কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

আল্লাহর হুকুমেই কি সব কিছু হয়?

প্রশ্ন: আল্লাহর হুকুমেই কি সব কিছু হয়? আল্লাহর হুকুম ছাড়া কি বিয়েও হয় না?
●●●●●✪✪✪●●●●●
উত্তর:
আল্লাহর সৃষ্টি জগতে তার লিখিত তকদীর এর বাইরে কোন কিছুই ঘটে না। যা তিনি তার বিশাল ভবিষ্যৎ জ্ঞানের আলোকে সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার পূর্বেই লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন।
 যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ
“আমি প্রত্যেক বস্তুকে সু পরিমিতভাবে সৃষ্টি করেছি।” (সূরা কামার: ৫০)
 আবদুল্লাহ ইবনে ‘আমর রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«كَتَبَ اللّهُ مَقَادِيرَ الْخَلَائِقِ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِخَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ»
“আল্লাহ তা‘আলা আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে মখলুকের তকদীর লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন।” (সহীহ মুসলিম, অধ্যায়ঃ পর্ব-১ঃ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)পরিচ্ছদ: ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ – তকদীরের প্রতি ঈমান)

 তিনি আরও বলেন,
“إنَّ أوَّل ما خلق الله القلم، فقال له اكتب، قال: وما أكتُبُ يا رب؟ قال: اكْتُبْ مقاديرَ كُلِّ شيءٍ حتَّى تقومَ السَّاعة”
“আল্লাহ তা’আলা সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করলেন তা হচ্ছে ‘কলম’। এরপরই তিনি কলমকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘লিখ’। কিয়ামত পর্যন্ত যা সংঘটিত হবে, সে মুহূর্ত থেকে কলম তা লিখতে শুরু করে দিল।” (মুসনাদে আহমাদ, ৫/৩১৮, আবু দাউদ, তিরমিযী)

🔸 এই এই তাকদীরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা ঈমানের ছয়টি খুঁটির মধ্যে অন্যতম। এর প্রতি বিশ্বাস রাখা ছাড়া মুমিন হওয়া যাবে না।
ইবনে দাইলামী থেকে বর্ণিত আছে , কাতাদাহ রহ. বলেন, ‘আমি ইবনে কা’ব এর কাছে গেলাম। তারপর তাকে বললাম, ‘তকদীরের ব্যাপারে আমার মনে কিছু কথা আছে। আপনি আমাকে তকদীর সম্পর্কে কিছু উপদেশমূলক কথা বলুন। এর ফলে হয়ত আল্লাহ তা’আলা আমার অন্তর থেকে উক্ত জমাট বাঁধা কাদা [কথা] দূর করে দেবেন।
তখন তিনি বললেন, ‘তুমি যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও আল্লাহর রাস্তায় দান কর, আল্লাহ তোমার এ দান ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করবেন না, যতক্ষণ না তুমি তকদীরকে বিশ্বাস করবে।
আর এ কথা জেনে রাখ, তোমার জীবনে যা ঘটেছে তা ঘটতে কখনো ব্যতিক্রম হত না। আর তোমার জীবনে যা ঘটার ছিল না, তা কখনো ঘটত না। তকদীর সম্পর্কিত এ বিশ্বাস পোষণ না করে মৃত্যুবরণ করলে, তুমি অবশ্যই জাহান্নামী হবে।’
তখন তিনি বললেন, অতঃপর আমি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান এবং যায়েদ বিন সাবিত (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এর নিকট গেলাম। তাঁদের প্রত্যেকেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এ জাতীয় হাদিস এর কথাই উল্লেখ করলেন। (সুনান আবী দাউদ, হাদিস নং ৪৬৯৯; মুসনাদে আহমাদ, ৫/১৮৫,১৮৯)

সুতরাং বিয়ে-শাদী, জন্ম, মৃত্যু সব কিছুই আল্লাহ ইচ্ছা ও পূর্ব লিখিত ফয়সালার ভিত্তিতে সংঘটিত হয়। তাঁর লিখন ছাড়া কোনও কিছুই ঘটা সম্ভব নয়।
তবে তার অর্থ এই নয় যে, তকদীর বা অদৃষ্ট লিখনে বিশ্বাস পোষণ করে হাত গুটিয়ে বসে থাকবো। বরং আমাদের কর্তব্য হল, জীবনের যে কোন কিছু অর্জনের জন্য চেষ্টা করতে হবে, দুআ করতে হবে, উপায়-উপকরণ গ্রহণ করতে হবে। কেননা, আল্লাহ তাআলার সাধারণ নিয়ম হল, এ জগৎ-সংসারে তিনি মানুষকে কোন কিছু দেন না যদি না তা অর্জনের জন্য চেষ্টা, সাধনা ও পরিশ্রম করা হয়। এটাই তার সাধারণ রীতি। (যদিও এই চেষ্টা-পরিশ্রম করার বিষয়টিও আল্লাহ তাআলা পূর্বেই আমাদের তকদীরে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন)।আল্লাহু আলাম।
●●●●●✪✪✪●●●●●

উত্তর প্রদানে: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
(লিসান্স, মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সউদী আরব)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।

Share This Post