তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সে ব্যক্তি যে নিজে কুরআন শিখে এবং অন্যকে শেখায়। এ হাদিসে কাদেরকে বুঝানো হয়েছে

প্রশ্ন: হাদিস থেকে আমরা জানি যে, “সে ব্যক্তি উত্তম যে অন্যকে কুরআন শিক্ষা দেয়” এখানে কি শুধু কুরআন সহিহ ভাবে পড়ানোকে বুঝানো হয়েছে? এই হাদিসের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা জানতে চাই।
উত্তর:
মুসলিম জাহানের ৩য় খলিফা উসমান বিন আফফান রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলছেন,
خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَه
“তোমদের মধ্যে সে ব্যক্তি সর্বোত্তম যে নিজে কুরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়। [সহীহ বুখারি]
قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَذَاكَ الَّذِي أَقْعَدَنِي مَقْعَدِي هَذَا ‏.‏ وَعَلَّمَ الْقُرْآنَ فِي زَمَنِ عُثْمَانَ حَتَّى بَلَغَ الْحَجَّاجَ بْنَ يُوسُفَ
‘আব্দুর রাহমান আস সুলামি বলেন, এ হাদিসই আমাকে এ স্থানে বসিয়ে রেখেছে। তিনি উসমান রা. এর যুগ হতে হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের যুগ পর্যন্ত কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন।” এটা দীর্ঘ একটা সময়। উসমান রা. এর নিকট হাদিস শোনার পরই তিনি মানুষকে কুরআন শিখানোর ব্যাপারে উজ্জীবিত হন এবং কুরআনের খেদমতে নিজেকে উৎসর্গ করেন। এরপর তিনি একটানা উসমান রা. এর শাসনামল থেকে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এর শাসনামল পর্যন্ত সুদীর্ঘ সময় নিজেকে এই মহান কাজে নিজেকে ব্যাপৃত রাখেন। সুবহানাল্লাহ!
◈◈ সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা:
মহাগ্রন্থ আল কুরআন মহান আল্লাহর বাণী সমষ্টির নাম। আর মহান আল্লাহ হলেন, সবচেয়ে সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী। সুতরাং তাঁর বাণীও সর্বশ্রেষ্ঠ বাণী।
অত:এব যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর বাণীর প্রতি যত্নশীল হবে সেও সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী হবে এটাই স্বাভাবিক।
কারা এই শ্রেষ্ঠত্বের আসন অলঙ্কৃত করবেন?
যারা বিশুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত শিখে বা অন্যকে শেখায়, নিজে তা মুখস্থ করে এবং অন্যকে করায়, এর তরজমা-তাফসির ও হুকুম-আহকাম নিজে শিখে এবং অন্যকে শেখায়, বিশুদ্ধভাবে তিলাওয়াতের নিয়ম-কানুন, তাজবিদের হুকুম-আহকাম, কুরআন বোঝার মূলনীতি এবং কুরআন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞানার্জন করে বা মানুষকে জ্ঞান দান করে, কুরআন বিষয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা ও গবেষণা করে এবং তার ষ প্রচার-প্রসার ঘটায়, এর ব্যবস্থা করে দেয় অর্থাৎ এ জন্য অর্থ খরচ করে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করে, মুসহাফ এবং তাফসির গ্রন্থ বিতরণ করে, লাইব্রেরিতে দান করে এবং অনলাইন-অফলাইন ইত্যাদি নানাভাবে কুরআনে শিক্ষাকে সর্বত্র ছড়িয়ে দেয় সকলেই এ হাদিসের আলোকে সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী হবে ইনশাআল্লাহ।
মোটকথা, কুরআনের দুটি দিক আছে। তা হল, শব্দ ও অর্থ। সুতরাং যে ব্যক্তি এই উভয় দিকের প্রতি যত্ন নিবে, নিজে শিখবে এবং অন্যকে শেখাবে সেই হাদিস বর্ণিত শ্রেষ্ঠত্বের আসন অলঙ্কৃত করবেন ইনশাআল্লাহ।
মহান আল্লাহ আমাদেরকে কুরআন শেখার, অন্যকে শিখানোর এবং কুরআনের বিধানাবলী নিজেদের জীবনে বাস্তবায়নের পাশাপাশি সমাজের সর্বত্র এর আলো বিতরণের তওফিক দান করুন। আমিন।
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।
Share On Social Media