কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

উমরার মর্যাদা এবং উমরা সফরের পূর্বে প্রস্তুতি মূলক দশটি নির্দেশনা

প্রশ্ন: উমরার গুরুত্ব কতটুকু? আমি উমরা আদায় করতে চাই। কিন্তু আমি জানি না, এখন থেকে কি ভাবে কি আমল করবো বা কিভাবে নিজেকে প্রস্তুত করবো। তাই দয়া করে এ সম্পর্কে জানালে উপকৃত হব ইনশাআল্লাহ।

উত্তর:
দুআ করি, আল্লাহ তাআলা যেন, আপনার উমরা আদায়ের বিষয়টিকে সহজ করে দেন এবং তা কবুল করেন। আমীন।

🔶 উমরার গুরুত্ব ও ফযিলত:

➤ সামর্থবান ব্যক্তির জন্য হজ্জ ও উমরা আদায় করা ফরয:
ইবনে ‘উমর রা. বলেন,
وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ لَيْسَ أَحَدٌ إِلاَّ وَعَلَيْهِ حَجَّةٌ وَعُمْرَةٌ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ إِنَّهَا لَقَرِينَتُهَا فِي كِتَابِ اللهِ {وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ للهِ}
প্রত্যেক (সামর্থবান ব্যক্তি)র জন্য হজ ও ‘উমরাহ অবশ্য পালনীয়। ইবনে ‘আব্বাস রা. বলেন, কুরআনুল কারিমে হজের সাথেই উমরার উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহর বাণী: ‘‘তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে হজ ও ‘উমরাহ পূর্ণভাবে আদায় কর’’। (সূরা বাকারা: ১৯৬) [সহীহ বুখারী, অধ্যায়ঃ ২৬/ উমরাহ, পরিচ্ছদঃ ২৬/১. ‘উমরাহ (আদায়) আবশ্যক হওয়া এবং তার ফযিলত।]

➤ উমরা অত্যন্ত ফযিলত পূর্ণ একটি ইবাদত এবং গুনাহ মোচনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম:

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: আবু হুরায় রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا
“এক উমরা আরেক উমরা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহর কাফফারা (গুনাহ মোচনের মাধ্যম) হয়ে যায়।” (সহীহ বুখারী, হাদিস : ১৭৭৩; সহীহ মুসলিম, হাদিস : ১৩৪৯)
➤ আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«مَنْ أَتَى هَذَا الْبَيْتَ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ كَمَا وَلَدَتْهُ أُمُّهُ».
‘যে ব্যক্তি এই ঘরে এলো, অতঃপর যৌন-স্পর্শ রয়েছে এমন কাজ ও কথা থেকে বিরত থাকল এবং শরীয়ত বহির্ভূত কাজ/পাপাচার থেকে বিরত থাকল, সে মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়ার দিনের মত (নিষ্পাপ) হয়ে ফিরে গেল।’
ইবনে হাজার আসকালানী রহ. এর মতানুসারে এখানে হজ কারী ও উমরা কারী উভয় ব্যক্তিকেই বুঝানো হয়েছে। [ফাতহুল বারী : ৩/৩৮২।]
➤ ইবনে ‘আববাস রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
إِنَّ عُمْرَةً فِي رَمَضَانَ حَجَّةٌ
“রমযানের একটি ‘উমরাহ একটি হাজ্জের সমতুল্য।” [সহীহ বুখারী, হাদিস নম্বরঃ [1782] অধ্যায়ঃ ২৬/ উমরাহ এবং সহীহ মুসলিম]

➤ আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবনে চার বার উমরা আদায় করেছেন এবং তিনি হজ-উমরার কাজগুলো তার নিকট থেকে শিখে নেয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন।
তাই এই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতটি বিশুদ্ধভাবে আদায়ের চেষ্টা করা একান্ত অপরিহার্য।

🔶 নিম্নে উমরা আদায়ের প্রস্তুতি হিসেবে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা ও করণীয় উপস্থাপন করা হল:

✪ ১) একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে উমরা আদায় করা নিয়ত করা। কারণ সকল আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল। সুতরাং কেউ যদি মানুষকে দেখানো বা মানুষের প্রশংসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে উমরা আদায় করে তাহলে তার উমরা আল্লাহর নিকট গৃহীত হবে না।
✪ ২) হালাল অর্থ দ্বারা উমরা করা এবং আয়-ইনকাম ও অর্থ-সম্পদকে হারামের স্পর্শ মুক্ত করা। কারণ আল্লাহ পবিত্র। তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করেন না।
✪ ৩) অতীত জীবনের ভুল-ত্রুটি ও গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে তওবা-ইস্তিগফার করা।
✪ ৪) উমরার বিধি-বিধান সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা। যে কোনো ইবাদতের পূর্বে সে সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা আবশ্যক। কেননা তা যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির পাশাপাশি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পদ্ধতি অনুযায়ী সম্পন্ন না হয় তাহলে তা আল্লাহর নিকট গৃহীত হবে না।
✪ ৫) কোনো মানুষের সাথে মনোমালিন্য হয়ে থাকলে উমরা সফরে যাওয়ার পূর্বে তার নিকট ক্ষমা চেয়ে নেয়া বা সমস্যা সমাধান পূর্বক সম্পর্ক পুন:প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা।
✪ ৬) কারো হক/অধিকার হরণ করে থাকলে উমরা সফরের পূর্বে প্রাপককে তার হক ফিরিয়ে দেয়া বা তার সাথে সমঝোতা করা।
✪ ৭) মানুষের সাথে আর্থিক লেনদেন থাকলে তা পরিষ্কার করা। ঋণ থাকলে পরিশোধ করা অথবা কাগজে লিখে তারপর সাক্ষ্য রাখা। তৎসঙ্গে ঋণদাতার কাছে অনুমতি নেয়া।
✪ ৮) সালাত আদায়ে যত্নবান হওয়া। কারণ সালাত ঠিক না থাকলে শতবার উমরা করেও কোনো লাভ নেই।
✪ ৯) শিরক ও বিদআতের সাথে পরিপূর্ণভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করা।
✪ ১০) আল্লাহ তাআলা যেন সুস্থতা ও নিরাপত্তার সাথে উমরার যাবতীয় কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করার তৌফিক দান করেন সে জন্য তার দরবারে খালিস ভাবে দুআ করা।
আল্লাহুম্মা আমীন।

উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলিল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। KSA

Share This Post