কুরআন শুধু মুত্তাকিদের জন্য হেদায়েত না কি সমগ্র মানবজাতির জন্য হেদায়েত

প্রশ্ন: সুরা বাকারার ২য় আয়াতে বলা হচ্ছে “এই কিতাব মুত্তাকিদের জন্য হেদায়েত বা পথপ্রদর্শক।” কিন্তু আমরা জানি, কুরআন তো পুরো মানব জাতির জন্য এসেছে। তাহলে এই আয়াতের সঠিক ব্যাখ্যা কী হবে?▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: আল্লাহ তাআলা বলেন,
ذَٰلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ ۛ فِيهِ ۛ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ
“এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী মুত্তাকি বা পরহেজগারদের জন্য।” [সূরা বাকারা: ২]
আল্লাহ তাআলা অন্যত্র বলেন,
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ
“রমজান মাসই হল সে মাস, যাতে নাজিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানবজাতির জন্য পথপদর্শক।” [সূরা বাকারা: ১৮৫]
উক্ত দুই আয়াতে দু রকম বলার ব্যাখ্যা কী?
উত্তর হল, হিদায়েত বা পথপ্রদর্শন দু প্রকার। যথা:
– ক. সমগ্র মানবজাতির জন্য উন্মুক্ত (আম)।
– খ. আল্লাহর বিশেষ বান্দা, পরহেজগার ও মুত্তাকিদের জন্য -(খাস)।
প্রথম প্রকার হেদায়েত (যা সমগ্র মানব জাতির জন্য উন্মুক্ত) মানে হল, আল্লাহর পক্ষ থেকে কুরআনের মাধ্যমে শুধু সঠিক পথের সন্ধার দেওয়া। যে কোন ব্যক্তি কুরআন অধ্যয়ন করবে সে তাতে সত্য ও সুন্দরের পথ খুঁজে পাবে। কিন্তু সে তা গ্রহণ নাও করতে পারে। হয়তো সে কুরআন থেকে সঠিক পথের সন্ধান পেল বা সঠিক জিনিসটি জানতে পারল ঠিকই কিন্তু তা গ্রহণ করার সুযোগ হল না।
পক্ষান্তরে ২য় প্রকার হেদায়েত মানে হল, শুধু সঠিক পথ দেখানোই নয় বরং তাকে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছিয়ে দেওয়া বা তাকে সত্যের সন্ধান দেওয়ার পর তাকে সে পথে চলার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া এবং তাকে এ পথে টিকে থাকার তওফিক দান করা। এই প্রকার হেদায়েত কেবল আল্লাহভীরু-মুত্তাকিদের জন্য খাস। যারা আল্লাহকে ভয় করে কুরআন অধ্যয়ন করবে আল্লাহ তাদেরকে কুরআনের মাধ্যমে সঠিক পথ দেখাবেন তারপর সে পথের উপর অবিচল থাকার সুযোগ সৃষ্টি করে দিবেন। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রিয় বান্দাদের জন্য বিশেষ নিয়ামত। যা থেকে অন্য মানুষরা বঞ্চিত হবে।
সুতরাং দু আয়াত সাংঘর্ষিক নয়। আল হামদুলিল্লাহ। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।