কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

দুনিয়া ও আখিরাতরে সকল বিপদাপদ ও দু:খ, দুর্দশার লাঘবের জন্য “আল্লাহুম্মাজআল হাম্মি আল আখেরাহ।” এ দুআ পাঠ করা

প্রশ্ন: আমি শুনেছি যে, নিম্নোক্ত দুআটি পাঠ করলে দুনিয়া ও আখিরাতে সকল বিপদ-মুসিবত ও দু:খ-দুর্দশা ইত্যাদি লাঘব হবে। দুআটি হল: “আল্লাহুম্মাজ’আল হাম্মি আল আখেরাহ।” এটা কি ঠিক?

উত্তর:
আল্লাহুম্মাজ’আল হাম্মী আল আখিরাহ (হে আল্লাহ, তুমি আখিরাতকে আমার ভাবনার মূল বিষয়ে (টার্গেটে) পরিণত করো)। এটি হাদিসে বর্ণিত দুআ নয় এবং এ দুআর মাধ্যমে জীবনের সকল বিপদ-মুসিবত, দু:খ, দুর্দশা, হতাশা, দু:শ্চিন্তা ইত্যাদি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে তা-এ কথা সঠিক নয়।
তবে এ দুআটি পাঠ করা করা জায়েয রয়েছে। কারণ এর অর্থটি ভালো। দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য যে দুআ পাঠ করা জায়েয রয়েছে, এমনকি নিজের ইচ্ছেমত নিজ ভাষায় আল্লাহর নিকট চাওয়া জায়েয রয়েছে- যতক্ষণ না তাতে শরিয়ত বিরোধী কোন কিছু থাকে। তবে তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পক্ষ থেকে বর্ণিত দুআ মনে করা যাবে না।

যাহোক, কেবল আখিরাত কেন্দ্রিক চিন্তা-ভাবনা করার ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাদিস বর্ণিত আছে,

আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
‏ مَنْ كَانَتِ الآخِرَةُ هَمَّهُ جَعَلَ اللَّهُ غِنَاهُ فِي قَلْبِهِ وَجَمَعَ لَهُ شَمْلَهُ وَأَتَتْهُ الدُّنْيَا وَهِيَ رَاغِمَةٌ وَمَنْ كَانَتِ الدُّنْيَا هَمَّهُ جَعَلَ اللَّهُ فَقْرَهُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ وَفَرَّقَ عَلَيْهِ شَمْلَهَ وَلَمْ يَأْتِهِ مِنَ الدُّنْيَا إِلاَّ مَا قُدِّرَ لَهُ
“আখিরাত যার একমাত্র চিন্তা ও লক্ষ্যবস্তু হবে আল্লাহ তা‘আলা তার হৃদয়কে অভাব মুক্ত করে দেন এবং বিক্ষিপ্ত বিষয়াবলীকে সমাধান করে দেন এবং তার কাছে দুনিয়া এসে হাজির হয় লাঞ্ছিত অবস্থায়। পক্ষান্তরে যার ভাবনার মূল বিষয় হয় দুনিয়া আল্লাহ তা‘আলা তার দু’ চোখের সামনে অভাব তুলে ধরেন, তার সমস্যাগুলোকে বিক্ষিপ্ত করে দেন আর দুনিয়ার যতটুকু তার জন্য নির্ধারিত করে দেওয়া হয়েছে চেয়ে অতিরিক্ত সে কিছুই পায় না।”
[সূনান তিরমিযী (ইফা), অধ্যায়ঃ ৪০/ কিয়ামত (كتاب صفة القيامة والرقائق والورع عن رسول الله ﷺ) সিলসিলা সহিহা ৯৪৯-৯৫০]

🔹*হাদিসের শিক্ষা:*

এ হাদিসের শিক্ষা হল, দুনিয়ার অর্থ-সম্পদ, সুখ-সমৃদ্ধি অর্জনকেই যদি আমরা আমাদের চিন্তা-ভাবনার মূল বিষয় এবং মূল টার্গেটে পরিণতি করি তাহলে দু চোখে কেবল আমরা অবারিত অভাব-অনটন দেখতে পাবো, মনে কেবল না পাওয়ার হাহাকার বিরাজ করবে, সব কিছুই বিশৃংখল মনে হবে, দুনিয়া অর্জনের নেশায় মনের সুখ-শান্তি বিদূরিত হবে।
পক্ষান্তরে আমরা যদি আখিরাতের সুখ ও সাফল্য অর্জনকে আমাদের চিন্তা-ভাবনার মূল লক্ষ্যে পরিণত করি তাহলে আল্লাহ আমাদের অন্তরে প্রাচুর্যতা দান করবেন, মনে পরম সুখ অর্জিত হবে, সব কিছু সাজানো-গোছানো ও সুশৃঙ্খল হবে। কিন্তু আল্লাহ আমাদের ভাগ্যে যে পরিমাণ দুনিয়ার অর্থ-সম্পদ লিখে রেখেছেন তা অবশ্যই আসবে যতই এর প্রতি আমরা অনাগ্রহ দেখাই না কেন।

সুতরাং আমরা যদি সকল দু:শ্চিন্তা, দরিদ্রতা ও হাহাকার থেকে মুক্তি পেতে চাই তাহলে আল্লাহর নিকট এ দুআ করতে হবে যে, হে আল্লাহ, আখিরাতকেই তুমি আমার চিন্তা-ভাবনার মূল বিষয় বানিয়ে দাও। সেই সাথে বাস্তব জীবনে এ কথার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। অর্থাৎ কাজ-কর্ম সব কিছু আখিরাতকে কেন্দ্র করে আবর্তিত করতে হবে। তাহলে মনের অস্থিরতা, টেনশন ও হাহাকার দূর হওয়ার পাশাপাশি দুনিয়াবি সুখ-সমৃদ্ধি অর্জিত হবে এবং আখিরাতেও অর্জন করা যাবে অবারিত সাফল্য ইনশাআল্লাহ।
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানী
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, KSA

Share This Post