দায়েমি সার্বক্ষণিক ফরজ

প্রশ্ন: পুরুষ ও নারীদের দায়েমি (সার্বক্ষণিক) ফরজগুলো কি কি?
উত্তর:
দায়েমি ফরজ অর্থ: এমন ফরজ যা প্রতিনিয়ত, প্রতিদিন এবং সার্বক্ষণিক ভাবে পালন করা আবশ্যক। নারী-পুরুষের প্রকৃতি ও সৃষ্টিগত কিছু পার্থক্য ছাড়া উভয়ের উপর অবশ্য পালনীয় ফরজ বিধানগুলো প্রায় একই রকম।
নিম্নে কুরআন-হাদিসের নির্যাস থেকে উভয়ের জন্য আলাদা আলাদাভাবে কতিপয় সার্বক্ষণিক পালনীয় ফরজ কাজ তুলে ধরা হল:

❑ পুরুষদের দায়েমি ফরজ: (১৮টি)
যেমন:
◈ ১. সার্বক্ষণিক ঈমানের অবস্থায় থাকা।
◈ ২. সর্বাবস্থায় আল্লাহকে ভয় করা।
◈ ৩. সর্বাবস্থায় শিরক, বিদআত এবং সব ধরণের আল্লাহর নাফরমানি ও পাপাচার থেকে দূরে থাকা।
◈ ৪. পরনারী থেকে দৃষ্টি হেফাজত করা
◈ ৫. হালাল স্ত্রী ছাড়া লজ্জা স্থান হেফাজত করা।
◈ ৬. স্ত্রী-সন্তানদের হক আদায় করা এবং যথাসাধ্য ভালোভাবে তাদের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করা
◈ ৭. হালাল পন্থায় অর্থ উপার্জন করা (অর্থ উপার্জনে সব ধরণের হারাম পন্থা পরিহার করা)
◈ ৮. স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততিকে অন্যায় কাজ করতে দেখলে বা এ সম্পর্কে অবগত হলে তাদেরকে বাধা দেয়া, তাদেরকে দীনের সঠিক জ্ঞান দান করা ও ইসলামের উপর প্রতিপালন করা। স্ত্রী অন্যায়-পাপাচারে জড়িত থাকলে তাকে নসিহত করা। এতে কাজ না হলে তার বিরুদ্ধে শরিয়ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
◈ ৯. মানুষের সাথে সুন্দর আচরণ করা, ভালো কথা বলা অথবা চুপ থাকা এবং গিবত, চুগলখোরি, গালাগালি, অশ্লীল ও নোংরা কথাবার্তা, মিথ্যা কথা, মিথ্যা সাক্ষ্য, কারও মৃত্যুতে বিলাপ করা ইত্যাদি থেকে বিরত থাকা।
◈ ১০. সর্বাবস্থায় আল্লাহ, রাসূল ও দীনের প্রতি ভালবাসা অটুট রাখা।
◈ ১১. স্ত্রী সহবাস, স্বপ্নদোষ বা অন্য কোনও কারণে গোসল ফরজ হলে গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা।
◈ ১২. পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, রমজান মাসে রোজা এবং অন্যান্য ফরজ ইবাদতগুলো যথা সময়ে সঠিক পদ্ধতিতে আদায় করা।
◈ ১৩. দাড়ি রাখা। (দাড়ি কাটা, ছাঁটা,মুণ্ডন করা হারাম।)
◈ ১৪. নিজের শরীরে হক আদায়ের পাশাপাশি পিতা-মাতার আনুগত্য (যদি তা আল্লাহর নাফরমানি ও সাধ্যাতিরিক্ত না হয়) এবং মুসলিমদের পারস্পারিক হক সমূহ আদায় করা।
◈ ১৫. দীন সম্পর্কে কমপক্ষে এতটুকু জ্ঞান অন্বেষণ করা যা দ্বারা দৈনন্দিন ফরজ ইবাদত সমূহ সুন্দরভাবে সম্পাদন করা করা সম্ভব হয়।
◈ ১৬. সর্বক্ষেত্রে হালাল-হারাম বিধান মেনে জীবন যাপন করা।
◈ ১৭. কাফেরদের সাদৃশ্য অবলম্বন না করা (ধর্মীয়, সংস্কৃতি ও রীতিনীতির ক্ষেত্রে)।
◈ ১৮. কখনো আল্লাহর নাফরমি মূলক কাজ বা পাপাচার ঘটে গেলে অনতিবিলম্বে আন্তরিক অনুশোচনা সহকারে আল্লাহর কাছে তওবা করা ইত্যাদি।

