কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

কাদের জন্য কুরবানীর পরের আইয়ামে তাশরীকের তিন দিন রোযা রাখা জায়েয

সাধারণভাবে ঈদুল আযহা এবং ‌এর পরের তিন দিন (আইয়ামে তাশরিকে) রোযা রাখা হারাম। কিন্তু বিশেষ তিন শ্রেণীর মানুষের জন্য জায়েয। আসুন জেনে নি, তারা কারা?

প্রশ্ন: কাদের জন্য কুরবানীর পরের আইয়ামে তাশরীকের তিন দিন রোযা রাখা জায়েয?

উত্তর:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদুল আযহার দিন ও তার পরে আইয়ামে তাশরীকের তিন দিন (জিলহজ্ব মাসের ১০, ১১, ১২ ও ১৩ তারিখ- মোট চার দিন) সব ধরণের রোযা রাখা নিষেধ করেছেন। চাই তা কাযা হোক, মানত হোক অথবা নফল হোক। তবে তিন শ্রেণীর মানুষের জন্য আইয়ামে তাশরীকের তিন দিনও রোযা রাখা জায়েয। এর সবগুলোই হজ্জের সাথে সম্পৃক্ত। নিম্নে এ ব্যাপারে আলোচনা করা হল:

❐ ১) তামাত্তু অথবা কিরান হজ্জকারী ব্যক্তি যদি হাদী (কুরবানী) দিতে না পারে তাহলে সে দশটি রোযা থাকবে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
فَمَن تَمَتَّعَ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ ۚ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعْتُمْ ۗ تِلْكَ عَشَرَةٌ كَامِلَةٌ ۗ ذَٰلِكَ لِمَن لَّمْ يَكُنْ أَهْلُهُ حَاضِرِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ۚ
“আর যে ব্যক্তি হজ্জ ও ওমরা একত্রে একই সাথে পালন করতে চাও, তবে যাকিছু সহজলভ্য, তা দিয়ে কুরবানী করাই তার উপর কর্তব্য। বস্তুতঃ যারা কোরবানীর পশু পাবে না, তারা হজ্জ্বের দিনগুলোর মধ্যে রোজা রাখবে তিনটি আর সাতটি রোযা রাখবে ফিরে যাবার পর। এভাবে দশটি রোযা পূর্ণ হয়ে যাবে। এ নির্দেশটি তাদের জন্য, যাদের পরিবার পরিজন মসজিদুল হারামের আশে-পাশে বসবাস করে না।” (সূরা বাকারা: ১৯৬ নং আয়াত)

উল্লেখ্য যে, মক্কার তিনটি রোযা হয় ইহরাম এর পর থেকে শুরু করে আরাফা দিবসের (কারও মতে ইয়ামুন নহর বা কুরবানীর দিনের) পূর্বেই শেষ করবে অথবা আইয়ামে তাশরীকের তিন দিন রাখবে।

❐ ২) কেউ যদি ইহারামের নিষিদ্ধ কাজগুলোর মধ্যে কোন একটি করে তাহলে তাকে ফিদিয়া দিতে হবে।

আর ফিদিয়া হল:

❖ একটি দম তথা একটি ছাগল/দুম্বা জবাই করে হারামের সীমানার মধ্যে গরিব লোকদের মাঝে বিতরণ করে দিতে হবে। সেখান থেকে কিছুই নিজে খাওয়া যাবে না। কিন্তু কেউ যদি আর্থিক অসচ্ছলতা বা কোন কারণে দম দিতে না পারে তাহলে
❖ তিনটি রোযা থাকবে (এ তিনটি রোযা আইয়ামে তাশরীকের তিন দিনও রাখা জায়েয)
❖ অথবা ছয়জন গরিব-অসহায় মানুষকে খাদ্য দান করবে। প্রতিজনকে আধা সা তথা প্রায় সোয়া কিলো পরিমান খাদ্যদ্রব্য।
এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন:
فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِّن رَّأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِّن صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ
“যারা তোমাদের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়বে কিংবা মাথায় যদি কোন কষ্ট থাকে, তাহলে তার পরিবর্তে রোজা করবে কিংবা সদকা করবে অথবা কুরবানী করবে।” (সূরা বাকারা: ১৯৬)

এ ব্যাপার হাদীস:
عن كعب بن عجرة، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم مر به زمن الحديبية فقال: «قد آذاك هوام رأسك» قال: نعم. فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «احلق، ثم اذبح شاة نسكا، أو صم ثلاثة أيام، أو أطعم ثلاثة آصع من تمر على ستة مساكين» رواه البخاري، ومسلم

কাব ইবনু উজরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ায় তার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, পোকাগুলো কি তোমার মাথায় উপদ্রব করছে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, মাথা মুড়িয়ে ফেল। অতঃপর একটি বকরী কুরবানী কর অথবা তিন দিন সাওম পালন কর অথবা ছয়জন মিসকিনকে তিন সা খেজুর খেতে দাও।” (সহীহ বুখারী এবং সহীহ মুসলিম- সহীহ মুসলিম এর হাদিস নম্বর 2753-(ইফাঃ) ]

❐ ৩) কোন ব্যক্তি যদি হজ্জের কোন ওয়াজিব পরিত্যাগ করে তাহলে তাকে একটি দম দিতে হবে।
তবে দম দিতে না পারলে দশটি রোযা থাকবে। তিনটি মক্কায় আর সাতটি বাড়ি ফিরে আসার পর [অর্থাৎ তামাত্তু বা কিরান হজ্জকারী যদি হাদী (কুরবানী) দিতে না পারে তাহলে রোযা রাখার ক্ষেত্রে তার জন্যও একই হুকুম।]
এটি জুমহুর এর অভিমত। শাইখ আব্দুল্লাহ বিন বায ও অনুরূপ ফতোয়া দিয়েছেন।
তবে কোন কোন আলেম বলেন, ওয়াজিব তরক কারী দম দিতে না পারলে তার জন্য রোযা রাখা বা অন্য কিছু করণীয় নাই আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাওয়া ছাড়া। কেননা, এ মর্মে দলিল পাওয়া যায় না। যেমনটি বলেছেন আল্লামা উসাইমীন রাহ.।
আল্লাহু আলাম।
————————-
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।।

Share This Post