কুরআন ও হাদিসে ইলম দ্বারা কী উদ্দেশ্য এবং দুনিয়াবি পড়াশোনাও কি এর অন্তর্ভুক্ত

প্রশ্ন: কুরআন ও হাদিসে ইলম (জ্ঞান) অন্বেষণের উপর যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রশ্ন হল, এই ‘ইলম’ (জ্ঞান) দ্বারা কী উদ্দেশ্য? দুনিয়াবি পড়াশোনাও কি এর অন্তর্ভুক্ত?▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: ইলম শব্দের অর্থ: জ্ঞান, বিদ্যা, কোন বিষয়কে দৃঢ়ভাবে উপলব্ধি করা বা জানা। এর বিপরীত হল, জাহল। অর্থ: অজ্ঞতা বা মূর্খতা।
ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় সাধারণভাবে ইলম বলতে ইলমে শরিয়ত তথা কুরআন-হাদিস থেকে উৎসারিত জ্ঞান উদ্দেশ্য। কুরআন হাদিসে ইলমের ফজিলত সংক্রান্ত যত বক্তব্য আছে সেগুলো দ্বারা এ প্রকার ইলমই উদ্দেশ্য। এক কথায় ইসলামি জ্ঞান। মোটকথা, ‘ইলম’ দ্বারা কুরআন, হাদিস থেকে উৎসারিত এবং এ সংশ্লিষ্ট সকল প্রকার জ্ঞান উদ্দেশ্য। যেমন: আকিদা, ফিকহ, উলুমুল কুরআন, উলুমুল হাদিস, আরবি ভাষা, আরবি ব্যাকরণ এবং এ সংক্রান্ত জ্ঞান।

❑ সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি ইমাম আব্দুল্লাহ বিন বায রাহ. বলেন,

العلم عند الإطلاق -كما سمعتُم في صلب المحاضرة وفي الأسئلة- عند أهل العلم، عند علماء الإسلام هو العلم الشرعي: قال الله، وقال رسوله، وما يتعلق بذلك.
ولا حرج في تعلم العلوم الأخرى النافعة؛ لقصد نفع الناس في دنياهم: من طبٍّ، وهندسةٍ، وجيولوجيا، وعلم العمارة، وغير ذلك مما يحتاجه الناس، لا حرج في ذلك، ومع النية الصالحة يُؤجر، مع النية الصالحة يُؤجَر في ذلك؛ لأنَّ الناس في حاجة إلى أطباء، وإلى مهندسين، وإلى محاسبين، وإلى مُقاولين معماريين، إلى غير ذلك مما يحتاجه الناسُ، وإلى جيولوجيين يعرفون حاجة البلاد وما فيها من الخير ومن الكنوز.
كل هذه العلوم مطلوبة، لكن ليست مُرادة عند الإطلاق، ليست داخلةً في قوله: وَأُولُو الْعِلْمِ [آل عمران:18] وأمثالها،

“যেমনটি বক্তৃতার মূল অংশে এবং প্রশ্নগুলোতে শুনেছেন যে, ইসলামি পণ্ডিতদের মতে ইলম হল, শরিয়ত সংক্রান্ত জ্ঞান: আল্লাহ বলেছেন, তাঁর রসুল বলেছেন এবং যা কিছু এর সাথে সম্পর্কিত। [যেমন: আরবি ভাষা ও নাহু-সরফ (আরবি ব্যাকরণ), ইলমুল বালাগাহ (আরবি ভাষার অলঙ্কার শাস্ত্র), ইলমুল উসুল (মূলনীতি সংক্রান্ত জ্ঞান), ইলমুল ফিকহ (ইসলামি আইন শাস্ত্র ইত্যাদি]

মানুষের কল্যাণের স্বার্থে অন্যান্য দরকারি জ্ঞান-বিজ্ঞান শেখায় কোনও সমস্যা নেই যেমন: ডাক্তারি , প্রকৌশল, ভূতত্ত্ব, স্থাপত্য এবং অন্যান্য বিষয় যেগুলো মানুষের প্রয়োজন। এগুলোতে কোনও অসুবিধা নেই। বরং সৎ নিয়তে (এসব বিষয়ে জ্ঞানার্জন করাতেও) সওয়াব রয়েছে। কারণ ডাক্তার, প্রকৌশলী, হিসাবরক্ষক, স্থপতি, ঠিকাদার ইত্যাদি প্রয়োজনীয় পেশার লোকজনের দরকার আছে। ভূতাত্ত্বিকদের দরকার আছে যারা দেশের প্রয়োজন এবং ভূ-সম্পদ সম্পর্কে জ্ঞান রাখে।
এই সমস্ত জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রয়োজন কিন্তু (কুরআন ও হাদিসে যে ইলমের কথা বলা হয়েছে তা দ্বারা) সেগুলি মোটেও উদ্দেশ্য নয়৷ এসব জ্ঞান আল্লাহ তাআলার এ বাণীর অন্তর্ভুক্ত নয়: وَأُولُو الْعِلْمِ “যারা ইলম (জ্ঞান)-এর অধিকারী” [আল-ইমরান: 18] বা এ জাতীয় আয়াত।

তিনি আরও বলেন,

وأما مَن تعلَّمها للدنيا فهي مباحة، ما يتعلق بها أجرٌ، فإذا كان مع الإباحة نوى الخير: نوى أن ينفع الناس، نوى أن يُعين ولاة الأمور على الخير، نوى أن ينفع المجتمع؛ فله نيته الطيبة، وله أجره بهذه النية الطيبة

“যে ব্যক্তি দুনিয়ার জন্য এসব জ্ঞান শেখে তার জন্য তা জায়েজ। এর সাথে সওয়াবের সম্পৃক্ততা নেই। তবে বৈধতার পাশাপাশি যদি সৎ নিয়ত থাকে, মানুষের উপকার করার নিয়ত থাকে, ভালো কাজে সরকারকে সহায়তা করার নিয়ত থাকে, সমাজকে উপকৃত করার নিয়ত থাকে তাহলে এই সৎ নিয়তের কারণে সে সওয়াবের অধিকারী হবে।” [binbaz] আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

Share On Social Media