কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

কুরআন পড়ার সময় শরীর ও মাথা দুলানোর বিধান কি?

উত্তর:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবীগণ পর্যাপ্ত পরিমাণে কুরআন তিলাওয়াত করতেন, কুরআন মুখস্থ করতেন কিন্তু তারা ঝুঁকাঝুকি করতেন বা মাথা ও শরীর আন্দোলিত করতেন বলে কোন তথ্য পাওয়া যায় না।
এ ব্যাপারে আলেমদের ফতোয়া ও অভিমত পেশ করা হল:

🌐 এ ব্যাপারে সৌদি আরবের লাজনাহ দায়েমা বা স্থায়ী ফতোয়া কমিটির ফতোয়া হল নিম্নরূপ:

“কুরআন তিলাওয়াতের সময় ঝুঁকাঝুকি করা একটি বদ অভ্যাস-যা অবশ্যই পরিত্যাজ্য। কারণ এটি আল্লাহর কিতাবের সাথে আদবের পরিপন্থী। বরং কুরআন তিলাওয়াত ও শোনার সময় নীরবতা অবলম্বন করা এবং নড়া-চড়া এবং অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকা কর্তব্য যেন কুরআন তিলাওয়াত কারী বা শ্রবণকারী নিবিষ্টচিত্তে কুরআন নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে পারে এবং তার মনে আল্লাহর ভয়-ভীতি জাগ্রত হয়।
এ জন্য আলেমগণ উল্লেখ করেছেন যে, ইহুদিদের একটি অভ্যাস হল, তারা তাদের কিতাব (তাওরাত) পড়ার সময় ঝুঁকাঝুকি করে। আর আমাদেরকে তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করতে নিষেধ করা হয়েছে।”

🌐 শাইখ বকর আবু যায়েদ রহঃ. بدع القراء القديمة والمعاصرة “অতীত ও আধুনিক কালের কারীদের বিদআত” শীর্ষক কিতাবে কুরআন পড়ার সময় শরীর আন্দোলিত করার ব্যাপারে গবেষণা করতে গিয়ে বলেন:

“কুরআন পাঠের সময় ঝুঁকাঝুকি, কম্পন ও শরীর আন্দোলিত করার ব্যাপারে আন্দালুসিয়ার আলেমদের বক্তব্য অনেক শক্ত। তারা বলেন, এটি বিদআত-যা পূর্বাঞ্চলের মিসরীয়দের মাঝে অনুপ্রবেশ করেছেন অথচ এ বিষয়ে এই উম্মতের পূর্বসূরিদের থেকে কোন কিছু বর্ণিত হয় নি।

তিনি আরও বলেন, শাইখ আর রাঈ আল উন্দুলুসি (মৃত্যু: ৮৫৩) বলেন: “অনুরূপভাবে মিসরীয়রা (কিতাবাদি) পড়ার সময় ইহুদীদের মতই বা শরীরে দুলায়। এটি ইহুদীদের কাজ।” এটি আম কথা অর্থাৎ আন্দালুসিয় আলেমদের এ বক্তব্য শুধু কুরআন পড়ার ক্ষেত্রে নয় বরং অন্যান্য কিতাবাদি পড়ার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য” (গ্রন্থ: ইন্তিসারুল ফাকীর আস সালিক পৃষ্ঠা ২৫০)

🌐 ইমাম আবু হাইয়ান রাহ. ‘আল বাহরুল মুহিত’ তাফসীর গ্রন্থে বলেন:

“আর আমাদের দেশ আন্দালুস এবং পশ্চিমাঞ্চলে যদি কোন শিশু কুরআন পড়ার সময় নড়াচড়া করে তাহলে শিক্ষক তাকে আদব শিক্ষা দিয়ে বলে, নড়াচড়া করো না। তা নাহলে তুমি পড়ার ক্ষেত্রে ইহুদীদের মতো হয়ে যাবে।”
🌐 ইবনুল আসীর ‘আন নিহায়াহ ফী গারীবীল হাদিস’ গ্রন্থে বলেন:

”ইহুদীদের মত হয়ো না। কারণ তারা যখন তাওরাত খুলে তখন মাথা ও কাঁধ দুলাতে থাকে।”

এই বিষয়ে পূর্ব থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত বহু আলেমের বক্তব্য রয়েছে।

যদিও আল্লামা উসাইমীন রহ. বলেছেন, কুরআন পড়ার সময় যদি অনিচ্ছায় মাথা বা শরীর আন্দোলিত হয় তাহলে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু ইবাদত হিসেবে হলে, অবশ্যই হারাম।
মোটকথা, যথাসম্ভব এই বদ অভ্যাস থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করা আবশ্যক। চেষ্টা করলে শরীর বা মাথা না দুলিয়েও কুরআন তিলাওয়াত বা মুখস্থ করা সম্ভব। যে চেষ্টা করে আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন।
আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমীন।

Share This Post