকষি করে এবং মালিকের সাথে খারাপ ব্যাবহার করে। কিছু শ্রমিক এমনও আছে যে, যদি সে জানতে পারে যে, মালিক বখশিশ দেয় না তাহলে মনোযোগ সহকারে কাজ করে না বা কাজে ঢিলেমি করে। এমনটি করা নি:সন্দেহে হারাম।
মনে রাখা প্রয়োজন যে, বখশিশ পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে শ্রমিক/কর্মচারী যদি মালিকের কর্তব্য-কর্মে অবহেলা প্রদর্শন করে বা কাজে ফাঁকিবাজি করে তাহলে তা অন্যের হক নষ্ট করার শামিল। যা কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।

◈ বখশিশ দাবি করার কিছু ক্ষতিকর দিক রয়েছে। যেমন:

● ১- হালাল কাজ করে ন্যায্য পারিশ্রমিক নেয়ার আত্মমর্যাদা ও অনাবিল সুখের পরিবর্তে মনের মধ্যে লাঞ্ছনা দায়ক ভিক্ষাবৃত্তির প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
● ২- এতে মনের মধ্যে অন্যের সম্পদের প্রতি অন্যায় লোভ-লালসা বাসা বাধে
● ৩- এ কারণে মালিক অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে অথচ কাউকে অযাচিতভাবে বিব্রত করা নি:সন্দেহে উত্তম চরিত্র পরিপন্থী।
● ৪- অনেক সময় বখশিশ দেয়া-নেয়াকে কেন্দ্র করে মালিক-শ্রমিকের মাঝে মন কষাকষি, নানা কটু মন্তব্য প্রয়োগ ও ঝগড়াও সৃষ্টি হয়। যা কোনভাবে কাম্য নয়।

মোটকথা, শ্রমিক নির্দিষ্ট বেতন বা পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে চুক্তি মোতাবেক মালিকের কাজ করবে। কাজ শেষে মালিক কর্মচারীকে তার পাওনা যথাযথভাবে বুঝিয়ে দিবে। এর অতিরিক্ত বখশিশের আশা করা বা দাবি করা মোটেও উচিৎ নয়। আল্লাহু আলাম
▬▬▬▬◢◯◣▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।।
জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।।

Share This Post