কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

জ্বীন-শয়তান, যাদু-টোনা ইত্যাদি থেকে রক্ষা পেতে “লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা- শারিকা লাহু…..ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শায়্যিন ক্বাদীর” এই কালিমা কয়বার পড়তে হবে

প্রশ্ন: জ্বীন-শয়তান, যাদু-টোনা ইত্যাদি থেকে রক্ষা পেতে “লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা- শারিকা লাহু…..ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শায়্যিন ক্বাদীর” এই কালেমা বা দুয়া টা সকালে ১০০ বার ও সন্ধ্যায় ১০০ বার” পড়তে হয়-এইরকম হাদিসে আছে নাকি শুধু সকালে ১০০ বার পড়লেই পরের দিন সকাল পর্যন্ত নিরাপদ থাকা যাবে?

উত্তর:
এ প্রসঙ্গে আমরা দুটি হাদীস উল্লেখ করব যেগুলোর মাধ্যমে স্পষ্ট হবে যে, উক্ত দুআটি সকাল ও সন্ধ্যায় ১০০বার করে (মোট ২০০ বার) পাঠ করা উচিৎ।

❐ ১) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ ‏.‏ فِي يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ ‏.‏ كَانَتْ لَهُ عَدْلَ عَشْرِ رِقَابٍ وَكُتِبَتْ لَهُ مِائَةُ حَسَنَةٍ وَمُحِيَتْ عَنْهُ مِائَةُ سَيِّئَةٍ وَكَانَتْ لَهُ حِرْزًا مِنَ الشَّيْطَانِ يَوْمَهُ ذَلِكَ حَتَّى يُمْسِيَ وَلَمْ يَأْتِ أَحَدٌ أَفْضَلَ مِمَّا جَاءَ بِهِ إِلاَّ أَحَدٌ عَمِلَ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ
وَمَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ فِي يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ حُطَّتْ خَطَايَاهُ وَلَوْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ

“যে ব্যক্তি এই দুআ দিনে একশ বার পাঠ করবে:
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণ: “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু, লা শারীকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুওয়া আ’লা কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর।”
অর্থ” “আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোন উপাস্য নেই; তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই; রাজত্ব তাঁরই, যাবতীয় প্রশংসা তাঁরই; তিনই সবকিছু উপর ক্ষমতাবান।”
সে দশজন গোলাম আযাদ করার সাওয়াব পাবে, তার আমল নামায় একশ নেকী লিপিবদ্ধ করা হবে এবং তার থেকে একশ গোনাহ মুছে দেওয়া হবে। আর তা ঐ দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তান থেকে তার জন্য রক্ষাকবচ হয়ে যায়। সেদিন সে যা করেছে তার চেয়ে উত্তম পুণ্য সম্পাদনকারী কেউ হবে না। কিন্তু কেউ তার বেশি আমল করলে তার কথা ভিন্ন।”
“আর যে ব্যক্তি দিনে একশ’ বার سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ “আমি আল্লাহর সপ্রশংসা পবিত্রতা বর্ণনা করছি” পাঠ করবে, তার যাবতীয় গোনাহ মোচন করে দেওয়া হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমতুল্য হয়।”
[সহীহ বুখারী ও মুসলিম।সহীহ মুসলিম, অধ্যায়ঃ ৫০/ যিকর, দু’আ, তাওবা ও ইসতিগফার (كتاب الذكر والدعاء والتوبة والاستغفار) পরিচ্ছদঃ ১০. তাহলীল (لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ বলা), তাসবীহ (سُبْحَانَ اللَّه বলা) ও দু’আর ফযীলত হাদিস নম্বরঃ 6598]

▪ ইমাম নওবী রহ. বলেন, “হাদীসের সাধারণ বাহ্য অর্থ হল, যে ব্যক্তি এই তাহলীলটি ১০০ বার পাঠ করবে সে হাদীসে উল্লেখিত মর্যাদা লাভ করবে- চাই সে এক জায়গায় বসে পাঠ করুক অথবা বিচ্ছিন্নভাবে একাধিক বৈঠকে পাঠ করুক কিংবা দিনের প্রথমে কিছু অংশ পাঠ করুক অথবা দিনের শেষে কিছু অংশ পাঠ করুক। তবে দিনের প্রথমাংশে এক বসায় ১০০ বার পাঠ করা উত্তম যেন এর মাধ্যমে তার সারাটা দিন সুরক্ষিত হয়ে যায়।” (ইমাম নওবী কৃর্তৃক সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যা ১৭/১৭)

উপরোক্ত হাদীসে কেবল সকালে পড়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। মুহাদ্দিসগণ বলেন, সম্ভবত: উক্ত হাদীসটি বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। কেননা, অন্য বর্ণনা সকাল ও সন্ধ্যায় পড়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। যদিও সওয়াবের পরিমানে দু হাদীসের মধ্যে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায়। কিন্তু শয়তান থেকে বাঁচার বিষয়টি উভয় হাদীসেই বিদ্যমান রয়েছে।

❐ ২) যেমন নিম্নোক্ত হাদীসটি:
أَبِي عَيَّاشٍ، – أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ مَنْ قَالَ إِذَا أَصْبَحَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ كَانَ لَهُ عِدْلُ رَقَبَةٍ مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ وَكُتِبَ لَهُ عَشْرُ حَسَنَاتٍ وَحُطَّ عَنْهُ عَشْرُ سَيِّئَاتٍ وَرُفِعَ لَهُ عَشْرُ دَرَجَاتٍ وَكَانَ فِي حِرْزٍ مِنَ الشَّيْطَانِ حَتَّى يُمْسِيَ وَإِنْ قَالَهَا إِذَا أَمْسَى كَانَ لَهُ مِثْلُ ذَلِكَ حَتَّى يُصْبِحَ ‏”‏
আবূ আয়্যাশ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
“যে ব্যক্তি সকাল বেলা বলবেঃ আল্লাহ ছাড়া আর কোন ই্লাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই, বাদশাহী তাঁরই, সমস্ত প্রশংসা তাঁরই, তিনি সব কিছুর উপর সর্ব শক্তিমান, -সে ব্যক্তি ইসমাঈল (আ)-এর বংশের একটা গোলাম আযাদ করার ন্যায় ছাওয়াব পাবে। আর তার জন্য দশটি নেকী লেখা হবে, দশটি গুনাহ মাফ করা হবে এবং তার মর্যাদা দশগুণ বৃদ্ধি করা হবে, সে শয়তানের ক্ষতি থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরাপদ থাকবে।”

“আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এরূপ বলবে, সে সকাল পর্যন্ত এরূপ সওয়াব পাবে।” [ সুনানে আবু দাউদ – ৪৯৯৩ ]

▪ শাইখ বিন বায রহ. বলেন, দিনে-রাতে এই দুআ ও তাসবীহগুলো পাঠ করার চেষ্টা করবে।

মোটকথা, উক্ত তাসবীহটি প্রতিদিন সকালে ১০০ বার এবং সন্ধ্যায় ১০০ বার অথবা দিনে ও রাতে যখন সুবিধা হয় তখন ১০০ বার করে পাঠ করার চেষ্টা করবে তাহলে ইনশাআল্লাহ হাদীসে উল্লেখিত মর্যাদা লাভ করা সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তওফিক দান করুন। আমীন।
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬🔹♦🔹▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
লিসান্স, মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদি আরব
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।।

Share This Post