কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

জানাযার সালাত সংক্রান্ত কিছু প্রশ্নের উত্তর

প্রশ্ন: ক. আমি একজন সাধারণ মানুষ। ইসলাম সম্পর্কে তেমন কিছু জানি না। আরবিতে কুরআন পড়তে পারি না। জানাযার দুআও জানি না। আমি কি জানাযার সালাত আদায় করতে পারব? এবং কিভাবে তা আদায় করব?
খ.কোন ব্যক্তি কি নিজের মৃত পিতা, মাতা, ভাই, বোন-স্ত্রী সন্তানের জানাযায় নিজেই ইমামের দায়িত্ব পালন করতে পারে?
গ. লোক মুখে শোনা যায় যে, “মৃত ব্যক্তির রক্ত সম্পর্কিত কেউ জানাযা দিলে তার সওয়াব বেশি হয়।” এ কথাটা কি সঠিক?

উত্তর:

 কুরআন শিক্ষা করা ফরযে আইন- কমপক্ষে সালাত শুদ্ধ হওয়ার পরিমাণ। তাই যে কোন ইমাম, হাফেয বা আলেমের নিকট কুরআন পড়া শিখে নিন। সালাতের বিধি-বিধান, দুআ ও তাসবীহগুলো শিখার চেষ্টা করুন। দ্বীন শিক্ষা করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরযে আইন। এ ক্ষেত্রে অলসতা ও অবহেলা করলে ফরয লঙ্ঘনের কারণে গুনাহগার হতে হবে।
আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন। আমীন।

 জানাযার সালাতের পদ্ধতি খুবই সহজ:
যেমন-
– ১ম তাকবীরের পর সূরা ফাতিহা পাঠ করা।
পাঠ করা। (সূরা ফাতিহা বাদ দিয়ে সানা পড়ার প্রচলিত নিয়ম সুন্নত সমর্থিত নয়)।
– ২য় তাকবীরের পর দরুদ পাঠ (যা সালাতের শেষ তাশাহুদে পাঠ করা হয়)।
– ৩য় তাকবীরের পর জানাযার বিশেষ দুআ পাঠ করা।
– এবং ৪র্থ তাকবীরের পর সালাম ফেরানো।

 সূরা ফাতিহা ও দরুদ তো প্রায় সকল নামাযীর জানা থাকার কথা। এগুলো জানা থাকলে কেবল বাকি জানাযার দুআটি মুখস্থ করার চেষ্টা করুন। কিন্তু মুখস্থ না থাকলেও অন্যান্য মুসল্লিদের সাথে জানাযায় অংশ গ্রহণ করবেন। আর উক্ত দুআটির স্থানে চুপ না থেকে যে সব দুআ-তাসবীহ জানা আছে সেগুলো পড়বেন। যেমন, সুবহানাল্লা-হ, আল হামদু লিল্লা-হ, লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ..উত্যাদি। পরে তা শিখে নেয়ার চেষ্টা করতে হবে। দুআ মুখস্থ হয় নি বলে জানাযা থেকে দূরে থাকা ঠিক নয়। আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমীন।

 যে কোন ব্যক্তি তার মৃত পিতা, মাতা, ভাই, বোন ও স্ত্রী-সন্তানদের জানাযার সালাত আদায় করতে পারে। ইসলামী শরিয়তে এতে কোন আপত্তি নাই।

 “মৃত ব্যক্তির রক্ত সম্পর্কিত কেউ জানাযা দিলে তার সওয়াব বেশি” ইসলামী শরিয়তে এমন কিছু আছে বলে আমার জানা নাই। তবে কোন ব্যক্তি যখন নিজের রক্ত সম্পর্কীয় ব্যক্তির জানাযা আদায় করবে তখন স্বভাবতই তার আন্তরিকতা বেশি থাকে। কারণ তারা তার রক্ত সম্পর্কীয় প্রিয়জন। আর যে ইবাদতে যত বেশি আন্তরিকতা থাকে তা ততই উত্তম। ইখলাস বা আন্তরিকতাপূর্ণ দুআ কবুলের সম্ভাবনাও বেশি থাকে। আল্লাহু আলাম।

আমরা যেন দ্বীন সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞানার্জন করে সে আলোকে আমাদের জীবন পরিচালনা করতে পারি এবং আল্লাহর নৈকট্য প্রাপ্ত বান্দা হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণ করতে পারি-মহান আল্লাহর নিকট সে তাওফিক কামনা করছি। আল্লাহুম্মা আমীন।
▬▬▬🌐🌐🌐▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব

Share This Post