কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

এড প্রদর্শনীর মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের বিধান

প্রশ্ন: এড প্রদর্শনীর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা কি বৈধ?
উত্তর:
সাধারণভাবে অর্থের বিনিময়ে যেকোনো হালাল পণ্যের অ্যাডভারটাইজ করা শরিয়ত সম্মত। কারণ তা ব্যবসার মত হালাল কাজে সহযোগিতা এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত। তবে তাতে অবশ্যই এমন কিছু থাকা যাবে না যা ইসলাম অনুমোদন করে না। অর্থাৎ ইসলামের বিধি মোতাবেক কতিপয় শর্ত সাপেক্ষে তা বৈধ।

নিম্নে অ্যাডভারটাইজ এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন বৈধ হওয়া জন্য ১০টি শর্ত তুলে ধরা হল। যথা:
◈ ১. শরিয়তের দৃষ্টিতে পণ্যটি হালাল হওয়া। (সুতরাং মদ, বিড়ি-সিগারেট ইত্যাদি এড প্রদর্শন করা বৈধ নয়)
◈ ২. মানুষের ব্যবহারের উদ্দেশ্যে উৎপাদিত পণ্যে এমন কোন উপাদান না থাকা যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক।
◈ ৩. পণ্যটি দেশের প্রচলিত আইনে নিষিদ্ধ না হওয়া।
◈ ৪. পণ্যটি নকল, ভেজালযুক্ত বা কপিরাইট বিরোধী না হওয়া।
◈ ৫. অ্যাডভারটাইজ এর মধ্যে সত্যবাদিতা বজায় রাখা এবং অবাস্তব ও অসত্য তথ্য না দেয়া।
◈ ৬. মিথ্যা প্রলোভনের মাধ্যমে মানুষকে প্ররোচিত না করা।
◈ ৭. অন্য কোন কোম্পানির পণ্যের বদনাম না করা।
◈ ৬. অ্যাডভারটাইজ এর মধ্যে মিউজিক, অশ্লীলতা ও বেপর্দা নারীর উপস্থিতি না থাকা।
◈ ৭. এতে ইসলামি চরিত্র বিধ্বংসী ও আকিদা-বিশ্বাস পরিপন্থী কোন কিছু না থাকা।
◈ ৮. এড দাতার সাথে কৃত চুক্তি অনুযায়ী এড প্রদর্শন করা। এ ক্ষেত্রে চুক্তির লঙ্ঘন না করা।
◈ ৯. এড প্রদর্শনীর পেছনে সীমাতিরিক্ত অর্থ খরচ না করা।
◈ ১০. অন্যের জায়গায় মালিকের অনুমতি ছাড়া বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড ইত্যাদি ব্যবহার না করা।
এ সকল শর্তাবলী ঠিক থাকলে এড দেয়া ও তা প্রচারের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা উভয়টি হালাল। কিন্তু প্রশ্ন হল, টিভি চ্যানেল, ইউটিউব চ্যানেল, ওয়েব সাইট, বিলবোর্ড ইত্যাদিতে কি আদৌ এসব শর্তাবলী মানা হয়? যদি তা মানা না হয় তাহলে এড প্রদর্শনীর জন্য দেয়া এবং সেগুলো প্রদর্শন করে অর্থ উপার্জন করা উভয়টি হারাম।
▬▬▬◆◯◆▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড সেন্টার, সৌদি আরব।

Share This Post