❑ মহিলাদের দায়েমি ফরজ: (১৬টি)
যেমন:
❂ ১. সার্বক্ষণিক ঈমানের অবস্থায় থাকা।
❂ ২. সর্বাবস্থায় আল্লাহকে ভয় করা।
❂ ৩. সর্বাবস্থায় শিরক, বিদআত এবং সব ধরণের আল্লাহর নাফরমানি ও পাপাচার থেকে দূরে থাকা।
❂ ৪. পরপুরুষের দৃষ্টি থেকে নিজেকে হেফাজত করা (পূর্ণাঙ্গ পর্দা করা)।
❂ ৫. স্বামী ছাড়া নিজের লজ্জা স্থান হেফাজত করা।
❂ ৬. স্বামীর আনুগত্য করা এবং তার সন্তান-সন্ততি, অর্থ-সম্পদ ইত্যাদি রক্ষণাবেক্ষণ করা।
❂ ৭. সন্তান-সন্ততিকে অন্যায় কাজ করতে দেখলে বা এ সম্পর্কে অবগত হলে তাদেরকে বাধা দেয়া, তাদেরকে দীনের সঠিক জ্ঞান দান করা ও ইসলামের উপর প্রতিপালন করা। স্বামীকে অন্যায়-পাপাচারে জড়িত থাকলে তাকে নসিহত করা এবং সংশোধনের চেষ্টা করা।
❂ ৮. মানুষের সাথে সুন্দর আচরণ করা, ভালো কথা বলা অথবা চুপ থাকা। সেই সাথে গিবত, চুগলখোরি, গালাগালি, অশ্লীল ও নোংরা কথাবার্তা, মিথ্যা কথা, মিথ্যা সাক্ষ্য, কারও মৃত্যুতে বিলাপ করা ইত্যাদি থেকে বিরত থাকা।
❂ ৯. সর্বাবস্থায় আল্লাহ, রাসূল ও দীনের প্রতি ভালবাসা অটুট রাখা।
❂ ১০. স্বামী সহবাস, স্বপ্নদোষ, হায়েজ-নিফাস থেকে মুক্ত হলে বা অন্য কোনও কারণে গোসল ফরজ হলে গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা।
❂ ১১. পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, রমজান মাসে রোজা এবং অন্যান্য ফরজ ইবাদতগুলো যথা সময়ে সঠিক পদ্ধতিতে আদায় করা।
❂ ১২. দীন সম্পর্কে কমপক্ষে এতটুকু জ্ঞান অন্বেষণ করা যা দ্বারা দৈনন্দিন ফরজ ইবাদত সমূহ সুন্দরভাবে সম্পাদন করা করা সম্ভব হয়।
❂ ১৩. সর্বক্ষেত্রে হালাল-হারাম বিধান মেনে জীবন যাপন করা ইত্যাদি।
❂ ১৪. নিজের শরীরে হক আদায়ের পাশাপাশি অবিবাহিত অবস্থায় পিতামাতার এবং বিয়ের পর স্বামীর আনুগত্য (যদি তা আল্লাহর নাফরমানি ও সাধ্যাতিরিক্ত না হয়) এবং মুসলিমদের পারস্পারিক হক সমূহ আদায় করা।
❂ ১৫. কাফেরদের সাদৃশ্য অবলম্বন না করা (ধর্মীয়, সংস্কৃতি ও রীতিনীতির ক্ষেত্রে)।
❂ ১৬. কখনো আল্লাহর নাফরমি মূলক কাজ বা পাপাচার ঘটে গেলে অনতিবিলম্বে আন্তরিক অনুশোচনা সহকারে আল্লাহর কাছে তওবা করা ইত্যাদি।

আল্লাহ তাআলা নারী-পুরুষ উভয়কে তাদের উপর অর্পিত অবধারিত দায়েমি ফরজ ইবাদতগুলো পূর্ণ ইখলাসের সাথে সম্পাদন করার তওফিক দান করুন। আমিন। আল্লাহু আলাম।
-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।